banglanewspaper

স্বরূপকাঠী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: পিরোজপুরের স্বরূপকাঠীতে ২নং বলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবহৃত ভবন দুটি মৃত্যুফাঁদে পরিনত হয়েছে। বিদ্যালয়ের ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা উঠে গিয়ে মাঝেমধ্যে খসে পড়ছে, ফলে প্রায়ই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দুটি ভবনে পাঠদান করেন শিক্ষকরা। ভবন দুটি আপাত দৃষ্টিতে ভাল মনে হলেও কার্যত ক্ষেত্রে দুটি ভবনই এক পাশ থেকে দেবে গেছে। ফলে ভূমিকম্পের মত কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অচিরেই ধস নামতে পারে এ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের।

এদিকে অধিকাংশ দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দেয়ায় ভিতসন্ত্রস্ত হয়ে ক্লাশ করছে শিক্ষার্থীরা। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন শিক্ষকসহ অভিভাবকরা। তাই খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের  সুদৃষ্টি কামনা এলাকার সচেতন মহলের। 

১৮৭৫ সালে স্থাপিত হওয়া এ বিদ্যালয়ের অধিকাংশ পলেস্তারা খসে যাওয়ায় ভবনে ব্যবহৃত রড অনেক জায়গা থেকে বের হয়ে গেছে। অবকাঠামোগত দিক দিয়ে বিদ্যালয়ের ভবন দুটি পাকা হলেও বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি শ্রেণীকক্ষে পড়ে, তাই পাঠদান ব্যহত হওয়া ঠেকাতে ছাদে টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৫ বছর আগে নির্মিত ভবনে বারবার সংস্কার করার পরও মেঝে থেকে নিয়মিত মাটি ওঠা ঠেকানো যাচ্ছেনা। তাই অনেকটা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা।

২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী সবুজ জানায়, আমাদের স্কুলের দেয়াল অনেক জায়গায় ফেঁটে গেছে এবং অনেক সময় এর অংশ গায়ে পড়ে তাই ক্লাশ করতে ভয় লাগে। বৃষ্টির সময় ক্লাশে পানি পড়ে বই খাতা ভিজে যায়।

বিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি শরীফ মোঃ মুনির হোসেন জানান, পুরনো ভবনে পাঠদান করা মৃত্যুফাঁদে রূপ নিয়েছে। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রাণ রক্ষার্থে পুরনো ভবনগুলোকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে শীঘ্রই নতুন ভবন তৈরীর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এলাকার প্রবীন শিক্ষানুরাগী মধু ডাক্তার জানান, ১০ ও ১৫ বছর আগের নির্মিত ভবনের ছাদে মাটি এবং বালি দিয়ে প্রলেপ দেয়া তাই বৃষ্টি আসলেই রুমের ভিতর পানি পড়ে। শিক্ষক শিক্ষার্থীরা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাশ করছে, যেকোন সময় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা আছে।

এদিকে খাল তীরবর্তী হওয়ায় প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থীকে নৌকাযোগে খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে হয়। নিয়মিত ছোট বড় ট্রলার চলাচলের কারনে তাদের ঝুঁকি দ্বিগুন মাত্রা যোগ করেছে। নৌকায় ঘাটে ওঠানামা করতে গিয়ে নিয়মিত ঘটছে দুর্ঘটনা। তাই এসব ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য শীঘ্রই একটি পুল নির্মাণের দাবি করছেন এলাকার সচেতন মহল। ৩য় শেণীর শিক্ষার্থী সুমা জানায়, নৌকায় পার হতে গিয়ে অনেক সময় আমাদের খুব কষ্ট হয়, মাঝেমাঝে খেয়া পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বড় ট্র্রলার আসলে তখন খেয়া পার হতে ভয় লাগে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম হোসাইন জানান, আমাদের বিদ্যালয়ের দুটি ভবনের অবস্থাই অত্যন্ত নাজুক। বৃষ্টির সময় ছাদের অনেক ফাটল থেকে পানি পড়ে। যেকোন সময় বিদ্যালয়ের দেয়াল বা ছাদের পলেস্তারা ধসে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত দিক থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই আমরা অনেক অসুবিধায় আছি। উধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কয়েকবার যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত আশানুরূপ ফল পাইনি। তাই শিক্ষার্থীদের আশঙ্কামুক্ত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন ভবন নির্মানসহ পুল তৈরীর জন্য শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

বলদিয়া ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহেল জানান, স্কুল ভবন রক্ষার্থে পাশেই ২০১৭ সালে উপজেলা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ১ লাখ টাকার ওয়াল নির্মান করা হয়েছে। এছাড়াও দলীয়ভাবে ৪ টন টিআরের বাজেট আছে এবং বালি ভরাটের জন্য চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৫০,০০০ টাকার একটি বরাদ্দ দিয়েছি যা এখনো প্রক্রিয়াধীন আছে, শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে। 

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন(বাবু) বলেন, বিষয়টা আমি জানি। অধিকাংশ স্কুলেই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তাই সমি¥লিতভাবে চেষ্টা করছি। অর্থবছর শেষ পর্যায়ে হওয়ায় প্রকল্প নেয়া যায়না, শুরুর দিকে হলে কাজ করা যায় । তবে এ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করবো।

ট্যাগ: bdnewshour24 স্বরূপকাঠী