banglanewspaper

খান মোঃ আসাদ উল্লাহ, ববি প্রতিনিধি: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমদিকে চালুকৃত বিভাগ সমূহের মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ৬টি ব্যাচ চলমান রয়েছে।

অত্র বিভাগের ৩য় ব্যাচের (২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের যাত্রা শুরু করে ২০১৬ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম ক্লাস করার মাধ্যমে। দেখতে দেখতেই ৩টি বছর কেটে গেলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের কিছু ছোট ছোট স্মৃতিকে ফ্রেমে আটকে রাখার জন্য নানান আয়োজনই করে থাকে ছাত্রছাত্রীরা।

গত ৫ই ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ৩য় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আয়োজন করে চড়ুইভাতি (বনভোজন)। গতবছরও চড়ুইভাতির আয়োজন করেছিলো বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন খয়রাবাদ ব্রীজের নিচে। তারই ধারাবাহিকতায় এবছরও চড়ুইভাতির অনুষ্ঠিত হয় উপাচার্যের বাসভবন সংলগ্ন খালের উত্তর পাশে।

চড়ুইভাতির আয়োজক হিসেবে বেশ পরিশ্রম করেছেন নাঈম খান, মানজুরুল হাসান ও সাজিয়া সুলতানা। শেষ পর্যন্তই এদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় চড়ুইভাতি সফল হয়।

এ তো চড়ুইভাতি নয়, যেন ছবি তোলার মহোৎসব। মূলত ভবিষ্যৎ-এ এই ছবিগুলোই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি হিসেবে শেষ সম্বল হিসেবে অবশিষ্ট থাকে। আর এজন্যই কিছু ফাঁকিবাজ (কানচোরা) শুধু ছবি তুলেই বেড়ায়, এরা চড়ুইভাতিতে কোনো কাজকর্ম করে না। 

এই ফাঁকিবাজ ও অলস কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদুল ইসলাম শাহিন এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন খালিদ হাসান। এই কমিটিতে আরও ছিলেন সুজন আলী, নিলয় দেবনাথ, রুহুল আমিন, মাসরাফি ইসলাম সৌরভ ও এমদাদ উল্লাহ। 

ছবি তোলার বেশ আগ্রহ থাকার পরেও চড়ুইভাতিতে ব্যাপক দায়িত্ব পালন করেছেন শাহাদাৎ হোসাইন। রান্নার কাজে না আসলেও চুলার পাশে এসে রাধূনি স্টাইলে ছবি তুলতে ভুল করেননি আবু বকর সিদ্দীক সোয়েব।

সবচেয়ে বেশী সংখ্যক ছবিতে অংশগ্রহণ করেছেন ইয়াসিন প্রধান। কথিত আছে, কোনো ছবিই নাকি বাদ যায়নি। ক্যামেরা দেখলেই নাকি সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। তবে তিনি একথা অস্বীকার করেছেন। তাছাড়া বান্ধবীদের সাথে ছবি তুলে অসুস্থতা কাটিয়ে উঠেছেন রিয়াদুল ইসলাম। 

উক্ত চড়ুইভাতিতে সস্ত্রীক অংশগ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ ৩য় ব্যাচেরই একজন ছাত্র। 

ব্যাপক সাজগোজ করেছিলেন পিয়ংকা রাণী গয়লা, স্বর্ণালী ইসলাম, নুসরাত জাহান সুনয়না ও আমরিন জাহান দোলন। ব্যাপক সাজগোজ করলেও সব ছাত্রীরাই বেশ দায়িত্বও পালন করেছেন। 

সারাদিন এদিকসেদিক থাকলেও খাওয়ার সময় ঠিক পাতিলের পাশেই বসেছিলেন মনিরুজ্জামান হাসান। খাওয়ার শেষে দেখা গেছে যে, খাবার খেয়ে প্রদেয় টাকার দ্বিগুণ উসুল করেছেন আজহারুল ইসলাম ও স্বর্ণালী ইসলাম। দধির হাড়িটা শেষ পর্যন্ত অপূর্ব বিশ্বাসের হাতেই দেখা গিয়েছে। 

কষ্ট করে রান্নাবান্না করে ব্যাপক দোয়া-আশির্বাদ ও সুনাম অর্জন করেছেন সাজিয়া সুলতানা, নাঈম খান, মানজুরুল হাসান, শাহাদাৎ হোসাইন ও ইলিয়াস কবির। কেউ কেউ রাধূনিদের বিবাহোত্তর সফল জীবন কামনা করেছেন। আবার কেউ তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাতও কামনা করেছেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 ববি