banglanewspaper

মো. জসিউর রহমান (লুকন) নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: রাতে আটক দিনে মুক্তি, নাগরপুর থানার বাস্তব চিত্র এমনটাই পরিলক্ষিত হচ্ছে টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বিগত কয়েক মাস যাবৎ। সরোজমিনে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বললে নাম না প্রকাশের শর্তে তারা বলেন, গত ১৬.০৫.১৯ তারিখ রাত ১১.৪৫ মিনিটের সময় সন্ত্রাসী ও আদম ব্যবসায়ী চক্রের দ্বারা জিন্মি হওয়া মো. বিদ্যুত (৩৫) ও তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান (৬৫)কে বেকড়া ইউনিয়নের মুশুরিয়া উত্তর পাড়া গ্রামের গোরস্থানের কাছে সন্ত্রাসী তুলা মিয়ার ছেলে জাকির (৩২), চাঁন মিয়া, রফিকুল (৩৬) একটি বাড়িতে বিদ্যুত ও তার পিতা শাজাহানকে অপহরণ করে মারধর করে ও হত্যার ভয় দেখায়।

ঘরের মধ্যে আটকরে রাখে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান বলেন, আমাকে ওরা মারধর করে, গালে স্বজোরে থাপ্পর মারতে থাকে এক পর্যায়ে  আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে যাই, তখন রফিকুল আমার বুকের উপর পা দিয়ে পাড়া দিয়ে দাড়ায়। আমার ছেলে অনেক ভয় পেয়েছে।

আটকৃতদের কাছে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে তারা দ্রুত নিকট আত্মীয়দের বিষটি জানায়। পরে আত্মীয়রা তাদের উদ্ধারে চেষ্টা করলে আত্মীয়দের মারপিট ও হুমকি ধামকি দিয়ে তারিয়ে দেয় সন্ত্রাসীরা। এমত অবস্থায় আত্মীয়রা মোবাইল ফোনে নাগরপুর থানার (ডিওটি আফিসার) পুলিশের সাহায্য প্রার্থনা করলে তিনি তাল-বাহানা করে ওসির নম্বর দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। পরে ভূক্তভূগীরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে সাহয্যের আবেদন করলে বাংলাদেশ পুলিশের নির্দেশে নাগরপুর থানা পুলিশের ৬ সদস্যের একটি দল এসআই অশোক ভূষন সাহা (নি:) এবং এসআই মামুন মৃধার এর নেত্রীত্বে ঘটনা স্থলে পাঠায়।  

তারা ১৭.০৫.১৯ তারিখ রাত ১.৪৫ মিনিটের সময় বিদ্যুত ও তার পিতা শাজাহানকে অপহরনকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে। এসময় অপহরনকারীদের কাছে থাকা দেশী ধারালো অস্র, বড় ছুরি, রামদা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের ছবি বিদ্যুতের আত্মীয়ের মোবাইলে তুললে নাগরপুর থানা পুলিশ জোরপূর্বক তা ডিলিট (মুছে) ফেলে। পরে ভূক্তভূগী বিদ্যুতের কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করে, এক পর্যায়ে নাগরপুর থানা পুলিশের ৬ সদস্য দলপতি এসআই অশোক ও মামুন মৃধা ৩ হাজার টাকা নিয়ে আসামী তুলা মিয়ার ছেলে জাকির ও রফিকুল ইসলামকে ১৭.০৫.১৯ তারিখ মধ্যরাত ২.৩৫ মিনিটে থানায় নিয়ে আসে নাগরপুর থানা পুলিশ।

পরে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেয়া আত্মীয়কে থানায় ডেকে নিয়ে পুলিশের ইচ্ছে মত অভিযোগ লিখে অভিযোগে স্বক্ষর করিয়ে নেয় ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। বার বার শুধু বলতে থাকে তুই ৯৯৯ নম্বরে ফোন কেন দিলি। ভূক্তভূগীরা বলে আমরা পুলিশের কবলে পড়ে রোজা রাখতে পারিনি। আমার পায়ের গোড়ালী কেটে গেছে হাসপাতালে যাচ্ছিলাম পুলিশ আমাকে ফোন করে ক্ষতের ছবি তোলার কথা বলে ডেকে নিয়ে আমাদের সাথে এমন খারাপ ব্যাবহার করল যা ভাষায় প্রকাশ করার মত না। গত ১৭.০৫.১৯ তারিখ দুপুর ১২টার সময় আবার নাগরপুর থানা পুলিশ মামলা লেখার কথা বলে থানায় ডেকে নিয়ে আবার তাদের গালমন্দ করে এবং বাদীকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। বাদীকে পুলিশ বলে আর যদি মামলা করতে চাস তবে টাকা লাগবে ২০ হাজার।এরচেয়ে ভাল তোরা মিলমিশ হয়ে যা।

বাদী যখন তাদের জীবনের নিরাপত্তা চায় তখন এসআই মামুন মৃধা তাদের বলে- আপনাদের জীবনের নিরাপত্তা দেয়া পুলিশের কাজ না, পুলিশ কি আপনাদের বাড়িতে গিয়ে বসে থাকবে। বাদী মামলা করতে চাইলে পুলিশ সদস্য বিভিন্ন ভাবে আপোশ করার জন্য চাপ দেয় এবং থানায় বসে দুই পক্ষকে ড়েকে মিটমাট করে দেয়ার কথা বলে ও বিদ্যুতকে চাকুরির ভয় দেখায়।

অপর দিকে উচ্চ স্বরে বলেন, আমি এসআই মামুন আমার নামে এসপি আফিসে বিচার দিয়ে কোন লাভ নেই। আমি চাইলে ওসি এবং এসপি, ডি আই জি কে ফোন দিয়ে কাজ করিয়ে নিতে পারি। যুগ্ন কমিশনার বাতেন সাব আমার আপন মামার বন্ধু,মনে কইরেনা আমি ছোট মোট মানুষ, আমার তেজ নাই, খোঁজ নিয়ে দেখেন কোদালিয়া থেকে আমার নামে এসপি অফিসে কম্পলেইন করে কিছই/(বালটা ছিড়তে পাড়েনি) করতে পারেনি, নিজেকে জাহির করে মামলার বাদীদের শোনায় নাগরপুর থানার এসআই মামুন মৃধা। বাদীর সামনেই সন্ত্রাসী আসামীদের ছেড়ে দেয় নাগরপুর থানা পুলিশ। বিনিময়ে হাতিয়ে নেয় আসামীদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা। সন্ত্রাসীরা বাদীর সামনে দিয়ে বের হয়ে যাওয়াতে তারা আরও নিরাপত্তাহীনতায় পড়ে। এমত অবস্থায় ভূক্তভূগীরা পুলিশ ও আইনের প্রতি আস্থা হাড়িয়ে ভয়ে মুখ বুজে সয়ে যাচ্ছে অন্যায় অবিচার। 

এমন ঘটনা প্রতিদিন ঘটছে সকাল, দুপুর ও রাতে নাগরপুর থানয়। অসহায় ভূক্তভূগীরা এমত ঘটনায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর সু-দৃষ্টি কামনা করছে। 

নাগরপুর থানার আফিসার ইনচার্জ মো. আলম চাঁদ এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত নই।

ট্যাগ: bdnewshour24 নাগরপুর