banglanewspaper

বাংলাদেশে নষ্ট মোবাইল ফোন ফেলে না দিয়ে বরং সেটি নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিলে তার বিনিময়ে টাকা পাওয়া যাবে। দেশে ইলেক্ট্রিক বর্জ্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় তা রোধ করতে এ উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব জানিয়েছেন, নষ্ট মোবাইল ফোন ফেরত দিলে যাতে ফোনের মালিক কিছু টাকা পায় - সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য মতে, একটি মোবাইল ফোন সেট গড়ে তিন বছরের বেশি ব্যবহার করা যায় না। ফলে তিন বছর পরে এটি ইলেকট্রনিক বর্জ্যে পরিণত হয়। 

নষ্ট মোবাইল ফোন ফেরত দিলে তাকে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য দেশের ১০০টি শপিং মলে বুথ বসাবে মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেখানে নষ্ট মোবাইল ফোন ফেরত দিয়ে টাকা পাওয়া যাবে।

খুব শীঘ্রই এ ব্যবস্থা চালু হতে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মাহবুব বলেন, প্রথম দফায় ঢাকার পাঁচ থেকে ১০টি শপিং মলে এ উদ্যোগ কার্যকর করা হবে। এরপর পুরো বাংলাদেশে সেটি চালু হবে।

মোবাইল ফোন আমদানিকারকদের সংগঠন বলছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় চার কোটি মোবাইল হ্যান্ড সেট নষ্ট হয়। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় তিন কোটি হ্যান্ড সেট আমদানি করা হচ্ছে।

ফলে এখান থেকে যে ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে সেটি পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তবে কোন মোবাইলের জন্য কত টাকা দেয়া হবে তা নির্ধারিত হবে মোবাইল ফোনের অবস্থার উপর ভিত্তি করে।

বাংলাদেশে প্রতি বছর বেশ দ্রুততার সাথে ইলেকট্রনিক বর্জ্য বাড়ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের এক হিসেবে বলা হচ্ছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে চার লাখ টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এটি ১২ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে।

মোবাইল ফোন ইমপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুহুল আলম আল মাহবুব বলছেন, ইলেকট্রনিক বর্জ্যের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অবনতির দিকে যাচ্ছে। এ দূষণ ঠেকানোর জন্যই নষ্ট মোবাইল ফোন সেট সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন তারা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

ট্যাগ: bdnewshour24 নষ্ট মোবাইল