banglanewspaper

শরীফ আনোয়ারুল হাসান রবীন: অপরিকল্পিত ভাবে স্থাপত্য নির্মানে মাগুরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিতে ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধায় নির্মিত শহীদ মিনারের অবমাননা করা হচ্ছে। 

অপরিকল্পিত ভাবে শহীদ মিনারের পদদেশে স্কুল ভবনের সিড়ির সংযোগস্থল নির্মান কোথাও আবার টয়লেটের সাথে শহীদ মিনার নির্মানসহ বিভিন্ন ভাবে কতৃপক্ষের উদাসিনতাসহ রক্ষনাবেক্ষনে কোন তদারকি না থাকায় শহীদদের শ্রদ্ধায় নির্মিত শহীদ মিনারের চরম অবমাননা হচ্ছে।

বিষয়টি তুলে ধরার পর স্কুল কতৃপক্ষসহ শিক্ষা কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশসহ জরুরী ভিত্তিতে স্থানান্তরের আশ্বাস প্রদান করছেন। আর এ বিষয়ে ক্ষুদ্ধ ও মর্মাহত ভাষা আন্দোলনের সৈনিক, শিক্ষার্থী, এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি মাগুরার মহাম্মাদপুরের পাল্লা শিরগ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একই উপজেলার চৌবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। পাল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গেলে দেখা যায় যেখানে শহিদ মিনার স্থাপিত সেখান দিয়েই উঠেছে ভবনের দুই তলার সিড়ি, শহীদ মিনারের পাদদেশে মিশেছে সিড়ির সংযোগস্থল। যে কারনে প্রতিনিয়ত জুতা স্যান্ডেল পায়েই দুই তলায় উঠানামার সময় শহীদ মিনারের অবমাননা করছে শিক্ষার্থী শিক্ষকসহ সকলেই। শহীদ মিনার না মাড়িয়ে দ্বিতীয় তলায় আসা যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই এখানে।

এমন স্থাপনা নির্মানে শহীদ মিনার অবমাননার বিষয়টি তুলে ধরে অনুভূতি জানতে চাইলে স্কুলের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী হোসনে আরা, সাব্বিরসহ অন্যরা ক্ষোভ ও কষ্টের অনুভুতি ব্যাক্ত করে অচিরেই স্থানান্তরের দাবি জানায় তারা।

কেউ আবার শিক্ষকদের ব্যাক্ত ভাষার সাথে তাল মিলিয়ে তাদের শেখানোমতে যথাযথ সন্মান প্রদর্শন করেই সিড়িতে চলাচল করে থাকেন বলেই জানায়, যদিও সেখানে অবস্থানকালে সেই মর্যাদা রক্ষার যথেষ্ট নমুনা চোখের সামনে দেখতে পেয়ে চোখ কপালে উঠার অবস্থা এ প্রতিবেদকের। 

তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ শওকত আলী দুঃখ প্রকাশ করে নিজের দায় এড়িয়ে বিগত দিনে দ্বায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট অন্যদের উপর দায় চাপিয়ে দুষলেনও বটে। জানালেন ১০ বছর আগে শহিদ মিনারটি নির্মিত হয়েছে, আর বছর চারেক হলো দোতলায় ৮ম ও ১০ম শ্রেণির দুইটি ক্লাসরুম যখন নির্মান করা হয় সে সময়ে দ্বায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক মেহেদি হাসান সিরাজ সাহেব এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। তার অবসর গ্রহনের পর বছর দুই হলো এখানে এসেছেন তিনি, বিষয়টি আগে নজরেও এসেছে তার, স্কুল তহবিলে তেমন অর্থ না থাকার কারণে কিছু করা যায়নি, তবে এবার ম্যানেজিং কমিটির সাথে অলোচনার মাধ্যমে জরুরী ভিত্তিতে স্থানান্তর করার ব্যাবস্থা নেবেন বলেও এ প্রতিবেদককে জানান তিনি।

একই উপজেলার চৌবাড়িয়া বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে প্রায় এক একরের বেশি জায়গা জুড়ে নির্মিত স্কুলের কোনার এক প্রান্তে যেখানে শহীদ মিনার স্থাপিত ঠিক সেখানেই গড়ে উঠেছে স্কুলের টয়লেট। পাশাপাশি একই স্থানে শহীদ মিনার ও টয়লেট স্থাপনের কারনে শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন লজ্জিত ও মর্মাহত।

কিছুটা কষ্ট আর ক্ষোভ নিয়েই শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি, তানজিলসহ অন্যরা জানালো, শুধু বছরের এই সময়টা এলেই এ বিষয়গুলিতে কিছুটা সোচ্চার হোলেও বাকি সারা বছর জুড়েই স্কুলের এক কোনে অবজ্ঞা আর অনাদরেই পড়ে থাকে শহীদের স্বরনে নির্মিত এ শহীদ মিনার। 

আর এভাবে  নির্মানে শহীদ মিনার অবমাননার বিষয়টি তুলে ধরে প্রশ্ন করা হলে স্কুল কতৃপক্ষসহ প্রধান শিক্ষক মোঃ আবুল কালাম আজাদ যেন তবেই বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পেরে, দুঃখ প্রকাশ করে জরুরী ভিত্তিতে স্থানান্তরের ব্যাবস্থা নেবেন বলে আস্বস্ত করলেন এবং সেই সাথে প্রতিবেককে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান তিনি।

আর এ ধরনের অপরিকল্পিত ভাবে স্থাপনা ও শহীদ মিনার নির্মানের মাধ্যমে শহীদ মিনারের অবজ্ঞা, অবহেলা আর চরম অবমাননায় ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত এ অঞ্চলে ভাষা আন্দোলন ও মাগুরার প্রথম শহীদ মিনার নির্মানে বিশেষ অবদান রাখা নাকোল ঘাশিয়াড়া গ্রামের ভাষা সৈনিক মোঃ আব্দুর রাশেদ মোল্লা, একই এলাকার অপর ভাষা সৈনিক হামিদুজ্জামানের সন্তান কবি সাগর জামানসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই। পরিকল্পিত স্থাপনা নির্মান ও সেটির মর্যাদা রক্ষায় সারা বছর বিশেষ তদারকির দাবি তুলেছেন তারা।

একই ভাবে ক্ষোভের অনুভূতি প্রকাশ করে মাগুরা জেলা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার মজুমদার জানান, ‘মাগুরার প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠিত আছে, যার রক্ষনাবেক্ষনসহ মর্যাদা রক্ষার দায়ভার যথাযত ভাবে পালন নিজ নিজ স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এ ধরনের অবমাননার জন্য তাদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করাসহ শহীদ মিনার গুলির তদারকির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনার নির্দেশনা প্রদান করবেন বলে জানান তিনি।’

ট্যাগ: bdnewshour24 মাগুরা শহীদ মিনার অবমাননা