banglanewspaper

ঢাকার সাভারে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক পার্লার বিউটিশিয়ানকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভূক্তভোগী ওই নারী বাদি হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানা পুলিশের একজন উপ-পরিদর্শক বলেন, নামা বাজার এলাকার এ যুবক বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিউটি পার্লারে কাজ করা এক মেয়েকে ধর্ষণ করে। পরে তাকে বিয়ে না করায় মেয়েটি নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। তিনি আরও বলেন, ভোক্তভোগী ওই মেয়ে ছেলেটির বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে। এঘটনায় তাকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানোর পাশাপাশি ধর্ষককে গ্রেফতারের অভিযান চালানো হচ্ছে।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া গ্রামের জেলে পাড়ায় বিয়ের প্রলোভন এক মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামের জেলে পাড়ার নিমাই জলদাসের ছোট বোন বিন্দা রাণী দাস দীর্ঘদিন থেকে ফেনীর মাষ্টার পাড়ার একটি বাসায় গৃহ পরিচারিকার কাজ করত। এ সময় ফেনী সদর উপজেলার গুচ্ছ গ্রামের কৃষ্ণ মজুমদার হাট এলাকার বাসুদেব চন্দ্র দাসের ছেলে অমূল্য জলদাস  কৌশলে মেয়েটির সাথে সম্পর্ক তৈরি করে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একদিন মেয়েটি ছেলেটির কথামত বাড়ীতে যাওয়ার কথা বলে ছেলেটির সাথে এসে নিজ গ্রামে এসে অবস্থান করে। ওই দিন রাতে মেয়েকে ছেলেটির সাথে আপত্তিকর অবস্থায় শুকলাল জলদাসের বসত ঘরের পেছন থেকে বাড়ীর লোকজন উভয়কে আটক করে। পরদিন বিষয়টি সমাধানের জন্য ফেনী শহরের কালিবাড়ী মন্দিরে জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ ও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সালিশী বৈঠক বসলে ছেলেটি তার দোষ স্বীকার করায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে সালিশী বৈঠক শেষ হয়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ভিক্ষুকের মেয়েকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেছে প্রভাবশালী আরিফ হোসেন নামে এক যুবক। এ ঘটনায় ধর্ষিতা দৌলতপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের ভিক্ষুক চান্দু’র মেয়ের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী জোয়ার্দ্দারপাড়া গ্রামের বক্কর ম-লের ছেলে আরিফ হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একদিন রাতে আরিফ হোসেন ভিক্ষুক চান্দুর বাড়িতে গোপনে প্রবেশ করে তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মেয়ে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হলে তাকে নিয়ে আরিফ হোসেন বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি বাগানে যায় এবং তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় ধর্ষিতা চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে ধর্ষক আরিফ হোসেন পালিয়ে যায়। পরে ধর্ষিতা তার ধর্ষণের বিচার চেয়ে ধর্ষক আরিফ হোসেন ও তার পিতা বক্কর ম-লের নামে দৌলতপুর থানায় এজাহার দেয়।

রপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৬ বছরের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ছাত্রীর মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ মামলা করেন। মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ওই ছাত্রীর বাড়ি শেরপুরের নকলা উপজেলায়। সে উচ্চ মাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। প্রধান আসামি শামিম মিয়ার সঙ্গে সে ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে শামিম ছাত্রীটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ওই ছাত্রী শামিমকে বিয়ের জন্য তাগিদ দেন। একদিন শামীম মুঠোফোনে ছাত্রীটিকে তাঁর সূর্যদী চারআনীপাড়া গ্রামের বাড়িতে ডেকে এনে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শামিম জোর করে ঘুমের ওষুধ মেশানো কোমল পানীয় পান করান এবং সাদা স্ট্যাম্পে ওই ছাত্রীর স্বাক্ষর নেন। ওই দিন গভীর রাতে সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

