banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে পরকীয়ার জেরে কারখানা শ্রমিক হাসনা হেনাকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হওয়া হাসনার পরকীয়া প্রেমিক দেবর কমর উদ্দিন স্বীকারোক্তিমূলক এমন জবানবন্দি দিয়েছে। গ্রেফতারকৃত কমর উদ্দিন উপজেলার জাম্বুরিরটেক এলাকার আমজাদ হোসেনের ছেলে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজীব কুমার সাহা জানান, হাসনা হেনা ও কমর উদ্দিনের পরকীয়ায় বাধা হয় স্বামী। এক পর্যায়ে হাসনা হেনা বাড়ি ছেড়ে পোশাক কারখানায় চাকুরী নিয়ে কেওয়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করত। কমর উদ্দিন স্বামীর পরিচয়ে ওই বাড়ীতে নিয়মিত যাতায়াত করত। সম্প্রতি হাসনা হেনা কমর উদ্দিনকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এতে কমর উদ্দিন হাসনা হেনাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত রবিবার রাতে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শ্রীপুর বরমী সড়কের বাসাবাইদ ব্রিজের পাশে নির্জন স্থানে হাসনা হেনাকে নিয়ে যায়। ওই স্থানে দুইজনের মধ্যে কথোপকথনের এক পর্যায়ে কমর উদ্দিন হাসনা হেনাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে মরদেহটি গুন্ডিগড় এলাকার গাড়ারণ কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে ধান ক্ষেতের কিনারে তিসন্ধি (দাতুই গাছ) ঝোঁপের মধ্যে একটি গাছের ডালে পা মাটিতে লাগানো অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখে।

এ ঘটনায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। নিহত হাসনা হেনা বরমী ইউনিয়নের সোনাকর গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে। 

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল  সোমবার সকালে উপজেলার  বরমী ইউনিয়নের গাড়ারন কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন সাত্তার মাস্টারের ধানক্ষেত থেকে ওই নারী শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, গত ৮ বছর আগে একই ইউনিয়নের বরামা জাম্বুরিটেক এলাকার আমজাদ আলীর পুত্র কফিল উদ্দিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। প্রায় ২ বছর ধরে হাসনা আক্তার পৌর এলাকার কেওয়া গ্রামে ভাড়া থেকে স্থানীয়  পারটেক্স গার্মেন্টে শ্রমিক হিসেবে চাকরী করতো।

এ ঘটনায় নিহত নারী শ্রমিক হাসনা আক্তারের স্বামী কফিল উদ্দিনকে প্রথমে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও পরে তার ভাই ও হাসনার পরকীয়া প্রেমিক কমর উদ্দিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর