banglanewspaper

বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় দখলমুক্ত করতে দ্বিতীয় দিনেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দ্বিতীয় দিনের অভিযানে ভেঙে ফেলা হয়েছে সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বহুতল ভবন।

মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) এই অভিযান চলবে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম দিনে ভাঙা হয়েছে বেশ কিছু বহুতল ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কামরাঙ্গীরচরের খোলামুড়া ঘাটের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা বসতবাড়ি ও দোকানপাট ভেঙে দেয়া হয় সেদিন। 

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ভাঙা হয় আশপাশের অবৈধ স্থাপনাগুলো। উচ্ছেদ করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ও নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মাত্র একদিনের নোটিশে তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। উচ্ছেদের সময় মালামাল সরিয়ে নেয়ার সুযোগও দেয়া হচ্ছে না।

দুই বছর আগে সদরঘাট-গাবতলী রুটে বিআইডাব্লিউটিএ অবৈধ স্থাপনার যে তালিকা তৈরি করে তাতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ভবনের সংখ্যা ছিল ১৩টি। দুই বছর পরে এসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪টিতে। যারা সবকটি বহুতল ভবন। আর সেগুলোসহ আশপাশের অবৈধ স্থাপনা ভেঙে তা উদ্ধারের জন্য মাঠে নেমেছে বিআইডাব্লিউটিএ। 

এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তা শফিকুল হক। তিনি বলেন, ‘মোট ১০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আমরা অভিযান শুরু করেছি। আজ (বুধবার) মাত্র দ্বিতীয় দিন। এরমধ্যে আমরা ২০টির  মতো স্থাপনা উচ্ছেদ করেছি। অভিযান নিয়মিত চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেবল উচ্ছেদ নয় নজর দেয়া হচ্ছে নদীদূষণের দিকেও। অনেকেই নদীর পাড়ে বর্জ্য ফেলছেন। ইতোমধ্যে আমাদের সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত যুক্ত হয়েছে। তারা অনেককে জরিমানা করছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মালিক আমরা খুঁজে পাচ্ছি না। পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। ফৌজদারি মামলা দায়েরের পরিকল্পনা আছে।’

উচ্ছেদ হওয়া ভবন মালিকদের অভিযোগ, ভবন তাদের নিজস্ব জমিতে, সরকারি জায়গাতে নয়। এ ব্যাপারে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও তারা জানায়। 

উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকার পরেও উচ্ছেদ অভিযান কেন পরিচালনা করা হচ্ছে জানতে চাইলে অভিযানটির পরিচালক বলেন, ‘সরকার তাদের সত্যিকারের স্থগিতাদেশ দিলে সরকার অভিযান পরিচালনা করাতো না। আমরা কোর্টের কাগজপত্র পরীক্ষা করেই এই অভিযান পরিচালনা করতে এসেছি। সুতরাং এগুলো ভিত্তিহীন কথাবার্তা।’

ট্যাগ: bdnewshour24 বুড়িগঙ্গা