banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কর্মসূচি’ খাতে বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন নরসিংদীর মনোহরদীর কৃতি সন্তান ড. মাহমুদুল হাসান।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাছ থেকে তিনি এই সম্মাননা নেন তরুণ এই বিজ্ঞানী। তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘Cryptic Biodiversity Of Fresh Water Species In Bangladesh.’

বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ এবং গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

ড. মাহমুদুল হাসান বিজ্ঞান গবেষনায় অনুদান প্রদান করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বারের সাবেক উপাচার্য ড. আ আ স ম আরেফিন সিদ্দিক প্রধানমন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। 

সাবেক এই উপাচার্য বলেন- ‘ড. মাহমুদুল হাসান একজন জ্ঞান অনুসন্ধিচ্ছু মানুষ। শুধু বিজ্ঞান নয়, সমাজ-সংস্কৃতি, ইতিহাস ইত্যাদি নিয়েও চিন্তা করে। তার মতো মেধাবীরা যত বেশি শিক্ষকতা পেশায় আসবে, নতুন প্রজন্ম তত বেশি অনুপ্রাণিত ও উপকৃত হবে। এমন পুরস্কারের প্রাপ্তি তাকে যেমন অনুপ্রাণিত করবে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের উৎসাহিত করবে।’

জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটস অধ্যাপক ড. মাসায়ুকি সুমিদা বলেন, ‘ড. হাসান আমার অধীনে পিএইচডি করেছিল। আমি তার অধ্যাপনা ও গবেষণার উত্তরাত্তর সফলতা কামনা করি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান অধ্যাপক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিয়ামুল নাসের বলেন, ‘দেশে ব্যাঙ নিয়ে যে কয়েকজন কাজ করেছেন তাঁর মধ্যে মাহমুদুল হাসান অন্যতম। তার গবেষণা আমাদের জীববৈচিত্র কে সমৃদ্ধশালী করবে।

নরসিংদীর হাতিরদিয়া ছাদত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোহরাব উদ্দীন বলেন, ‘হাসান আমার ছাত্র। তাকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। আমি ছাত্র হিসেবে একজন প্রাণী বিজ্ঞানী পেয়েছি। তার মতো নম্র-ভদ্র ছাত্র আমার শিক্ষকতা জীবনে কম দেখেছি। হাসান আমার স্কুলের প্রতিটি ক্লাসের মেধাবীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করছে। প্রতিটি গ্রামে একজন করে হাসান জন্ম নিলে শিক্ষার আলো আসবেই।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুদান পেয়ে উৎসাহিত ড. মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাঙ, এমনকি মাছ নিয়ে ট্যাক্সনোমি এবং মলিকুলার পর্যায়ে কাজ করছি। বিশেষ করে ব্যাঙের দেহের চামড়ার নিঃসৃত রস থেকে যেসব এন্টি মাইক্রোবিয়াল পেপটাইড পাওয়া যায়, যা ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক  কিংবা ট্রান্সপ্লান্ট  রোগীর রক্ত সংবহন  কে নিয়ন্ত্রণ করে,তাদের কে নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করতে চাই, যা সরাসরি ভাবে মানুষ জাতির উপকারে আসবে। এক্ষেত্রে আমার এই প্রাপ্তি আমাকে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবে।’

উল্লেখ্য, ড. মাহমুদুল হাসান ফিরুজ মনোহরদী উপজেলার হাতিরদিয়া এলাকার চঙ্গভাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হাতিরদিয়া ছাদত আলী উচ্চ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে ফিশারিজে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে মনোবুকাগাকুশু বৃত্তি নিয়ে পাড়ি জমান জাপানে। হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট এবং পোষ্ট ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এই বিজ্ঞানী ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারবছর অধ্যাপনা করেন। বর্তমানে দেশে অধ্যাপনার পাশাপাশি গবেষণারত আছেন।

তিনি বাংলাদেশের ১০৭ টি ব্যাঙ নিয়ে মলিকুলার পদ্ধতিতে ডিএনএ বারকুডিং এনালাইসিস করে আটটি নতুন প্রজাতির ব্যাঙ আবিষ্কারসহ তিনটির বৈজ্ঞানিক নামকরণ করেন। তারমধ্যে একটি ব্যাঙের নামকরণ করেন শিবপুরের কৃতি সন্তান দেশের প্রতিথযশা মৎস্য বিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত অধ্যাপক ড. মোখলেসুর রহমান খানের নামে (Microhyla Mukhlesuri)।

এছাড়াও বর্তমানে দু-মোখ সাপ (Blind snake) এর জিন গবেষণা, স্বাদু পানির জীব বৈচিত্রের রহস্যসহ বেশ কয়েকটি গবেষণা জাপান সরকার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় চলমান আছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 জীববৈচিত্র