banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চত্ত্বরে থাকা ‘সুরক্ষিত’ গ্যারেজ থেকে একটি এ্যাম্বুলেন্সের যন্ত্রাংশও চুরি যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ্যাম্বুলেন্সের যন্ত্রাংশের সার্বিক বিষয়ে গত ২৮মার্চ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ফতেহ আকরামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও প্রায় এক সপ্তাহ পরও তদন্ত কমিটি এখনও তাদের কাজই শুরু করেননি বলে জানা যায়।

হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস ধরে হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্স চালক শিমুল মিয়া অন্যত্র বদলী হয়ে যাওয়ার পর হাসপাতালটি চালক শূণ্য হয়ে পড়ে। এতে সচল অ্যাম্বুলেন্স দুইটিও গ্যারেজে বন্দি হয়ে পড়ে। চালকের অভাবে রোগীর প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স দুইটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক বরাবর আবেদন করলেও অদ্যবদি চালক নিয়োগ হয়নি।

এদিকে, সরকারী দায়িত্ব পালনের কাজে হাসপাতালের চারটি মোটরসাইকেলও হাসপাতালে থাকে না বলেও জানা যায়। মোটরসাইকেলগুলো কয়েক ব্যক্তি তাদের বাসায় রেখে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করারও সত্যতা পাওয়া গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুহাম্মদ মঈনুল হক খান জানান, সরকারি এ্যাম্বুলেন্সে দীর্ঘ দিন ধরে  চালক না থাকায় বিরম্ভনায় পড়তে হচ্ছে। হাসপাতালের শুরুর দিকে সরকারী বরাদ্দকৃত প্রথম এ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজের বাইরে খোলা আকাশের নীচে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

অপর তিনটি এ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের গ্যারেজের সুরক্ষিত তিনটি কক্ষে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি এ্যাম্বুলেন্স কয়েক বছর ধরে অকেজো অবস্থায় গ্যারেজের ভেতরই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিলো। কিন্তু সম্প্রতি গ্যারেজের ওই কক্ষে গিয়ে দেখা গেছে নষ্ট অ্যাম্বুলেন্সটির বেশ কিছু যন্ত্রাংশও খোয়া গেছে।

মইনুল হক খান আরো বলেন, সরকারী কাজে ব্যবহারের জন্য এ হাসপাতালে চারটি মোটরসাইকেল থাকলেও কোনদিনও সেগুলো  হাসপাতালে আমার চোখে পড়েনি। এমনকি, যোগদানের দেড় বছর পরেও  নিজের পদের বিপরীতে বরাদ্দকৃত মোটরসাইকেলটি হাসপাতাল চত্ত্বরে দেখতে পাননি বলে জানান।

তবে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ফতেহ আকরাম জানান, ‘তদন্ত কমিটির তিনজনই মেডিকেলের বাইরে প্রশিক্ষণ কাজে থাকায় বৃহস্পতিবারও (৪ এপ্রিল) তদন্ত কাজ শুরু করতে পারেননি।’

খবর নিয়ে জানা গেছে, হাসপাতালে কর্মরত প্রধান অফিস সহকারী মো. জালাল উদ্দিন তা কয়েক যুগ ধরে ব্যবহার করছেন।

বৃহস্পতিবার জালাল উদ্দিন সাংবাদিকদের সামনে তা স্বীকার করে জানান, মোটরসাইকেলটি নিজের গ্রামের বাড়ি নিয়ে গেছেন এবং দুর্ঘটনায় পড়ে তা বিকল হয়ে তার গ্রামের বাড়িতেই পড়ে আছে। অপর তিনটির মধ্যে একটি ব্যবহার করেন স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মো. রফিকুল ইসলাম, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মো. মাজেদ আহমেদ এবং পরিসংখ্যান বিদ মো. আমানুল্লাহ। মোটরসাইকেলগুলো ব্যবহার করার পর তা হাসপাতালে রাখার নিয়ম থাকলেও তা তারা মানছেন না। এ ব্যাপারে একাধিক বার সতর্ক করলেও কোন লাভ হয়নি বলে দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে জানানো হয়।

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন মুঞ্জুরুল হক জানান, ‘এ বিষয়ে আমাকে জানানো হয়েছে। যেহেতু তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তাদের প্রতিবেদন না দেয়ার আগে আমি কোন মন্তব্য করতে পারবোনা। তবে, সেখানে স্টাফদের মধ্যে কিছু আভ্যন্তরিক কোন্দল থাকায় এমন সমস্যা হতে পারে। তদন্ত শেষে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে ‘

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স