banglanewspaper

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার শেষ মেয়াদ, তিনি আর প্রধানমন্ত্রী হতে চান না- ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছেন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেছেন, নতুনদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে চান তিনি।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার দল আওয়ামী লীগ বিজয়ী হওয়ার পর টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। এখন তিন দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী জার্মানিতে আছেন।

ডয়েচে ভেলের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাওয়া হয় তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে। তিনি বলেন, 'এটা আমার টানা তৃতীয় মেয়াদ। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী হয়েছি (১৯৯৬-২০০১)। সব মিলিয়ে চতুর্থবার। আমি আর চাই না।’

‘একটা সময়ে এসে সবারই বিরতি নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি, যেন তরুণ প্রজন্মের জন্য জায়গা করে দেওয়া যেতে পারে।'

সাক্ষাৎকারে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়ে তার অবস্থান জানতে চাওয়া হলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, 'যত কাজ করবেন, তত সমালোচনা শুনবেন। আপনি আমার দেশের মানুষকে প্রশ্ন করুন, তারা সন্তুষ্ট কি না; তাদের যা যা প্রয়োজন, সব পাচ্ছে কি না, কিংবা আমি সব দিতে পারছি কি না।'

তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপও নিয়েছেন। বাংলাদেশ বহু বছর ধরে সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। তখন দেশে একটি মাত্র টেলিভিশন চ্যানেল চলত, যা ছিল রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি বেসরকারি খাতে টেলিভিশন চ্যানেল চালুর অনুমতি দেন।

সম্ভাব্য শেষ মেয়াদে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইকেই অগ্রাধিকার দিতে চান বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, 'খাদ্য নিরাপত্তা, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান- এসব মৌলিক চাহিদা। প্রত্যেক মানুষই তার অবস্থার উন্নতি ঘটাতে চায়। আমাদের সেটাই নিশ্চিত করতে হবে।'

বিরোধীদের রাজনীতির মাঠ সংকুচিত করে রাখা এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থার অভিযোগ নাকচ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'জনগণের ভোটের মাধ্যমেই তো ক্ষমতায় আসা, সেটা একদলীয় হয় কী করে? আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে যে, ২০০৮-এ যে নির্বাচন হয়েছিল, সে নির্বাচনেও ৮৪ ভাগ ভোট পড়েছিল। এবার তো ৮০ ভাগ ভোট পড়েছে। তখন বিএনপি-জামাত জোট পেয়েছিল মাত্র ২৮টি সিট। এবার ইলেকশনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৬০টি সিট (৩০০টির মধ্যে)। বাকি সব অন্য দলগুলো পেয়েছে। সেখানে দল তো আছেই।'

সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে দুর্বল বলে উল্লেখ করেন। বলেন, 'এখন কোনো দল যদি তাদের কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যেতে না পারে, জনগণের বিশ্বাস-আস্থা অর্জন করতে না পারে, আর যদি ভোট না পায়, সে দায়দায়িত্ব কার? সে তো ওই দলগুলোর দুর্বলতা।'

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়াকে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই এই দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে যেতে চায় বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের সহযোগিতা প্রয়োজন। ইউরোপীয় ইউনিয়নও ভূমিকা রাখতে পারে।

'আমরা কিন্তু মিয়ানমারের সঙ্গে ঝগড়া করতে চাই না।’ বলেন প্রধানমন্ত্রী,  ‘আমাদের সঙ্গে একটা চুক্তিও হয়েছে, তারা ফেরত নিয়ে যাবে। চীন ও ভারতের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। মিয়ানমারের সঙ্গে যে পাঁচটি দেশের সীমান্ত আছে- চীন, বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও লাওস- আমরা সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছি, কীভাবে এই সমস্যা সমাধানে তাদের কাজ করা উচিত।'

ট্যাগ: bdnewshour24 শেখ হাসিনা