banglanewspaper

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের শেষ ধাপের ভোটের আগের দিন শনিবার (১৮ মে) সকালে ধ্যানে বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অবশেষে রবিবার (১৯ মে) সকালে ধ্যান ভাঙেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সকালে ধ্যান ভেঙে কেদারনাথ গুহা থেকে বেরিয়ে বদ্রীনাথের উদ্দেশ্যে রওনা দেন মোদী।

খবরে আরও বলা হয়, এদিন সকালে এক টুইট বার্তায়, এই ধাপের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটার উপস্থিতির আহ্বান জানিয়েছেন মোদী।

টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আজ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ধাপ। এই ধাপে যারা ভোট দেবেন তাদের সবাইকে আমি রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। আপনার একটি ভোট সামনের বছরগুলোতে ভারতের উন্নয়নের কক্ষপথ নির্ধারণ করে দেবে। আশা করি প্রথমবার ভোটার হওয়া তরুণেরা উৎসাহের সাথে ভোট দেবে’।

নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অনুমতি নিয়ে শনিবার দুই দিনের সফরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান উত্তরাখন্ডের কেদারনাথ ও বদ্রিনাথ মন্দিরে সফরে রয়েছেন মোদি। শনিবার কেদারনাথ মন্দিরের কাছের একটি গুহায় মোদীর ধ্যানের ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির তরফ থেকে তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়।

ক্ষমতায় আসার পর শনিবার সকালে চতুর্থবারের মতো কেদারনাথ পৌঁছান মোদি। এদিন সকাল সাড়ে ৯টায় তার হেলিকপ্টার কেদারনাথ মন্দির এলাকায় অবতরণ করে। শনিবার টুইটারে দেওয়া পোস্টে কেদারনাথকে সুমহান পর্বতমালা হিসেবে উল্লেখ করেন মোদী। কেদারনাথ মন্দিরে পূজা দেওয়ার পর প্রায় দুই কিলোমিটার ট্র্যাক করে এক গুহায় পৌঁছান তিনি। পাহাড়ি পথে তাকে ছাতা ও লাঠি নিয়ে উঠতে দেখা যায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত কেদারনাথ মন্দিরে ধ্যানে বসেন তিনি। মাত্র ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গুহার মধ্যে সারারাত একান্তে ধ্যান করেন। রবিবার সকালে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন মোদী। ধ্যানে বসার বিষয়টি আগে থেকে কাউকেই জানাননি তিনি।

এদিকে, সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে সপ্তম তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ। চলবে বিকেল ৬টা পর্যন্ত। শেষ পর্বে দেশের আটটি রাজ্যের ৫৯ আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটির কিছু বেশি। ভাগ্য নির্ধারণ হবে মোট ৯১৮ জন প্রার্থীর। আজকের ভোটে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার মন্ত্রিসভার একাধিক প্রভাবশালী সদস্য।

আজ উত্তরপ্রদেশের ১৩টি, পাঞ্জাবের ১৩টি, পশ্চিমবঙ্গের ৯টি, বিহারের ৮টি, মধ্যপ্রদেশের ৮টি, হিমাচল প্রদেশের ৪টি, ঝাড়খণ্ডের ৩টি ও চন্ডীগড়ের ১টি ভোটগ্রহণ হবে।

এই শেষধাপের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভারতে বিজেপিবিরোধী মহাজোট সরকার গঠনের উদ্যোগ ক্রমশঃ জোরালো হয়ে উঠছে। এ লক্ষে মিউনিস্ট পার্টি, আম আদমি পার্টিসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলোকে নিজদের পাড়ে ভেড়ানোর চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট বিজেপি বিরোধী দলগুলো। আগামী ২৩ মে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এই গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হবে।

প্রসঙ্গত, ভারতের সপ্তদশ লোকসভার ভোটের প্রধান আকর্ষণ আরও পাঁচ বছরের জন্য নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কি না। চলতি বছরের ১১ এপ্রিল লোকসভার এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরপর একে একে শেষ হয়ে গেছে লোকসভার ছয় ধাপের ভোট। রবিবার (১৯ মে) সপ্তম তথা শেষ ধাপের লড়াই। মোদী হাওয়ায় ভর করে কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি আরেকবার ক্ষমতায় যাবে কিনা তার শেষ পরীক্ষা। প্রথম ছয় ধাপের ভোটেই অবশ্য সেটা স্পষ্ট হয়ে গেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে যে মোদী হওয়ার বাড়বাড়ন্ত ছিল এবার তা পড়তির দিকে।

ৱইন্ডিয়া টুডের বুথ ফেরত জরিপেও দেখা গেছে তারই আভাস। জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে, ৫৪২টি লোকসভা আসনের মধ্যে গতবারের থেকে ১৭৭টি আসন কমছে এনডিএ তথা বিজেপি জোটের। তারা পেতে চলেছে ১৭৭টি আসন। আর গতবারের তুলনায় ৭৬টি আসন বেড়ে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট পেতে যাচ্ছে ১৪১টি আসন। অন্যান্য দল ২২৪টি আসন পেতে চলেছে।
 

ট্যাগ: bdnewshour24 মোদী