banglanewspaper

কাশ্মীরের পুলওয়ামায় হামলার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে ভারত-পাকিস্তান। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন ভর্তমানকে আটক করে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে পরিস্থিতি নতুন মাত্রা পায়। পাইলটকে ফেরানোর বিষয়ে ভারত কি সিদ্ধান্ত নেবে তা বুঝে ওঠার আগেই বিস্ময়করভাবে পাকিস্তান তাকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণা দেয়।

পাইলটকে ফেরত পেতে চাইলেও পাকিস্তানের এত দ্রুত এমনভাবে মুক্তির সিদ্ধান্তে বেশ চাপে পড়ে ভারত। এই ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে নিজের দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলের সামনে কে কীভাবে বার্তা দিতে পারে, তা নিয়ে শেষমুহূর্ত পর্যন্ত চলেছে ভারত পাকিস্তান সরকারের হার না মানা মনোভাব।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বৃহস্পতিবার সংসদে আচমকাই ঘোষণা করেন, তাদের হাতে বন্দি ভারতীয় পাইলট অভিনন্দনকে  শুক্রবার ভারতের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই ঘোষণায় বেশ চাপে পড়ে যায় দিল্লি। আটক পাইলটকে ঢাকঢোল পিটিয়ে দেশে ফিরিয়ে ইমরান গোটা বিশ্বে নায়ক হয়ে উঠবেন, এটা কোনোভাবেই চায়নি নয়াদিল্লি। এই অবস্থায় মোদি সরকার প্রস্তাব দেয়, অভিনন্দনকে দেশে ফেরাতে বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ বিমান পাকিস্তানে যাবে। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিয়ে পাকিস্তান জানায়, ওয়াঘা-অটারী সীমান্ত দিয়েই ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হবে অভিনন্দনকে।

ইসলামাবাদ তাদের প্রস্তাব খারিজ করায় দিল্লি পাল্টা চালে ওয়াঘা-অটারী সীমান্তের জাতীয় পতাকা নামিয়ে আনার ‘রিট্রিট সেরিমনি’ বাতিল করে দেয়। যাতে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে, পাকিস্তানের দিক থেকে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ ধ্বনির মধ্যে অভিনন্দনকে ভারতের মাটিতে পা না রাখতে হয়। পাকিস্তান কিন্তু ওই অনুষ্ঠান বাতিল করেনি। প্রথমে ঠিক ছিল, সূর্যাস্তের আগেই অভিনন্দনকে ভারতের হাতে তুলে দেবে পাকিস্তান। কিন্তু অন্তত দু’বার সেই সময় বদল হয়। শেষ পর্যন্ত রাত ন’টা ২১ নাগাদ দেশের মাটিতে পা রাখেন অভিনন্দন।

পাইলটকে মুক্তির সময় দুই দেশের এমন অবস্থানের বিষয় ব্যাখ্যা করে কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, মোদি লোকসভা ভোটের আগে পাকিস্তানকে নিয়মিত চোখ রাঙাচ্ছেন। বলছেন, বালাকোটে বিমান বাহিনীর হামলা নিছক ‘পাইলট প্রোজেক্ট’ ছিল, এখনও আসলটা বাকি।

সেই আবহে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান কিন্তু নিজেকে কার্যত ‘শান্তির দূত’ হিসেবে তুলে ধরছেন। বলছেন, তার দেশ যুদ্ধ চায় না। তাছাড়া যুদ্ধ শুরু হলে তার বা মোদির হাতে লাগাম থাকবে না। বস্তুত, এমন ভূমিকার জন্য শুক্রবার পাকিস্তানের অন্দরমহল থেকে ইমরানকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার দাবিও উঠে গিয়েছে। টুইটারে ‘#নোবেল পিস প্রাইজ ফর ইমরান’ নামে ঝড় তুলেছে পাকিস্তানিরা।

মোদি সরকারের দাবি, ইমরানের সরকার মুখে বলছে, ভারতের সঙ্গে সীমান্তে উত্তেজনা কমাতেই তারা অভিনন্দনকে ছেড়ে দিয়েছে। বাস্তবে ভারতের তৈরি কূটনৈতিক চাপের মুখেই মাথা নত করে ইমরান পাইলটকে ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

ভারতের একটি সূত্র আনন্দবাজারকে যু্ক্তি উপস্থাপন করে বলেছে,  ইমরান তথা পাক-প্রশাসন দুনিয়ার সামনে ‘শান্তির বার্তা’ দিতেই ওয়াঘা-অটারী সীমান্ত দিয়ে অভিনন্দনকে ফেরত পাঠিয়েছে। যাতে প্রচারের ক্যামেরা শুক্রবার সকাল থেকে এই ঘটনার ওপর থাকে। ১৯৯৯ সালে কারগিল যুদ্ধের সময় পাকিস্তানের হাতে বন্দি হওয়া বিমান বাহিনীর পাইলট নচিকেতাকে পাকিস্তান ৮ দিন পরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস’ এর হাতে তুলে দিয়েছিল। তাকেও ওয়াঘা সীমান্ত দিয়েই ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।

ভারতের পরিকল্পনা ছিল, ইসলামাবাদ থেকে সরাসরি অভিনন্দনকে দিল্লি উড়িয়ে আনা হবে। তারপর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর তার সঙ্গে বিমান বাহিনীর শীর্ষকর্মকর্তারা কথা বলবেন বা তাকে ‘ডিব্রিফিং’ করা হবে। তারপরই তাকে প্রকাশ্যে আনা হবে। কিন্তু পাকিস্তান সেই প্রস্তাব খারিজ করে অভিনন্দনকে প্রথমে বিমানে লাহোর নিয়ে আসে। সেখান থেকে ওয়াঘায় এনে ভারতের হাতে অভিনন্দনকে তুলে দেয়। 

এ ঘটনায় অনেক ভারতীয় পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসায় মেতেছেন। অনেকেই বলছেন, রাজনীতির মাঠে ক্রিকেটের চালে মোদিকে হারিয়ে দিয়েছেন ইমরান খান।

ট্যাগ: bdnewshour24 পাইলট পাক-ভারত