বরগুনার বামনা উপেজলায় এক কলেজ শিক্ষার্থীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর ছেলেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত অনুপম কর্মকার স্থানীয় স্বর্ণ ব্যবসায়ী কালু কর্মকারের ছেলে। এর আগে বামনা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অনুপম কর্মকার ও তার এক সহযোগীকে আসামি করে মামলা করে নির্যাতিত শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বরিশাল হাতেম আলী কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। স্থানীয় প্রভাবশালী স্বর্ণ ব্যবসায়ী কালু কর্মকারের ছেলে অনুপম কর্মকার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এমনকি ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে একটি অনুষ্ঠানে ধর্ষক অনুপম কর্মকার তাকে সনাতনী বিয়ের প্রথা অনুযায়ী প্রতারণার মাধ্যমে সিঁদুর ও নাকফুল পরিয়ে দেয় এবং তাদের বিয়ে হয়ে গেছে দাবি করে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। মামলার বিবরণীতে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বলেন, অনুপম কর্মকার তাকে বরগুনার আদালতে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে নিয়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে মাঝপথে তাকে একা ফেলে সে পালিয়ে যায়।

উপরের তথ্যগুলো বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা। আর প্রত্যেকটি গল্পেই বিয়ের প্রলোভনে ফেলে মেয়েদের ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণ একটি জগণ্য অপরাধ, আর ধর্ষণকারীরাও অবশ্য অনেক বড়ো অপরাধ করেছে। এ ধরণের আরো শতো সহ¯্র গল্প রয়েছে, এবং প্রতিনিয়ত আরো গল্প তৈরি হচ্ছে। এখানে মাত্র উদাহরণের জন্য কয়েকটি গল্প সামনে আনা হয়েছে। কিন্তু নারীরা কেন বিয়ের প্রলোভনে পড়ে সেটি সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র ও আদালত কেউই বিবেচনা করে না। শেষে সব দোষ এসে পড়ে ছেলেদের ঘাড়ে। 

একাধিক গল্পে দেখা যাচ্ছে একাধিকবার ডেকে মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু প্রথমবার ধর্ষিতা হবার পর আবারও কেন ছেলেটির ডাকে মেয়েটি সাড়া দিয়েছে? নিশ্চয় বিয়ের প্রলোভন! কিন্তু কেন এতো প্রলোভন? কেন এতো লালসা? ছেলেটির প্রলোভনে না পড়লে কি তার কখনো বিয়ে হতো না? কেন মেয়েদের প্রলোভনে পড়তে হবে? আর ধর্ষণকে এড়িয়ে চলার অক্ষমতা থাকলে প্রলোভনে পড়ে কেন? তার অর্থ হলো মেয়েরা নিজেদের উপর নিজেরাই এ ধরণের গল্পের অন্তর মহলে প্রবেশ করলে দেখা যাবে সমস্ত অপরাধের ৮০ শতাংশ দায় মেয়েদেরই। কারণ তারাই বিয়ের প্রলোভনে পড়ে মাঝপথ থেকেই নিজেকে আড়াল করে নিয়েছে। প্রথমে বিয়ের প্রলোভনে পড়ে শুধুমাত্র নিজের সুযোগটুকু আদায় করে নিতে চেয়েছিলো। কিন্তু পরে ব্যর্থ হয়ে গল্পের মোড় অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়। নাহয় কেন তাদের প্রলোভনে পড়তে হবে? যারা প্রলভনে পড়তে পারে তারা কোন মানের স্বর্থপর আর লোভী তা সাধারণ ভাবে একটু চিন্তা করলে অনুধাবন করা যায়। এখন লোভ ও সুযোগ আদায়ের পরিণাম ধর্ষণ ছাড়া আর কি হতে পারে। প্রলোভনে পড়লে ধর্ষণতো হতেই হবে। তাই প্রলোভন কিংবা লোভ নয়। জীবনের আঁকে বাঁকে নারী এবং পুরুষ উভয়কে বিশ্বাস রাখতে হবে নিজের কাজ ও সংগ্রাম সাধনার উপর। লোভনীয় সুযোগগুলো আমাদের পিছিয়ে দেয় জীবনের আরো কয়েকটি ধাপ। 

লেখক: শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক। 



 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: bdnewshour24 ধর্ষণ