banglanewspaper

ম্যাডাম বলে সম্বোধন না করায় স্থানীয় এক সংবাদকর্মীর ওপর চটে গেলেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জরিনা খানম। উত্তেজিত হয়ে এ সময় ইউএনও সাংবাদিককে বলেন, আপনি কতদিন ধরে সাংবাদিকতা করেন। আপনি জানেন না একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতাকে স্যার বা ম্যাডাম বলতে হয়।

পেশাগত কাজে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের স্থানীয় প্রতিনিধি সৈকত নির্বাহী কর্মকতার বক্তব্য জানার জন্য ফোন করেন। মুঠোফোনে আলাপের মাঝে তাকে  আপা বলে সম্বোধন করায় উত্তেজিত হন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে বাক-বিতন্ডা হয়।

একপর্যায়ে ওই সংবাদকর্মী বললেন ইতোপূর্বে তিনি একজন বিদায়ী জেলা প্রশাসককে আপা বলে সম্বোধন করেছেন। এতে সেই জেলা প্রশাসক কোন আপত্তি করেননি। কিন্তু জরিনা বলেন আমার সাথে সেটি চলবেনা। আমাদের চাকরিতে নিয়ম-কানুন আছে। অবশ্যই আমাকে স্যার বা ম্যাডাম বলে সম্বোধন করতে হবে। অন্য কারোর সঙ্গে আমাকে বিবেচনা করা যাবে না।

এদিকে, একই এলাকায় কর্মরত একাধিক সাংবাদিক জানান, সম্প্রতি জাতীয় দৈনিকের একজন সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জরিনা খানমকে আপা বলায় চরম ক্ষিপ্ত হয়ে আশালীন আচরণ করেন।

এলাকার জনগণ দাবি করেন, বেড়ায় যোগদানের পর এ জরিনা শুধু সাংবাদিক নয়, জনসাধারণের সঙ্গে খুবই খারাপ আচরণ করেন। উপজেলার একজন কর্মকর্তার এমন আচরণে সবাই অতিষ্ঠ হলেও কেউ মুখ খুলতে সাহস করেননা।

এ বিষয়ে একজন সাংবাদিক নেতা বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে আমরা কাজ করি না। কাজেই তাকে স্যার বা ম্যাডাম বলার প্রশ্নই ওঠে না।

কিন্তু এ জরিনাই গত ক’দিন আগে দেশের বোঝা হয়ে চাকরির নেশায় ঘুর ঘুর করেছিল। নগদ টাকার নেশা তাকে পাগল করে তুলেছিল। সংগ্রাম করে দেশের মানুষের জন্য কোন কল্যাণময় উদ্যোগ নেয়ার সাহস তো দূরের কথা। তার কোন উদ্যোক্তা হবার ইচ্ছাই তার ছিলনা। কারণ উদ্যোগের মাঝে রয়েছে ঝুঁকি। 

যে দেশের প্রতিটি সেক্টরেই সীমাবদ্ধতা ও অপূর্ণতা বিরাজমান সে দেশে জরিনাদের মতো স্যার-ম্যাডাম সম্বেধন প্রত্যাশী উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন জরিনারা দেশের প্রতি সামান্য দায়বদ্ধ না থেকে নিজের জীবনের নিশ্চয়তা স্থায়ী করে নেয়াকেই শ্রেয় মনে করেন। রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয়ার হাল ধরার বদলে তারা রাষ্ট্র থেকে ঝঁকি বিহীন সুবিধা নেয়ার পথকেই বেঁচে নিয়েছেন। কারণ তারা জানে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি খরাসহ যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাষ্ট্র যতোই দুর্দশায় থাকুকনা কেন? যতোই মানবেতর হোক দেশের মানুষের জীবন? জরিনাদের কিছুই হবেনা। বেতনের একটি কড়িও কম দেয়া হবেনা। তাদের বেতন ঠিকই মাস শেষে পৌঁছে দেয়া হবে। 
কিন্তু নিজের জীবনকে আরামদায়ক করতে জরিনা চাকরিটি নেয়ার পর সে তার মূল পরিচয়ের কথা ভূলেই গেছে। সে ভূলে গেছে রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের অধিনে সে সামান্য একজন কর্মচারি। সে লোকটি রাস্তায় ভিক্ষা করে জীবনযাপন করে তার পকেট থেকেও জরিনাদের বেতনের একটি অংশ নেয়া হয়। 

শুধু জরিনাদের দোষ দিলেই হবেনা। আমাদের দোষও কেবল কম নয়। আমরা শুধু কাওকে অসহায় পেলেই তার উপর প্রভাব খাটাতে পারি। নিরুপায় কাওকে পেলেই তাকে বিপদে ফেলতে পারি। কিন্তু জরিনাও তো আমাদের কর্মচারি মাত্র। তাদের নিকট থেকে আমাদের কাজটুকুও বোঝে নিতে পারিনা। জরিনারা শত অপরাধ করলেও আমরা তার প্রতিবাদও করতে আমরা সাহস করিনা। কেন পারিনা আমরা সেটিও আমরা বোঝতে পারিনা। 

আবার এ কথাও উল্লেখ্য যে, আমাদের জনগণের প্রতিনিধিরা জরিনাদেরকে অপব্যবহার করে বলেই আমরা তাদের নিকট জিম্মি ও দুর্বল থাকি। জনপ্রতিনিধিরা সেচ্ছাচারিতা ও অপরাধ থেকে রক্ষা পেতে এবং অপরাধের পথ সুগম করতে জরিনাদের মতো আমলাদের অপরাধের অংশীদার করে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার করণের তাদের ভিতরে জনগণের বিরুদ্ধাচরণ করার প্রবণতা তৈরি হয়। 

আমাদের আবেককেও আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে অক্ষম। আমরাও জরিনাদের মতো আমলাদের মাঝে মাঝে অতিরিক্ত ভালোবাসতে যাই। অতিরিক্ত ভালোবাসার মোহে তাদের ভাই, আপু, চাচা, মামা এসব ডাকতে যাই। সে কারণে তারাও আমাদের জন্মের মতো শিক্ষা দিয়ে ছাড়ে। তারা তো এমন কোন আবেক বা ভালোবাসার প্রত্যাশা করেনা। তারা শুধু সবার চেয়ে আলাদা হয়ে তাদের কাঙ্খিত সুযোগ সুবিধা গুলোই প্রত্যাশা করে। সুতারাং তাদের কে শুধুমাত্র নাম ধরে ডেকে পেশাদারিত্বের অবস্থানে অটুট থাকাই আমাদের জন্য শ্রেয়। ভ্রাতৃত্ব নয়, আমাদের উচিত সর্বদা তাদের সঙ্গে মালিক চাকরের সম্পর্ক বিদ্যমান রাখা। তাহলেই তাদের তাদের অবস্থান ও দায়িত্ব প্রতি সর্বদা অবগত থাকবে।

 লেখক: শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক
 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: bdnewshour24 মতামত মোহাম্মদ আবদুল্লাহ মজুমদার