banglanewspaper

হাবিবুল ইসলাম। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে মানিকগঞ্জে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে কাজ করছেন। পদ রোলার চালক। এখনো তিনি দৈনিক মজুরিভিত্তিক (মাস্টার রোল) কর্মচারী হয়েই আছেন। চাকরি স্থায়ী হয়নি।

তিনি একা নন, তার মতো কয়েক হাজার কর্মচারী ও প্রকল্প কর্মকর্তা আছেন এলজিইডিতে। যাদের বেশির ভাগেরই চাকরির বয়স একযুগ পার হয়েছে। কিন্তু এখনো স্থায়ী হতে পারেননি। আছেন দৈনিক মজুরি ভিত্তিতেই।

তারা এবার দাবি আদায়ে কাজ রেখে নেমেছেন আন্দোলনে। টানা চার দিন ধরে তারা আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবারও সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যাপর্যন্ত এলজিইডি ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন কর্মচারীরা। দাবি আদায় হওয়ার আগপর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।    

হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘১৮ বছর চাকরির পরও যদি স্থায়ী হতে না পারি, তাহলে আর কবে হবো? আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ কী? তাদের জন্য তো কিছুই করতে পারি নাই। আমাদের চাকরি স্থায়ী করার ব্যাপারে আদালতের রায় আছে। কিন্তু প্রধান প্রকৌশলী ঘোরাচ্ছেন। আমরা দাবি আদায়ে মাঠে নেমেছি। চাকরি স্থায়ী না হলে ঘরে ফিরবো না।’

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, যুগের পর যুগ দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে চাকরি করছেন তারা। অথচ কর্তৃপক্ষ তাদের চাকরি স্থায়ী করার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে রায় আছে। অথচ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রায় বাস্তবায়নে গড়িমশি করছেন।

এলজিইডি কর্মচারী ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘২০১০ ও ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট এলজিইডির মাস্টার রোল ও উন্নয়ন প্রকল্পের সাত হাজার ৫২৬ জনের স্থায়ী নিয়োগ দিতে রায় দেয়। রায়ের পর তিনহাজার ৮২৩ জনকে স্থায়ী করা হয়। পদশূন্য না থাকায় বাকিদের পরে স্থায়ী করা হবে বলে তখন ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি পাঁচ হাজারের বেশি পদশূন্য থাকলেও মাস্টার রোল ও উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না।’

‘বিষয়টি নিয়ে আমরা একাধিকবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের কাছে গিয়েছি। তিনি আশ্বস্ত করেছেন। অথচ এখন জানতে পেরেছি আমাদের বাদ দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এই প্রতিবাদে আমরা চারদিন ধরে আন্দোলন করছি।’  

ফরিদপুরে এলজিইডির আঞ্চলিক কার্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটর পদে কুড়ি বছর ধরে কাজ করছেন একজন কর্মচারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মী জানান, ‘চাকরি জীবন ২০ বছর পার হয়েছে। শূন্য পদ আছে, অথচ আমাকে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। এখনো মাস্টার রোলে কাজ করি। এখানে যারা আন্দোলন করতে এসেছেন, কারো চাকরির বয়সই ১০ বছরের কম নয়। আমরা যদি এখনো স্থায়ী হতে না পারি, তবে কবে হবো?’  

এলজিইডি কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সহ-সভাপতি ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকায় এসেছেন আন্দোলনে সঙ্গে একাত্মতা জানাতে। আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে। আমরা যখন সমবেত হই, তখনই টালবাহানা করে নিয়োগ পিছিয়ে দেওয়া হয়।’

এই শ্রমিক নেতা বলেন, ‘স্থায়ী নিয়োগ না হওয়ায় আমাদের সাতজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দুশ্চিন্তায় স্ট্রোক করে মারা গেছে। এবার চারদিনের আন্দোলনে পাঁচজনের বেশি শ্রমিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছেন। আমাদের যদি এখানে মৃত্যু হয় হবে, কিন্তু দাবি আদায় না করে আর আমরা ফিরে যাব না।’

ট্যাগ: bdnewshour24 চাকরি স্থায়ী