banglanewspaper

চলতে ভারতের লোকসভা (সাধারণ) নির্বাচন। সাত দফার এই নির্বাচনের ২৩ এপ্রিল। নির্বাচন ঘিরে ক্রমেই উত্তাপ বাড়ছে বাঙালির অধ্যাষুত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে। পুরো জুড়ে নির্বাচন হলেও উত্তাপটা একটু বেশিই এই রাজ্যে। মমতার বাংলায় ঢুকতে সবই করছেন নরেন্দ মোদী।

মোদী দিল্লির সিংহাসনের বসার পর থেকেই মোদী-মমতার দা-কুমরোর সম্পর্ক। দা-কুমরোর সম্পর্কটা আর অবনতি হয়েছে এই নির্বাচনে। প্রতি নির্বাচনী জনসভায় কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছেন না। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন ‘বাংলাদেশ’ চলে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিজেপি নেতারা। তারা অভিযোগ তুলছেন, মমতা তার রাজ্যকে ‘আর একটা বাংলাদেশ’ বানিয়ে ছাড়ছেন। শুধু অভিযোগ তোলাই নয়, পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের আকৃষ্ট করতে মমতাকে বাংলাদেশ চলে যাওয়ার জন্য প্যারোডি গান বানিয়ে রাজ্যময় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিখ্যাত লোকগীতি ‘ও তুই লালপাহাড়ির দ্যাশে যা’-র প্যারোডি করে বিজেপি সমর্থকরা গান বেঁধেছেন ‘ও পিসি তুই চলে যা, বাংলাদেশে চলে যা’। এই গান বিজেপির সমর্থকরা বিপুল হারে ছড়িয়েও দিচ্ছেন ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপে। ইউটিউবেও এই প্যারোডি গানের বেশ কয়েকটি সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে, এই ভোটের মৌসুমে হাজার হাজার মানুষ তা দেখছেনও। সেই গানেই রাজ্যের মুসলিম সমাজের দিকে ইঙ্গিত করে এমন একটি লাইনও আছে, ‘তুই যে শুধু ওদের দেখিস, তোর জন্ম কোন দ্যাশে রে, জন্ম কোন দ্যাশে?’

গানে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়েছে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির নেতাকর্মীরা। কলকাতার রেড রোডে ঈদের নামাজের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেই ছবিও ব্যবহার করা হচ্ছে এই গানে। এছাড়াও গানের ভিডিওতে সাম্প্রদায়িক ও উস্কানিমূলক নানা কথা ও ছবি ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

এছাড়াও বাংলাদেশে সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি হাসি মুখে কথা বলছেন এমন একটি ছবিও একটি ভিডিওতে ব্যবহার করা হয়েছে। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই কথিত ‘মুসলিম তোষণে’র অভিযোগকে তুলে ধরতেই কার্যত ‘বাংলাদেশ’ শব্দটিকেও বারবার প্রয়োগ করছে বিজেপি নেতৃত্ব। কারণ, প্রতিবেশী বাংলাদেশ মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ, এটা কারও অজানা নয়। 

ট্যাগ: bdnewshour24