banglanewspaper

কবে, কখন আপনি লেখক হয়ে উঠলেন?
চতুর্থ শ্রেনিতে পড়ার সময় আমার মা মারা যান। আমার ছোট ছোট ভাইবোন ছিলে। আমি বড় বোন হিসেবে তাদের দেখভাল করতাম। ঐ সময় আমার মন ভালো করার জন্য আব্বা বই পড়তে বলতেন। বিভিন্ন বই কিনে দিতেন। তখন ঐ লেখকদের লেখা পড়ে আমিও লেখা লেখি শুরু করি। পঞ্চম শ্রেনিতে পড়ার সময় আমার প্রথম কবিতা প্রকাশ পায়। খুলনাতে দৈনিক অর্ণিবাণ পত্রিকায় প্রকাশিত কবিতার নাম একটু সঙ্গ দিতে।

লেখালেখি নিয়ে আপনি কতদূর যেতে চান?
প্রতিটি মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখেন অনেক বড় বড়। আমিও স্বপ্ন দেখি। লেখালেখি নিয়ে আমার স্বপ্ন একজন লেখক হিসেবে যতদূর গেলে স্বপ্ন পূরণ হতে পারে আমি সেই পর্যন্ত যেতে চাই। স্বয়ংসম্পূর্ণ লেখক হয়ে ওঠা যায় ততদূর যেতে চাই। 

নতুন লেখকদের নিয়ে আপনার চিন্তা কি?
নতুন লেখকরা ভালো প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। আমি বাঙালি, বাংলা ভাষাকে ভালোবাসি। প্রতিটি বাঙালি তার সুকুমার বৃত্তিতে লেখক হয়ে ওঠে। কারো প্রতিভা প্রকাশ পায়, কেউ সুযোগ পায় না। এই নতুন লেখকরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। তারাই বাংলা ভাষাকে আরো দূরে নিয়ে যাবে। বাংলা একদিন পুরো বিশ্বে অবস্থান করে নেবে, আর নতুন লেখকরাই সেই কাজটা করবেন। 

লেখক হওয়ার পেছনে আপানকে অনুপ্রাণিত করেছেন কে?
আমার আব্বা। বিয়ের পর আমার স্বামী শ ম রেজাউল করিম তারই অনুপ্রেরণায় ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কাব্যগ্রন্থ নীহারিকা। 

আপনার লেখাতে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়?
যা আমার মনকে স্পর্শ করে তাই আমার লেখাতে প্রকাশ পায়। মনকে আন্দোলিত করে এমন সব কিছুই আমার ভালো লাগে। যেই লেখা আমার মনকে ভাবায় তাই প্রকাশ পায়। একটা বিষয় যা আমাকে আকৃষ্ট করে তাই আমি লিখি। নাটক, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, প্রবন্ধ, কবিতা সবই লেখার চেষ্টা করি। 

এ পর্যন্ত আপনার কতটি লেখা প্রকাশিত হয়েছে?
১৯৯৯ সালে নীহারিকা (কাব্যগ্রন্থ)
২০১০ সালে এবং যুদ্ধ (নাটক)
২০১১ সালে ডানা ভাঙ্গা পাখি (কাব্যগ্রন্থ)
২০১৫ সালে প্রিয়জন (গল্পগ্রন্থ)
২০১৬ সালে প্রিয় শিমুল (কাব্যগ্রন্থ)
২০১৮ সালে নোনাজল (কাব্যগ্রন্থ)
২০১৯ সালে ডাকাতিয়া জয়+পদ্মপাতা কাব্যগ্রন্থ

এ বছরের আপনার লেখা সম্পর্কে বলুন।
মনে যে বিষয়গুলো বিচরণ করে সে বিষয়গুলোই লেখাতে প্রকাশিত হয়েছে। 

কোন লেখকের লেখা পছন্দ?
রবীন্দ্রনাথ ও জসিমউদ্দিন।

তরুন লেখকদের লেখার মান কতদূর?
তরুণ লেখকরা অনেক ভালো লিখছেন। চর্চা, সাধনা ও পড়াশুনা খুবই প্রয়োজন। চর্চা হলে তরুণ লেখকদের লেখা আরো ভালো হবে। চর্চা এবং পড়াশুনার প্রতি জোর দেয়া প্রয়োজন।

আপনার লেখাতে যুগোপযোগী বিষয়গুলো থাকছে কি-না?
তরুণ লেখকদের লেখাতে যুগোপযোগী বিষয়গুলো উঠে আসছে। তারা বাংলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচেছন। তাদের মাঝ থেকেই তৈরি হচ্ছে নতুন কবি। 

পাঠকদের সম্পর্কে বলুন? 
আমার পাঠকরা অনেক আন্তরিক। কারো কাছ থেকে রুষ্ঠ আচরণ পায়নি। আমার পাঠকের সংখ্যাও কম। পাঠকরা বইকে অনেক বেশি গ্রহণ করেন। পাঠক না থাকলে কি এত বই বের হতো। পাঠকের সুদৃষ্টি রয়েছে নতুন পুরাতন লেখকদের প্রতি, লেখার প্রতি। আর পাঠকরা আছেন বলে এখনও লেখকরা প্রাণের মেলায় মিলিত হন।

পাঠকদের আগ্রহ কেমন দেখছেন?
পাঠকরা এখনও অনেক বই পড়েন। তাদের আগ্রহ রয়েছে। তারা বই কেনেন এবং পড়েন। 

প্রগতিশীল, নারী উন্নয়নে, নারী নেতৃত্বে বইয়ের গুরুত্ব কতটুকু?
আমরা জ্ঞাণ আহরন করি বইয়ের মাধ্যমে। বই মানুষকে উৎকর্ষিত করে। আর তাই নারীর অগ্রযাত্রায় বইয়ের বিকল্প নেই। নারী নেতৃত্ব গড়ে তুলতেও বইয়ের ভূমিকা অপরিসীম। বই আমাদের আলো দেখায়। আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে বই। 

সমাজ পরিবর্তনে বইয়ের ভূমিকা?
সমাজ পরিবর্তনের বইয়ের ভূমিকা প্রয়োজন। আকাশ সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে। প্রতিটি মানুষের হাতে বই তুলে দিতে হবে। তাহলেই সমাজ থেকে সব ধরনের কলুষতা দুর হয়ে যাবে।

 

 

ট্যাগ: bdnewshour24 গ্রন্থমেলা বইমেলা