banglanewspaper

গাজীপুরে জঙ্গলে উদ্ধার করা শিশুটিকে ধর্ষণের পর মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। আর এই ঘটনায় পাঁচ বছর বয়সী শিশুর খালাতো ভাই জড়িত বলেও তথ্য মিলেছে।

বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল সারওয়ার-বিন-কাশেম।   

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাড়ে ১১ টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর বোর্ডবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে। গাছা থানার শরিফপুর এলাকার জঙ্গলে শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার হয়।

র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক জানান, গত ২৭ জানুয়ারি শরিফপুর এলাকায় একটি কাঁশবনে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। শিশুটি স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেনে নার্সারিতে পড়ত।

ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে শিশুটি তার বাসার পাশে নানার বাড়িতে গোসল করতে যায়। শিশুটি আর না ফেরায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। ওই দিন বিকাল তিনটার সময়ে তার মরদেহ পাওয়া যায়।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, গ্রেফতার কিশোর স্থানীয় তাকফিয়াতুল উলুম মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। ঘটনার দিন সে তার বাবার কর্মস্থল থেকে ফিরছিল। পথে নিহত শিশুটির সঙ্গে দেখা হয়। মেয়েটিকে ফুসলিয়ে বাড়ির পাশে কাশফুলের জঙ্গলে নিয়ে যায়।

সেখানে ধর্ষণ করা হলে শিশুটি এই ঘটনা ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দেয়। এ সময় কিশোরটি ইট দিয়ে তার মাথা থেঁতলে দেয়। পরে মরদেহ সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

সংবাদ সম্মেলন কক্ষের পেছনেই বসা ছিলেন নির্মমভাবে নিহত তাহির মা আবিদা সুলতানা ও বাবা মো. হুমায়ুন কবির। আলাপকালে মা আবিদা সুলতানা বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। যাতে দ্বিতীয়বার এ ধরনের কাজ করার সাহস কেউ না পায়। ওর মতো অল্প বয়েসের ছেলে (রিফাত) এখনি এমন অন্যায় করতে পারে; বড় হলে আরও বড় অন্যায় করবে না তার কোনো গ্যারান্টি নেই। কথায় আছে বিষ গাছ বড় হওয়ার আগেই উপড়ে ফেলা ভালো। এখনই এর সমূলে উপড়ে ফেলা দরকার। ওর যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।’

আবিদা আরও বলেন, ‘আমার মেয়ে খুব ট্যালেন্ট ছিল। অন্য বাচ্চারা যখন কার্টুন দেখতো তখন আমার মেয়ে ক্রাইম প্রোগ্রাম সিআইডির প্রোগ্রামগুলো দেখতো। ওর মতো মেয়েকে এভাবে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা মানা যায় না।’

ট্যাগ: bdnewshour2 ধর্ষণ