banglanewspaper

যদি বলা হয় টাকা ছাড়া দুনিয়া অচল তবে মনে হয় খুব একটা বাড়িয়ে বলা হবে না। কারণ এই জীবন সংসারে টাকা ছাড়া কিছুই হয় না। এটাই বাস্তবতা। তবে সবই যে এই রীতিতে চলবে এমনটাও ভাবা ভুল হবে। কারণ এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়। 

এই যেমন ভারতের কেরালা রাজ্যের আলপ্পুঝা জেলার ‘জনকীয় ভক্ষণশালা (জনতা ভোজনালয়)’। এই রেঁস্তোরায় খেতে কোনো টাকা লাগে না।  ভারতের ‘দ্য হিন্দু’ পত্রিকা এমন খবরই জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, রেঁস্তোরাটির লক্ষ্য হচ্ছে-‘যতটা পারেন খাবার খান, আর যতটা পারেন ততোটাই মূল্য দিন। না দিলেও কোনো আপত্তি নেই।’ রেস্তোরাঁর মালিকের মতে, রাজ্যের মানুষ ক্ষুধা সহ্য করুক, তা তিনি চান না।

জেলার সিপিএম পরিচালিত ‘প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিট’-এর তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন অন্তত এক হাজার মানুষকে ভরপেট খাওয়ানোই লক্ষ্য এই রেঁস্তোরার। এমনটাই জানিয়েছেন ‘জীবনথালম’ (প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিট)-এর আহ্বায়ক আর রিয়াস। কেরালার স্টেট ফিনান্সিয়াল এন্টারপ্রাইজের সিএসআর ফান্ডের সহায়তায় এই হোটেলটি দরিদ্র এবং সাধারণ মানুষের মুখে সুলভে বা প্রয়োজনে বিনামূল্যেই দুমুঠো খাবার তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি তহবিলের সহায়তা ছাড়াও আলপ্পুঝার অনেক স্থানীয় বাসিন্দা আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

জানা গেছে, দোতলা এই রেঁস্তোরা তৈরিতে খরচ পড়েছে ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এখানে দিনে ২ হাজার মানুষের জন্য রান্না হয়। একতলা থেকে দোতলায় ওঠার জন্য লিফট রয়েছে। টাকা নেওয়ার জন্য কোনও কোষাধ্যক্ষ নেই। তবে বাইরে একটা দানবাক্স রয়েছে। গত বছরের ৩ মার্চ এই রেঁস্তোরাটির যাত্রা শুরু হয়।

এমন একটি রেঁস্তোরা তৈরির আইডিয়াটি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী থমাস আইজ্যাকেরই মাথা থেকেই এসেছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ক্ষুধা পেলেই এখানে চলে আসুন। টাকা না থাকলেও চলবে। 

ট্যাগ: b