banglanewspaper

অবশেষে রেহাই পেলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তার ওপর যে যৌন হেনস্তার অভিযোগ উঠেছিল তা খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি।

তবে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করা সেই নারী হতাশ হয়েছেন। একই সঙ্গে নিজের অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।

ভারতের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠার পর বিচারপতি এসএ বোবদের তত্ত্বাবধানে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুইজন হলেন বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ইন্দু মালহোত্রা।

রোববার ওই কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, শীর্ষ আদালতের প্রাক্তন মহিলাকর্মী রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিলেন, তা অযৌক্তিক। কোনো প্রমাণ নেই। আর সেই কারণেই সব অভিযোগ খারিজ করে দেয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের সেক্রেটারি জেনারেল জানান, রোববারই তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়েছে। সোমবারই অভিযোগ থেকে মুক্ত করা হয় প্রধান বিচারপতিকে।

ওই নারী অভিযোগ করেন, গতবছর জুনিয়র কোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকাকালীন প্রধান বিচারপতি গগৈয়ের হাতে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন তিনি। সে সময় গগৈয়ের বাড়িতেই নিযুক্ত ছিলেন তিনি। তবে প্রথম থেকে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অস্বীকার করেন প্রধান বিচারপতি। গত ১ মে তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হয়েও তার বিরুদ্ধে ওঠা সবস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন রঞ্জন গগৈ।

তবে ৩০ এপ্রিলই তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন অভিযোগকারী ৩৫ বছর বয়সী ওই নারী।

তিনদিন তদন্ত কমিটির সামনে হাজির হওয়ার পর ওই মহিলা জানান, তাকে জানানো হয়েছিল ঘরোয়াভাবে চলবে এই তদন্ত। শুনানির কোনো রেকর্ডিংও হয়নি। কোনো আইনজীবীকেও তার সঙ্গে থাকতে দেয়া হয়নি। ফলে গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ভারতের প্রধান বিচারপতিকে এমন একতরফাভাবে নির্দোষ ঘোষণা দেয়ায় অসন্তুষ্ট ওই নারী। তিনি বলেন, তার সঙ্গে অন্যায় করা হলো। কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা না হওয়ায় রীতিমতো আতঙ্কে তিনি। আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করবেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 বিচারপতি