banglanewspaper

দেদারসে কম বয়সী খেলোয়াড় কেনার অপরাধে চেলসিকে নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আগামী দুই বছর ইংলিশ ক্লাবটি কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে দলবদল চুক্তি করতে পারবে না। মানে নতুন কোনো খেলোয়াড় কিনতেও করতে পারবে না, দলের কাউকে বিক্রিও করতে পারবে না। চেলসি নিশ্চিতভাবেই ফিফার এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করবে। তবে সেটা অন্য প্রসঙ্গ। ফিফার এই নিষেধাজ্ঞা যে চেলসি শিবিরে অন্ধকার নামিয়ে এনেছে, সেটি নিশ্চিত।

তবে শুধু ক্লাব চেলসি নয়, ফিফার এই নিষেধাজ্ঞা অন্তত ৯ জন খেলোয়াড়ের ভবিষ্যতকেও ঢেলে দিয়েছে শঙ্কার কালো মেঘে। হতভাগ্য সেই খেলোয়াড়রা হলেন এডেন হ্যাজার্ড, আলভারো মোরাতা, গঞ্জালো হিগুয়েইন, মাতেও কোভাচিচ, ক্রিস্তিয়ান পুলিসিচ, ডেভিড লুইস, গ্যারি কাহিল, অলিভিয়ের জিরো, উইলি ক্যাবালারোর মতো তারকারা। এঁদের ভাগ্যে কী আছে, সেটা এখনো কেউ জানে না!

চেলসির স্কোয়াডে বর্তমানে ২৫ জনের মতো খেলোয়াড় আছে। তাদের মধ্যে থেকে এই ৯ জনের ভবিষ্যত শঙ্কার কালো মেঘে ঢেকে যাওয়ার কারণটা কী? কারণ, এই ৯ জন এখন শুধু চেলসির খেলোয়াড়ই নন, দলবদল প্রক্রিয়ায় অন্য ক্লাবের সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন।

প্রথমেই আসা যাক এডেন হ্যাজার্ডের বিষয়ে। চেলসির এই বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড এরই মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদকে পাকা কথা দিয়ে ফেলেছেন। চেলসি ছেড়ে রিয়ালে যোগ দেওয়ার মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলেছেন তিনি। রিয়ালে যাবেন বলে চেলসির সঙ্গে চুক্তিও নবায়ন করেননি তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি ফিফার নিষেধাজ্ঞাটা বলবৎ থাকে, তাহলে হ্যাজার্ড চেলসি ছেড়ে বেরোতে পারবেন না। মানে রিয়ালে যেতে পারবেন না। আবার চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে গেলে চেলসিতেও থাকতে পারবেন না। ভাসতে হবে ভাসা পানার মতো!

একই অবস্থা আলভারো মোরাতারও। স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড মাত্রই চেলসি থেকে ধার চুক্তিতে যোগ দিয়েছেন নিজের শৈশবের ক্লাব অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদে। ধার চুক্তিটা হয়েছে ঠিক নিষিদ্ধকাল ২০২০ সালের গ্রীষ্ম পর্যন্ত। কিন্তু মূল চুক্তিটা তার চেলসির সঙ্গেই। ফলে ফিফার নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকলে অ্যাতলেতিকোর সঙ্গে তার ধার চুক্তিটা বাতিল হয়ে যাবে। তাকে আগামী জুনেই হয়তো ফিরতে হবে চেলসিতে।

এদের মতোই আরেক হতভাগা গঞ্জালো হিগুয়েইন। এই আর্জেন্টাইন তারকা গত জানুয়ারিতেই এসি মিলান ছেড়ে ধার চুক্তিতে যোগ দিয়েছেন চেলসিতে। তবে তার মূল চুক্তিটা ইতালির আরেক ক্লাব জুভেন্টাসের সঙ্গে। ফলে তার ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে, সেটি এখন তিনিও জানেন না!

ক্রিস্তিয়ান পুলিসিচ ও মাচেও কোভাচিচের পরিণতিও একই। হ্যাজার্ড চলে যাবেন। এটা ধরে নিয়ে গত জানুয়ারিতেই তার বিকল্প হিসেবে ক্রিস্তিয়ান পুলিসিচকে বিশাল অঙ্কের টাকায় কিনেছে চেলসি। তবে আনুষ্ঠানিক চুক্তির পর এই মার্কিনি চেলসির বনে গেলেও চেলসিতে যোগ দেননি। ধারে চুক্তিতে রয়ে গেছেন নিজের ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডেই। আগামী জুলাইয়ে পাকাপাকিভাবে তার চেলসিতে যোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু ফিফার এই নিষেধাজ্ঞা চেলসির সঙ্গে তার চুক্তিটাকেই ফেলে দিল অনিশ্চয়তার সাগরে।

ধার চুক্তির খড়্গে ঝুলছেন মাতেও কোভাচিচও। গত গ্রীষ্মে অনেকটা জোর করেই রিয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে ক্রোয়েশিয়ান এই মিডফিল্ডার ধার চুক্তিতে যোগ দিয়েছেন চেলসিতে। রিয়ালে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান না, তাই চেলসিতে পাড়ি জমিয়েছেন। কদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে কোভাচিচ এটাও বলেছেন, চেলসিতে সুখেই আছেন তিনি। কিন্তু ফিফার নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে গুঁড়িয়ে যাবে তার সুখের ঘর। দগ্ধ হৃদয়ে ফিরতে হবে আবার রিয়ালে।

ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজ, ফরাসি ফরোয়ার্ড অলিভিয়ের জিরো, গ্যারি কাহিল, উইলি ক্যাবালারোদের ভবিষ্যত আরও বেশি অন্ধকার। আগামী মৌসুমেই ফুরিয়ে যাবে তাদের বর্তমান চুক্তির মেয়াদ। ফলে ইচ্ছা থাকলেও এই মুহূর্তে তারা চুক্তি নবায়ন করতে পারবেন না। মানে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে মৌসুম শেষে তারা হয়ে যাবেন ভাসা পানা!

ট্যাগ: bdnewshour24 চেলসি