banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি: বয়স ৯০ ছুঁই ছুঁই। অসহায়ের মত ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকছেন তিনি। একাকিত্বের সাথে পোকামাকড়কে সঙ্গি করে বারান্দায় শুয়ে আছেন।  স্ত্রীও পাশে বসে কাঁদছে কিন্তু  দেখার মতো কেউ নেই।  এমন এক হৃদয় বিদায়ী দৃশ্য দেখা গেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার নিজমাওনা গ্রামের মাহমুদ আলীর বাড়ীতে। 

বৃদ্ধ মাহমুদ আলীর বসয় ৯০ পেরিয়ে গেলেও এখনো মিলেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড।

বৃদ্ধের স্ত্রী জানায়, অনেকের কাছে গিয়েছি কিন্তু আমাদের দিকে কেউ এগিয়ে আসেনি।  অনেকবার গেলেও বয়স্ক ভাতার সাহায্যও এখনো ভাগ্যে জুটেনী আমাদের।  চার সন্তানের দিকে তাকিয়ে খেয়ে না খেয়েও জীবন পার করছি। 

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, জীবন নামক সংসারের শেষ প্রান্তে  মৃত্যুর আয়োজনের অপেক্ষায় পোকামাকড় সাথে শরীরের নানান ক্ষত নিয়ে এখনো জীবনযুদ্ধে টিকে আছেন।  দিনানিপাত করছেন অন্ধকার প্রকোষ্ঠে। চার ছেলের আর্থিক অবস্থা ভালো থাকলেও কেউ পাশে নেই বলেও জানা যায়।  চিকিৎসার অভাবে জীবন যেন ভাগাড় হিসেবে পরে আছে।

ছেলেদের মধ্যে একজন হাজী, ব্যবসায়ী, ইমামতিও করেন কিন্তু বাবার খোজ রাখেনা বলে জানায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ।তিনি আরো জানান, আরেক ছেলে তাজুল ইসলাম বিদেশ করে  ইটের রং করা পাকা বাড়ীতে থাকলেও বাবা থাকেন অন্ধকার টিনশেডের বারান্দায় । 

জানা যায়, কিছুদিন আগে বৃদ্ধা বন্ধু ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন ওই বৃদ্ধের খোঁজ নিয়ে সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছে।

বৃদ্ধা বন্ধু ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বি জানান, আমরা খবর পেয়ে ওই বৃদ্ধের কাছে যায়। উনার চার ছেলে স্বচ্ছল থাকার পরও পিতার দেখাশুনা করছেনা। এটা খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। ওই বৃদ্ধের জন্য  আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে যথা সম্ভব হয় সবই করা হবে। 

পিতার এ অবস্থা সম্পর্কে বৃদ্ধের ছেলেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে মাওনা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড সদস্য জাকির হোসেন জানান, আমি আপনাদের কাছে ওই বৃদ্ধের খবর পেয়েছি। আমি তাদের বাড়ীতে গিয়ে আগামী বছর বয়স্ক ভাতার তালিকায় উনার জন্য ব্যবস্থা করবো। এ বছর সময় শেষ হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। 

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর