banglanewspaper

পাকিস্তান থেকে মুক্তি পাওয়া ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানের শরীরে মাইক্রোচীপের সন্ধান পায়নি ভারত। কোনো দেশ শত্রু দেশের যুদ্ধবন্দিকে তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে আড়ি পাতার জন্য তার শরীরে বিভিন্ন চিপ লাগিয়ে দিতে পারে। এটি খতিয়ে দেখতেই অভিনন্দনের শরীর পরীক্ষা করেছে ভারত।

অভিনন্দনের শরীরে পাকিস্তানের কোনো মাইক্রোচিপের সন্ধান না পেলেও তার মেরুদণ্ড ও পাঁজরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছেন তিনি। শারীরীকভাবে কিছুটা অসুস্থ হলেও দ্রুত নিজ দায়িত্বে ফিরতে চান অভিনন্দন। দ্রুত যুদ্ধবিমানর ককপিটে বসতে চান তিনি।

একটি সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অভিনন্দনের শরীরে কোনও রকম ‘বাগ’ বা আড়ি পাতার চিপের সন্ধান মেলেনি। পাকিস্তান এই ধরনের ‘বাগ’ তাদের হাতে বন্দিদের শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে সন্দেহ করা হয়। তাই নিয়ম মেনে অভিনন্দনের শরীরে এমআরআই স্ক্যান ও অন্য পরীক্ষা করা হয়।

জানা গেছে, স্থানীয় পাকিস্তানিদের হাতে পড়ে মারধর খাওয়ার ফলে অভিনন্দনের পাঁজরে চোট লেগেছে। তার মেরুদণ্ডের নিচের অংশেও চোট রয়েছে। অভিনন্দন যে মিগ যুদ্ধবিমান নিয়ে পাকিস্তানের এফ সিক্সটিন বিমানের পিছনে ধাওয়া করেছিলেন, তা পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় পড়ায় তাকে বিমানের ককপিট থেকে বেরিয়ে পড়তে ‘ইজেক্ট’ করতে হয়। সেই সময় মেরুদণ্ডে চোট লেগে থাকতে পারে বলে চিকিৎসকদের ধারণা।

শুত্রবারই ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ফেরেন অভিনন্দন। অমৃতসর থেকে দিল্লিতে নিয়ে আসার পর প্রথমে তাকে বায়ুসেনার সেন্ট্রাল মেডিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তাকে আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফেরাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিনন্দন দ্রুত ককপিটে ফিরতে চাইলেও সেনা সূত্রের খবর, আগামী ১০ দিন অভিনন্দনের নানারকম পরীক্ষা ও চিতিৎসা চলবে। অভিনন্দনের উপর পাকিস্তানি সেনা শারীরিক অত্যাচার না চালালেও, মানসিক চাপ তৈরি করেছিল। তাকে জেরাও করা হয়েছিল। কয়েক দফায় গোয়েন্দা, সেনা ও বায়ুসেনার কর্তারা অভিনন্দনের সঙ্গে কথা বলেছেন। এই ‘ডিব্রিফিং’ প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে পাকিস্তানে কী ধরনের আচরণ করা হয়েছে, তিনি কী বলেছেন, তা জানার চেষ্টা করা হয়েছে।

একইসঙ্গে এ বিষয়ে তিনি পরিবার ও সহকর্মীদের সামনে কতখানি মুখ খুলবেন, তাকে ভবিষ্যতে কীভাবে চলতে হবে, তা বোঝানোর কাজ শুরু হয়েছে। বায়ুসেনার কর্তারা বলছেন, সুস্থ হয়ে ওঠার পাশাপাশি অভিনন্দনের মানসিক ভাবে ধাতস্থ হওয়াও প্রয়োজন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় পিএসআরএফের গাড়ি বহরে হামলায় ৪০ জন নিহত হয়। পাকিস্তানের এই হামলার দায় দিয়ে জবাব হিসেবে পাক নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে হামলা চালায় ভারত। এরপরই দুই দেশ পাল্টপাল্টি হামলা চালায়। সেসময়ে ভারতের মিগ টোয়েন্টি ওয়ান যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে তার পাইলট অভিনন্দনকে আটক করে পাকিস্তান। তাকে ফেরাতে ভারত যখন উদগ্রীব তখনই তাকে শান্তি দাবি করে শর্তবিহীন মুক্তি দেয়া পাকিস্তান।

ট্যাগ: bdnewshour24 অভিনন্দন পাকিস্তানের মাইক্রোচিপ ভারত