banglanewspaper

এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট : বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী অযোধ্য মঠ প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে ঝুকিতে রয়েছে মূল্যবান প্রাচীনতম এ স্থাপনাটি। কোদলা মঠ কোদলা মঠ শিখর স্টাইলে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সবচাইতে উল্লেখযোগ্য মঠ। বাগেরহাট শহর থেকে আনুমানিক ১০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে পুরাতন রূপসা-বাগেরহাট সড়কের যাত্রাপুর বাজার হতে প্রায় ৩ কিলোমিটার ভেতরে বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে প্রাচীন ভৈরব নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত অযোধ্যা মঠ। বর্গাকার ভূমি পরিকল্পনায় চতুষ্কোণ বিশিষ্ট ভিতের উপর নির্মিত হয়েছে অনিন্দ্যসুন্দর এ মঠটি। এর উচ্চতা আনুমানিক ১৮.২৯ মিটার। ইটের তৈরী মঠের প্রাচীর গুলির পুরুত্ব ৩.১৭ মিটার এবং ভেতরের বর্গাকার প্রত্যেক দেয়ালের দৈর্ঘ্য ২.৬১ মিটার। দেয়ালের পালিশ করা লাল ইটগুলি অতি উচ্চমানের। মঠে প্রবেশর মোট ৩টি পথ। মঠের ভেতরের অংশে ১২/১৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা গুম্বুজ ফাঁকা । প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত সংরতি পুরাকীর্তি হলেও এ মঠটি দেখতে আশা পর্যটকদের জন্য নেই নূন্যতম কোন সুবিধা। আর এ কারনে স্থাপত্য নান্দনিকতায় এটি দেশের সবচাইতে সুন্দরতম মঠ হলেও এখানে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা পড়ছেন নানা বিড়ম্বনায়।

কবে কার দ্বারা এ মঠ নির্মিত হয়েছিল তার সঠিক কোন তথ্য না পাওয়া গেলেও বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, ঐতিহ্যবাহি এ মঠটি সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে নির্মিত। বহুকাল আগে মঠের দক্ষিণ কার্নিসের নিচে প্রায় অদৃশ্যমান দুই লাইনের একটি ইটে খোদাই করা লিপি অনুযায়ী দেবতার অনুগ্রহ লাভের আশায় কোনো এক ব্রাহ্মণ মঠটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে জনশ্রুতি আছে যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য তার সভাসদ গৃহের পন্ডিত অবিলযম্বা সরস্বতীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে মঠটি নির্মান করেন।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঠটির দেয়ালে লাল রংঙের ইটের উপর খোদাই করা অলংকার গুলোতে অযত্ন আর অবহেলায় সেদলা পড়েছে। মঠে প্রবেশ দরজার উপরের অংশে পোড়া মাটিতে আকর্ষনীয় অলংকার করা বেশ কয়েকটি ইট নোনায় নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকটি স্থানে ইটের উপর খোদাই করা কারুকাজ গুলো নষ্ট হয়ে নিচে পড়ছে। মঠের উপরে জন্ম নেয়া পরগাছার কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেয়াল।

মঠের দ্বায়িত্বে থাকা কেয়ারটেকার সামছুল আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মঠের উপরে জন্ম নেয়া পরগাছা গুলো পরিস্কার করার জন্য কোন উদ্দ্যোগ নেয়া হয়নি। যে কারনে পরগাছার শিকরে মঠের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এগুলো মঠের উপরের অংশে হওয়ার কারনে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে তা কেটে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি সম্পর্কে খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর অবগত থাকলেও পরগাছা গুলোর ব্যাপারে তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। সংস্কার কাজ না করার কারনে অলংকার খোদাইকৃত অনেক গুলো ইট নষ্ট হয়ে গেছে।

এছাড়া রাতে এখানে কোন আলোর ব্যবস্থা নেই। বেড়াতে আসা পর্যটকদের নেই নূন্যতম সুযোগ সুবিধা। কোন হোটেল ও বাথরুম না থাকায় বিশেষ কোন দিন ছাড়া দর্শনার্থীরা খুব কম আসে।

মাদারিপুর থেকে অযোধ্য মঠ দেখতে আসা সাধন কুমার কর্মকার এ প্রতিনিধিকে বলেন, অযোধ্য মঠ সম্পর্কে বইতে অনেক পড়েছি কিন্তু বাস্তবে দেখা হয়নি। তাই পরিবারের নিয়ে ঐতিহ্যবাহি এ মঠটিকে দেখতে আসা। কিন্তু এখানে আসার পর সমস্যায় পড়েগেছি। মঠের আশপাশের কোন খাবার হোটেল বা দোকান ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থা না থাকায় খুব কষ্ট হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগেরহাট জাদুঘরের কাস্টডিয়ান গোলাম ফেরদাউস বলেন, খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একজন উপ-প্রকৌশলী অযোধ্য মঠটি পরির্দশন করেছেন। তিনি অযোধ্য মঠটি ব্যাপক সংস্কার করার জন্য একটি প্রাকল্প তৈরী করেছেন। আশা করি দ্রুত তমসময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 বাগেরহাট