banglanewspaper

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ১৩০ নং বাদে ভূগোল হাট (উত্তর) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয় চলাকালিন সময়ে ধান ভাঙ্গানোর মিলে পরিনত হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ১৩০ নং বাদে ভূগোল হাট (উত্তর) সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে। গত ০৫-০২-২০১৯ ইং তারিখে বিদ্যালয় কার্য দিবসে দুপুর ১.৩০ মিনিটের সময় বিদ্যালয়ের পাশের রাস্তাদিয়ে চলার পথে ভ্রাম্যামান ধান ভাঙ্গানোর মেশিনের বিকট শব্দে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের নজর পড়ে কোমলমতী শিশুদের দিকে। মেশিনটির পাশেই বিদ্যালয়ের পোশাক পরিহিত কয়েক জন শিশু খেলা করছে। বিবেকতাড়িত হয়ে বিষয়টি বিদ্যালয় প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য বিদ্যালয় আফিস কক্ষে গিয়ে শিক্ষকের দেখা না পেয়ে, শ্রেনীকক্ষে গিয়ে কিছু শিক্ষার্থীদের খাবার গ্রহন করতে দেখা যায়। পর্যায়ক্রমে সকল কক্ষ পরিদর্শন করে নামাজরত এক ব্যাক্তির দেখা মিলেও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব ছিলনা যে তিনি শিক্ষক কি না। পরবর্তীতে বুদ্ধিমতী এক ছাত্রী পাশের বাড়ি থেকে ড়েকে আনে সহকারী শিক্ষিকা জয়নব আক্তারকে।

প্রধান শিক্ষকের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "প্রধান শিক্ষকও মনে হয় নামাজ পড়ার জন্য মসজিদের দিকে গেলেন”। তিনি আরো বলেন, বাচ্চাদের টিফিন করতে বলে আমি নামাজ পড়ার জন্য আমি আমার বাড়িতে চলে এসেছিলাম। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদের সাথে মোবাইলে কথা বললে তিনি বলেন, ধান ভাঙ্গানোর লোকেদের বলায় তারা আমাদের কথা শুনেনি। আপনাদের আভিযোগ সত্য কিন্তু আমি নামাজে থাকায় আপনাদের সাথে কতা বলতে পারিনি। তবে ভবিষ্যতে এমনটি আর হবেনা। 

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনির মুঠো ফোনে বলেন, তিনি আফিস রুমে নামাজে ছিলেন। অপর শিক্ষক এরশাদ টয়লেটে ছিলেন, শিক্ষিকা জয়নব আক্তার বাড়িতে খেতে গিয়েছিলেন। প্রধান শিক্ষক তখন কোথায় ছিলেন সহকারী শিক্ষক মনিরের জানা ছিলনা। অপর এক শিক্ষক সহকারী শিক্ষা আফিসার  (এ.টি.ও) জি এম ফুয়াদ সাহেবের সাথে ছিল। বিদ্যায়টিতে ১৪৯ জন ছাত্র-ছাত্রীর জন্য ৫ জন শিক্ষক থাকলেও ৪ জন শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। 

বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. ময়নাল হক বলেন, আমি বিদ্যালয়ের শিক্ষক শূন্যতার বিষটি আমি অবগত, তবে সবাই নামাজে গিয়েছিল। তবে আমি আপনাদের উপস্তিতেই শিক্ষকদের বিচার করব। বিদ্যালয় প্রাংগনে এলাকার লোকরা মাঝে মাঝে ধান ভাঙ্গায় তাদের বল্লে শোনেনা।

সহকারী শিক্ষা আফিসার (এ.টি.ও)  মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, আমি পরিক্ষার কেন্দ্রে থাকায় ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব হল। তবে আমি খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, একজন শিক্ষক ট্রেনিংয়ে আছে, এক জন স্কুলে নামাজে ছিল, অপর দুই জন নামাজের জন্য বাইরে গিয়েছিল। বিষয়টি খুবই মারাত্বক অন্যায়, আমি প্রযোজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা  গ্রহণ করব।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা আফিসার (উ.ই.ও) সেলিমা আক্তার নাগরপুর সালিমার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আপনার মাধ্যমে বিষয়টি আমরা জানলাম। বিষটি দায়িত্ব অবহেলা ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সামিল। ধর্মও পালন করতে হবে এবং অভিভাবকদের আমানতও রক্ষা করতে হবে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব। 

ট্যাগ: bdnewshour24 নাগরপুর