banglanewspaper

ফেনীর সোনাগাজীতে দুর্বৃত্তের দেয়া আগুনে দগ্ধ মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হয়েছে সর্বোচ্চ চিকিৎসা। উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়ার কথা ছিল সিঙ্গাপুর। কিন্তু সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে বুধবার রাতে না ফেরার দেশে চলে যান এই শিক্ষার্থী।

মেয়ের মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ হয়েছেন নুসরাতের বাবা একেএম মুসাসহ পরিবারের সবাই। তারপরেও প্রধানমন্ত্রীসহ সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নুসরাতের বাবা বলেন, ‘এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নাই। আমি আমার মেয়ের হত্যার দ্রুত বিচার চাই। আমার মেয়ে হত্যার বিচারটা যেন দ্রুত হয়। যারা অপরাধী তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। তাহলেই আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে যখন নুসরাতের লাশের ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল চলছিল তখন বাইরে অপেক্ষমাণ তার বাবা এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

বুধবার রাত নয়টার দিকে মারা যায় নুসরাত। এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বত্র চলছে নিন্দার ঝড়। সবাই নুসরাতের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছেন।

নুসরাতের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও গভীর শোক প্রকাশ করে ঘটনায় জড়িতদের ছাড় না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

নুসরাতের বাবা বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আপনাদের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আপনারা আমার মেয়ের জন্য অনেক করেছেন। এখানকার চিকিৎসকরা আমার মেয়েকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বাঁচাতে পারেনি। এখন আমার আর কিছুই চাওয়ার নাই। আমি আমার মেয়ের হত্যার দ্রুত বিচার চাই। আমার মেয়ে হত্যার বিচারটা যেন দ্রুত হয়। যারা অপরাধী তারা যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়। তাহলে আমার মেয়ের আত্মা শান্তি পাবে।’

তিনি বলেন, আমার মেয়ে নিষ্পাপ। তাকে প্রথমে যেভাবে হেনস্তা করা হয়েছে তার প্রতীকার চেয়েছিল আমার মেয়ে। থানায় গিয়েছিল মামলা দিতে, কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। পরবর্তীতে নৃশংসভাবে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলছি।

সবশেষ তিনি বলেন, আমি শুধু আমার মেয়ের শান্তি চাই। আর তা হলো বিচারের মধ্যে দিয়ে।

নুসরাত জাহান সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলা এর আগে তাকে যৌন নিপীড়ন করে বলে অভিযোগ উঠে। এ অভিযোগে নুসরাতের মাশিরিন আক্তার বাদী হয়ে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। এরপর অধ্যক্ষকে আটক করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।

গত ৬ এপ্রিল সকাল নয়টার দিকে নুসরাত পরীক্ষা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে বোরকা পরিহিত ৪/৫ ব্যক্তি নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে তার শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্বজনরা।

সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে নেয়া হয় ফেনী সদর হাসপাতালে। সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মারা যান ফেনীর এই মাদ্রাসাছাত্রী।

ট্যাগ: bdnewshour24 অপরাধী মেয়ের আত্মা নুসরাতের বাবা