banglanewspaper

বিশ্বের এক প্রান্তে তীব্র শীত চললেও আরেক প্রান্তে চলছে প্রচণ্ড তাপদাহ। প্রচণ্ড ঠান্ডায় বিপর্যস্ত আমেরিকা। অন্যদিকে, তাপদাহে পুড়ছে গোটা অস্ট্রেলিয়া। তীব্র তাপদাহে অস্ট্রেলিয়ায় পশুপাখি ও হাজার হাজার মাছ মারা যাচ্ছে। 

এছাড়া দেশটির জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। কৃষিকাজে ফসল উৎপাদনে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে কৃষকেরা। এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে সবচে বেশি তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই মাসে গড় তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে অতিক্রম করে। ২০১৩ সালের পর এটাই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অব মেট্রোলজি এক প্রতিবেদনে বলেছে, গ্রীষ্মকালীন তাপদাহের মধ্যে এবার তাপমাত্রা ছিল ভয়াবহ নজিরবিহীন। জানুয়ারি মাসে দেশটির অন্তত ১০ জায়গায় সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এ সব জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত ছিল।

এ দিকে তীব্র তাপদাহের ফলে দেশটির বনভূমিতে আগুন লেগে বন্যপ্রাণী মারা যাচ্ছে। এ ছাড়া হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যাও বাড়ছে। ইতোমধ্যে আগুনে পুড়ে ৯০টি ঘোড়ার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তাপদাহের ফলে নিউ সাউথ ওয়েলস রাজ্যে খরায় লাখ লাখ মাছ মারা গেছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির নতুন এ রেকর্ড ২০১৩ সালের রেকর্ডকে অতিক্রম করেছে। সে সময় পর্যন্ত ওটাই ছিল সবচে বেশি তাপমাত্রা। অস্ট্রেলিয়ায় দিনে দিনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছর সিডনিতে ৪৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা হয়েছিল।

১৯৩৯ সালের পর এটাই সবচে বেশি তাপদাহের দিন ছিল। ১৯৩৯ সালে সে সময় সিডনির তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশটির আবহাওয়াবিদ ড. এন্ড্রিউ ওয়াটকিনস বলেন, জানুয়ারির প্রায় পুরো মাস তীব্র তাপদাহ জনজীবনে প্রভাব ফেলেছে।

এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে স্থলভাগ এবং সাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়ে আগেই সতর্ক করেছে দেশটির বিশেষজ্ঞরা। ২০১৮ সালকে তৃতীয় এবং ২০১৭ সালাকে চতুর্থ তাপদাহের বর্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তারা।

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রচণ্ড তাপদাহ পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া