banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি: কোমড়ের ব্যাথা নিয়ে বুধবার (২৪ এপ্রিল) গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন পৌর এলাকার লোহাগাছ গ্রামের নুরুল ইসলামের স্ত্রী সালমা খাতুন (৪০)। নিয়ম মাফিক ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বহিঃবিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য ৫ টাকা দিয়ে  টিকিট সংগ্রহ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী সালমা খাতুন জানান, টিকিট কাটার পর তাকে ১৩৫ নং কক্ষে যেতে বলা হয়। ওই কক্ষে থাকা মেডিকেল অফিসার ডাঃ  আবুবকর সিদ্দিক তাকে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে একটি প্রেসক্রিপশনে এক্সেসহ ৪ প্রকার ঔষধের নাম লিখে দেন। তবে তিন প্রকারের ঔষধ ফার্মেসী থেকে সংগ্রহ করা হলেও প্রেসক্রিপশনে লিখা তৃতীয় লাইনের ঔষধটির নামের বানান বুঝতে না পারার করনে কোন ফার্মেসী ওই ঔষধ  দিতে পারেনি। 

বহু ফার্মেসী ঘুরে ওই ঔষধ না পেয়ে অবশেষে ১লা মে বুধবার সকালে  হাসপাতালের জরুরী বিভাগে যায় সালমা খাতুন।  কিন্তু সেখানে গিয়েও হতাশ হন তিনি। জরুরী বিভাগে থাকা চিকিৎসক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার  আরিফুর রহমান ও উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার আঃ হালিম এবং সিনিয়র স্টাফ নার্স  মাসুদ পারভেজসহ ওয়ার্ডে কর্মরত ৫জন নার্স ওই প্রেসক্রিপশনে লিখা বানান না বুঝতে পারার কারনে ঔষধের নাম বলতে অপারগতা পোষণ করেন।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার  ডাঃ আবুবকর সিদ্দিকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বাহিরের ফার্মেসী গুলো মূর্খ ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত। প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে  কতক্ষন চিন্তা করে ঔষধের নাম "ওরাডেক্সন" উচ্চারণ করেন তিনি। যা ডেক্সামিথাসন গ্রুপের মাইক্রোনাইজড বিপি ০.৫ মিঃ গ্রাম। স্টেরয়েড হিসেবে অনেক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও  অনেক রোগী থাকলে দ্রুত প্রেসক্রিপশন লিখার কারনে এমন হয় বলেও স্বীকার করেন তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মইনুল হক খান জানান, বিষয়টি আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে অবশ্যই দেখা হবে।

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডঃ সৈয়দ মোঃ মুঞ্জরুল হক মুঠোফোনে  জানান, এমন অস্পষ্ট ভাবে প্রেসক্রিপশন লিখা উচিৎ নয়। স্পষ্ট অক্ষরে ঔষধের নাম লিখলে রোগীরা উপকৃত  হবে। অন্যদিকে ফার্মেসী গুলোতে ঔষধ না পেয়ে তাৎক্ষনিক ওই রোগীর প্রেসক্রিপশন দেয়া ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিৎ ছিল। 

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর