banglanewspaper

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির (১৮) হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশ হয়েছে। 

ইহসানুল করিম বলেন, ‘আগুনে পুড়ে মাদরাসাশিক্ষার্থী নুসরাতের মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সেইসঙ্গে তিনি নুসরাতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।’

এর আগে গতকাল রাত সাড়ে ৯টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতলের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে প্রায় ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা যান নুসরাত। রাতেই তার মরদেহ ঢামেকের হিমঘরে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাদতন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে কিছু আলাতম ও তার ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত নুসরাতের নিথর দেহবাহী অ্যাম্বুল্যান্স তার গ্রামের বাড়ি সোনাগাজীর পথে রয়েছে। আসরের নামাজের পরেই পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছে স্বজনরা।  

এইচএসসি পরীক্ষার্থী নুসরাতকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গত ২৭ মার্চ তার মায়ের করা মামলায় ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা প্রত্যাহারে অধ্যক্ষের লোকজনের চাপের মুখেও পরিবার আপস না করলে গত ৬ এপ্রিল সকালে মাদরাসার ভবনের ছাদে মুখোশধারী ৪ জন মিলে নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। 

পরে ফেনী সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওইদিনই নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সব প্রস্তুতি নেয়া হলেও অপেক্ষা ছিল শুরু শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মেনে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন নুসরাত। 

এদিকে লাইফ সাপোর্টের যাওয়ার আগে গত রবিবার অগ্নিদগ্ধ ওই মাদরাসাছাত্রী চিকিৎসকদের কাছে জবানবন্দি দিয়ে বলেন, ‘নেকাব, বোরকা ও হাতমোজা প‌রি‌হিত চারজন আমার গা‌য়ে আগুন ধ‌রি‌য়ে দেয়। ওই চারজ‌নের একজনের নাম শম্পা।’

গত মঙ্গলবার সকালে সেই শম্পাকে সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে সোনাগাজী থানার পুলিশ বলছে, গ্রেফতার করা ওই নারীর নাম উম্মে সুলতানা ওরফে পপি। 

গতকাল বুধবার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে ৭ ও তার দুই সহযোগী মাদরাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নূরুল আফসার উদ্দিন ও ছাত্র আরিফুল ইসলামকে ৫ দিন করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে সোনাগাজী উপজেলা আমলি আদালত। গত ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমদুল হাসান নোমানের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রধানমন্ত্রী