banglanewspaper

প্রখ্যাত জ্যামাইকান শিল্পী বব মার্লের জন্মদিন আজ। ১৯৪৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জামাইকান এ রেইজ শিল্পী সেইন্ট এ্যানের নাইন মাইলের একটি বস্তিতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। অবহেলিত মানুষের অধিকার, বর্ণবাদী প্রথার বিরোধীতা, জনগণের নানান ক্ষোভ ও প্রত্যাশা ইত্যাদি স্থান পেত তার গানে। তিনি একাধারে শিল্পী, গীটার বাদক, সুরকার ও গীতিকার। জীবনঘনিষ্ঠ গান গেয়ে বিশ্বজুড়ে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

মার্লে তার জ্যামাইকান নাগারিকদেরর মত কালো ছিলেন না। তার গায়ের বর্ন সাদা-কালোর মিশ্রণে গড়া। কেননা তার বাবা ছিলেন শ্বেতাঙ্গ বৃটিশ কর্মচারী। মা ছিলেন জামাইকান কৃষ্ণাঙ্গ। তাই স্কুলে তার কৃষ্ণাঙ্গ বন্ধুরা তাকে ‘সাদা বালক’ বলে ডাকতো। কিন্তু মার্লে সাদাদের দুনিয়ায় বিশেষ করে পাশ্চাত্যে ‘কালো মানুষ’ নামে খ্যাত হয়ে আছেন। কারন তিনি সর্বদা নির্যাতিত কালোদের অধিকারে গান গেয়েছেন।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ব্যান্ডদল গঠন করেছিলেন মার্লে। এরপর কখনো দলের হয়ে আবার কখনো এককভাবেই গানের অ্যালবাম বের করেছেন।

‘বাফেলো সোলজার’, ‘নো ওম্যান’, ‘নো ক্রাই’, ‘গেট আপ স্ট্যান্ড আপ’, ‘ব্ল্যাক প্রগ্রেস’-এর মতো অনেক ভুবনকাঁপানো গান তার অনবদ্য সৃষ্টি।

মার্লে ও তার ব্যান্ড ‘ওয়েলার্স’ ১৯৭৪ সালে ‘বার্নিন’ নামে যে অ্যালবামটি নিয়ে আসে তাতে ছিল বিখ্যাত গান ‘গেট আপ অ্যান্ড স্ট্যান্ড আপ’। ষাট ও সত্তরের দশকে দেশে দেশে উত্তাল জাতীয়তাবাদী ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনে বিদ্রোহী মানুষের বুকে সাহস জুগিয়েছে এ গান।

মার্লের সময় জ্যামাইকা সাম্প্রদায়িকতা আর অশান্তিতে পূর্ণ। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই অস্থিরতা চলছিল দেশটিতে। শ্বেতাঙ্গ-কৃষ্ণাঙ্গ বিভেদের কারণে সংঘাতও ছিল নিয়মিত ঘটনা। মার্লে নিজেও ছোটবেলা থেকেই সাদা-কালো দ্বন্দ্বে ভুগতেন।

কিন্তু সুবিন্যস্ত জটাধারী চুলের মার্লে সবসময় মানবতার পক্ষে গান গাইতেন। তাই তার অবস্থান ছিল কৃষ্ণাঙ্গদের পক্ষে। নিপীড়িত আর খেটে খাওয়া মানুষের কাছে তিনি ছিলেন ব্যপক জনপ্রিয়।

ফুসফুস ও মস্তিষ্কের ক্যান্সারের কারণে ১৯৮১ সালের ১১ মে এ স্বাধীনচেতা শিল্পীর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পরেও বিশেষ করে জ্যামাইকায় বব মার্লের জনপ্রিয়তায় এতটুকুও ভাটা পড়েনি।

ট্যাগ: bdnewshour24 বব মার্ল