banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: লুকিয়ে লুকিয়ে কবিতা লেখা হতো। বাবা দেখলে রাগ করবেন। শুকদেব বালা স্যার বাবার কাছে নালিশ করেছিলেন- ছেলে পড়াশুনা না করে কি যেনো ভাবে! একবার ধরা খেয়েছিলো বাবার কাছে। শাস্তসরূপ- কবিতাগুলো আটকে রাখেন। চাচা, আশিকুর রহমান বলেছিলেন- মাথা আর কলম তো আটকে রাখতে পারবেন না। আল্লাহ প্রদত্ত বিষয়। লিখতে দিন।

ধানমন্ডি গভঃ বয়েজ হাই স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় লেখালেখির শুরু হয় কবিতার মধ্য দিয়ে।লেখা ছাপানো হতো বিদ্যালয় বার্ষিকে, দেয়ালিকায়, পত্রপত্রিকায়। অষ্টম শ্রেণিতে লিখে ফেলে কাব্যধর্মী উপন্যাস- রূপময় উপমা। সনেট, অমিত্রাক্ষর সম্পর্কে জানার চেষ্টা তার লেখার আগ্রহকে বাড়িয়ে দেয় দ্বিগুণ। চাচা, ডাক্তার আরিফুর রহমান ছিলেন তার সকল কবিতার প্রথম পাঠক। তারা বেশ অনুপ্রেরণা দিতেন।

এবারের বইমেলার নতুন লেখক ইব্রাহীম তারেক। কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার অনন্তপুর গ্রামে জন্ম। দাদার বাড়ি পাশের গ্রাম রাজা চাপিতলায়। রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ ইনস্টিটউট অব ম্যানেজমেন্টে তার বেড়ে উঠা। পরিসংখ্যানের ছাত্র তিনি। বর্তমানে ঢাকা কলেজে অধ্যয়ন করছেন। একজন নাট্যকর্মী। থিয়েটার '৫২- তার নাট্যদল। এ দলের মঞ্চ নাটক, ঋত্বিক, নননপুর মেলায় একজন কমলা সুন্দরী ও একটি বাঘ আসে। পথ নাটক: অহংকারী পৃথিবী ও চিপকো।

পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সংগঠন 'মানচিত্র'র আবৃত্তিশিল্পী তিনি। বেহুলা বাংলা প্রকাশনী থেকে বের হচ্ছে তার ছোটগল্প-শেষপৃষ্ঠা। কিশোর, বিবাহিত ও বার্ধক্য জীবনকে কেন্দ্র করে লেখা গল্পগুলোতে একটি রসবোধ ও ভালোবাসার মিশ্রণ রয়েছে। ছোটগল্পের বৈশিষ্ট্যকে বজায় রেখে পাঠককে ভাবতে হবে শেষ কোথায়।

গল্পগুলো হলো শেষ পৃষ্ঠা, ঘর জামাই, ওর জন্মদিন, দুর্ভাগ্যের নয় এবং ভীতুর ডিম। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মনজুরুল করিম সুজয়। উৎসর্গ করা হয়েছে মানচিত্র সভাপতি শরীফ হোসেন হৃদয়কে।

বইটি খুলতেই চোখে পড়বে লেখকের লেখা, আমার এ বাকশূ্ন্য পথে কে বা নিঃসঙ্গ তার সাথে শূন্যতা আমি খুঁজি, আমার এ পথ শেষ হয়ে এলো পথ শেষ হয়ে এলো বুঝি।

ট্যাগ: bdnewshour24 বইমেলা