banglanewspaper

টাঙ্গাইল পৌর শহরে এক রিকশাচালককে পেটানোর অভিযোগে পুলিশ ভ্যানচালক আবুল খায়েরকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর আহত ওই রিকশাচালকের সকল চিকিৎসা ব্যয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন পুলিশ সুপার।

এ লক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের সভাকক্ষে ওই রিকশাচালকে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় নগদ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। 

সোমবার সকালে শহরের আকুর-টাকুর পাড়া এলাকায় এক রিকশাচালককে পেটানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আহত রিকশা চালক সেলিম মিয়া (৩০) সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের মোখছেদ আলীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শহরের স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে রিকশাটি মেইন রোডে প্রবেশ করার সময় টাঙ্গাইল মডেল থানা থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের যাওয়া পুলিশের একটি পিকআপভ্যানে রিকশাটি লেগে যায়। পরে পিকআপের চালক আবুল খায়ের গাড়ি থেকে নেমে রিকশাচালককে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। হাতে লাঠির আঘাতে রিকশা চালক চিৎকার করে কাঁদতে থাকেন। কিন্তু পুলিশের ওই গাড়িচালক তাকে সহানুভূতি না দেখিয়ে চলে যান। পুলিশের গাড়ি চালককের ওই মারধরের ঘটনাটি প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকেই মুঠোফোনে ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে অনলাইনে ভাইরাল হয়।

সে ঘটনা পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের দৃষ্টি গোচর হলে ওই চালককে প্রত্যাহার করা হয়। আর মঙ্গলবার আহত রিকশা চালককে আর্থিক সহযোগিতা দেয় পুলিশ। 

রিকশা চালক সেলিম মিয়া জানান, আমি টাঙ্গাইল শহরের স্টেডিয়াম মার্কেট থেকে এক যাত্রীকে নিয়ে নিরালা মোড়ের দিকে যাচ্ছিলাম। প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তায় পৌছলে মোড় ঘুড়ানোর সময় নিরালামোড়গামী পুলিশের একটি গাড়ি আমাকে অতিক্রম করার সময় আমার সামনে এসে থামে। তখন ওই গাড়ি থেকে পুলিশের পোশাক পরা এক লোক এসে আমাকে বলে তর গাড়ি চালানো ‘রং’ হয়েছে। তুই মোড় ঘুরাইচ্ছোস, সিগলান মানস নাই, তুই মোড় ঘুরানোর সময় বাম হাত দেস নাই কেন? তখন আমি বলি স্যার আমার ভুল হয়েছে।

পরে পুলিশের গাড়ি থেকে নেমে গাড়ি চালক আমাকে লাঠি দিয়ে মারে। এতে আমার হাতে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছি। বর্তমানে আমার হাত ফুলে গেছে। তিনি আরো বলেন, আমাকে এসপি স্যার নগদ টাকা দিয়েছেন। আমি এতে খুশি হয়েছি। আমি এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই। 

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, চালক আবুল খায়ের যে কাজটি করেছে তা পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার মত। এটি অতি দুঃখজনক। এ কারণে পুলিশের গাড়িচালক আবুল খায়েরকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় তা পুলিশ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে রাতেই তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করে নেয়া হয়। এছাড়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাসুদুর রহমান মুনীরকে প্রধান করে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর চালকের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, ‘এ ঘটনায় রাতেই ওই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। এছাড়াও ওই রিকশা চালককে দেখভালের জন্য একজন ডাক্তার সার্বক্ষণিক দেওয়া হয়েছে। সেইসাথে যে ক’দিন রিকশা চালক কাজ না করতে পারবেন সে ক’দিন তার পরিবারের খরচ আমরা দিবো।’ 

ট্যাগ: bdnewshour24 টাঙ্গাইল পুলিশভ্যান চালক