banglanewspaper

এখনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি মানুষদের আমরা সমাজের মূলস্রোত ধারায় আনতে পারিনি। তারা প্রতিনিয়তই নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। শুধুমাত্র ব্যক্তির প্রতিবন্ধীতা নয়, সামাজিক এবং অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা এই সকল বৈচিত্র্যময় ব্যক্তিদের চলার পথের অন্যতম অন্তরায়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা মূল লক্ষ্যই ছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণ করা। আমাদের অনেক অর্জন আছে কিন্তু এখন ও আমরা একটি বৈচিত্র্যময় ও একীভূত সমাজ ব্যবস্থা গড়ার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছি।

শনিবার “বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে বিশেষভাবে সক্ষমব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে” ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইংয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের মানিক মিয়া সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত “সমাজে বৈচিত্রতার গুরুত্ব: বর্তমনা ও ভবিষ্যৎ শীষক আলোচনা সভার বক্তরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইংয়ের ভারপ্রাপ্ত নিবাহী পরিচালক দেবরা ইফরইমসনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করে সাবেক তত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা ও মানবাধিকারকর্মী এড. সুলতানা কামাল, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী, কথা সহিত্যিক সালমা বাণী, সচেতন সমাজ সেবা হিজড়া সংঘের সভাপতি ইভান আহমেদ কথা, দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মনি রানী দাস, সাংবাদিক নিখিল ভদ্র।

দেবরা ইফরইমসন বলেন, আমাদের সমাজে নানা শ্রেণী, ভাষা,ধর্ম,বর্ণের মানুষ বসবাস করে। এই বৈচিত্রতা আমাদের শক্তি। আমার আমাদের শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলেই সুন্দর রাষ্ট্র গঠন করতে পারব। বিশেষভাবে সক্ষমব্যক্তিদের কাজের সুযোগ দিতে পারলে। তাদের অবদান আমাদের সমাজ গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। 

এডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, সারা পৃথিবীতে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ কোটা থাকে। শুধু কোটা নয় পিছিয়ে পড়া মানুষদের মূলস্রোতে আনতে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের পিছিয়ে রেখে আমরা সেই লক্ষ্যে পৌছাতে পারব না। বৈচিত্র্যময় মানুষগুলোকে পিছনে রেখে কখনোই উন্নত দেশ গড়া সম্ভব নয়।  তাদের অধিকার গুলো প্রতিষ্ঠায় করতে  কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী হতে হবে। মানবিকতা, অধিকার, বিবেক, ভালোবাসা, মানুষের দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করলেই আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত সমাজ পাবো।

গাউস পিয়ারী বলেন, একটি মানবিক রাষ্ট্র গড়তে আমাদের বিশেষভাবে সক্ষমব্যক্তিসহ সকলকে নিয়ে একসাথে কাজ করতে হবে। আমরা বহুদূর এগিয়ে এসেছি তারপরও সমাজে যারা এখনো নানাভাবে বৈষম্যের শিকার তাদের সমস্যাগুলো শুনে সমাধানে কাজ করতে হবে। দয়া, মায়া করুনা নয়। সুস্থ সুন্দরভাবে বাঁচা তাদের অধিকার। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের কথা শুনুনু। তাদের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনা করুন।

ইভান আহমেদ কথা বলেন, বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের কথা বলেও আমাদের দেশের বৈষম্যের অন্যতম উদাহরন হিজড়া সমাজ। কত ধরণের বৈষম্যের শিকার হয় তারা তা বলে শেষ করা যাবে না। হিজড়ারা সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, নাগরিক এবং রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। আমাদের কথা বলতে সুযোগ দিতে হবে। আমরা আমাদের কথা বলে সংসদের সংরক্ষিত আসনের সুযোগ চাই।

সালমা বানী বলেন, ভিন্নভাবে সক্ষমদের ব্যক্তিদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। রাষ্ট্রকেই প্রতিটি ব্যক্তিকে শান্তিতে, সম্মানের সাথে, নিরাপদে বেঁচে থাকার সুযোগ তৈরি করতে হবে। ভিন্নভাবে সক্ষমব্যক্তিদের মূলস্রোতে আনতে আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের জন্য বিশেষ কোটাই নয়। প্রয়োজনে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিকে তাদের শিক্ষা,স্বাস্থ্য,চিকিৎসা, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

মনি রানি দাস বলেন, দলিত সম্প্রদায়ের মানুষরা এখনো বৈষম্যের শিকার। উচ্চ শিক্ষার পর আমাদের কমসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সকল স্তরের মানুষ সমর্থন দিচ্ছে। আমরা আমাদের কন্ঠ জোরালো করতে সংরক্ষিত আসনে একজন দলিত প্রতিনিধির দাবি করি।

নিখিল ভদ্র বলেন, শুধু শারিরিক প্রতিবন্ধকতাই নয়। অবকাঠানো প্রতিবন্ধকতা আমাদের এই শহরে গৃহবন্দী করছে। সম্ভবনাময় বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রতিভা বিকাশের পথকে সংকুচিত করছে। ফলে তারা মূলধারা থেকে পিছিয়ে পড়ছে।

মুক্ত আলোচনায় প্রতিবন্ধীব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গের, আদিবাসী প্রতিনিধিরা সমাজের ভিন্নক্ষেত্রে তাদের সমস্যা ও বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 রাষ্ট্র