banglanewspaper

ঈদ আরবি শব্দ, এর আভিধানিক অর্থ খুশি বা আনন্দ। ঈদ বলতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদকে বুঝায়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনের পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিন যা ঈদুল ফিতর নামে পরিচিত। আর একটি যিলহজ্জ মাসের দশ তারিখ যা ঈদুল আযহা বা কুরবানীর ঈদ। বছরে আমাদের দুই বার ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য যেতে হয়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে আমাদের অনেকেই ঈদের নামাজের নিয়মগুলো ভুলে যায়। আসুন জেনে নেই ঈদের নামাজের নিয়মগুলো-

ঈদের নামাজ :

ঈদের নামাজ দুই রাকাআত। ঈদের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। যা জামাআতের সহিত পড়তে হয়। এ নামাজে অতিরিক্ত ছয় তাকবির দিতে হয়ে। প্রথম রাকায়াতে তাকবিরে তাহরিমাসহ ৪ তাকবির। ইমাম সাহেব তাকবিরে তাহরিমার মাধ্যমে নিয়্ত বাধার পর ছানা পড়ার পর তিন তাকবির দিবেন। মুসল্লিরাও সেই সঙ্গে সঙ্গে দু’হাত কাঁধ পর্যন্ত উঠাবেন এবং তাকবির দিবেন। তিন তাকবির শেষ হলে অন্যান্য নামাজের মতো হাত নাভীর উপর রাখবে। তার পর ইমাম সাহেব নামাজ পড়াবেন।

দ্বিতীয় রাকাআতে ইমাম সাহেব সূরা ফাতিহার সঙ্গে সূরা মিলানোর পর তিন তাকবির দিবেন। মুক্তাদিগণ ইমামের সঙ্গে সঙ্গে তিন তাকবির বলবেন এবং কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠাবেন। ৪র্থ তাকবিরে রুকুতে যাবেন। তার পর সালামের মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন। ঈদের নামাজের আগে পরে কোনো নফল বা সুন্নত নামাজ নাই।

ঈদের নামাজের কিছু মাসলা-মাসায়েল :

ক. রমাদানুল মুবারকের পরে শাওয়ালের প্রথম তারিখ ফজরের পর ২ রাকাত ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ আদায় করা ওয়াজিব। এ সালাত মুসাফির, অসুস্থ এবং নারীদের জন্য ওয়াজিব নয়। তবে তারা উপযুক্ত পরিবেশে থাকলে এবং ঈদগাহে আসতে পারলে সাওয়াব পাবে। (বাদায়ে সানায়েফি তারতীব আল শারইয়ে)

খ. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় হলো শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখ সূর্য উদয়ের পর থেকে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়ার আগ পর্যন্ত। তবে বৃষ্টি, আবহাওয়া বা দুর্যোগ পরিবেশ ইত্যাদি কারণে মসজিদেও যদি ঈদের সালাত আদায় করা না যায় তাহলে ২রা শাওয়াল ওজর বশত ফজর থেকে ঠিক দ্বিপ্রহরের আগ পর্যন্ত আদায় করতে পারবে। দ্বিতীয় দিনও যদি আদায় করতে না পারে তাহলে এ সালাত আদায় করার আর সময় থাকবে না। (আল কাসানী)

গ. ঈদের নামাজে অতিরিক্ত তাকবিরগুলো দেয়া ওয়াজিব। ঈদের সালাতে আযান ও ইক্বামত নেই। বাড়তি তাকবিরগুলোর সময় রাফ‘য়ে ইয়াদাইন তথা দুই হাত উঠানো সুন্নাত। ইমাম সাহেব তাকবিরগুলো মধ্যখানে তিন তাসবিহ পরিমাণ অবকাশ দিবেন। যাতে করে (বড় জামায়াতে) মুক্তাদিদের ইমামকে অনুসরণ করতে কোনো অসুবিধা না হয়।(আল কাসানী)

ঘ. কেউ যদি ঈদের সালাতে অংশগ্রহণে দেরি করে এবং ইমামের সাথে প্রথম রাকায়াতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু অতিরিক্ত তাকবিরগুলো পেল না তাহলে প্রথমে তাকবিরে তাহরিমা বাধার পর নিজে নিজে প্রথম রাকায়াতের তাকবিরগুলো দিবে। কিন্তু তাকবিরগুলো দিতে গিয়ে যদি রুকু হারানোর সম্ভাবনা থাকে তাহলে তাকবিরে তাহরিমার পর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাবে এবং তাসবিহ না পড়ে প্রথম রাকায়াতের অতিরিক্ত তাকবিরগুলো রুকুতে পড়বে (তখন তাকবির দিতে রাফ‘য়ে য়াদাইন বা হাত তুলতে হবে না)। এভাবে কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাতে অংশগ্রহণ করে এবং অতিরিক্ত তাকবিরগুলো না পায় বরং রুকু পায় তাহলে রুকুতে রুকুর তাসবিহ না পড়ে দ্বিতীয় রাকায়াতের তাকবিরগুলো পড়বে এবং ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর উঠে গিয়ে প্রথম রাকায়াত যেভাবে ইমাম সাহেব আদায় করেছেন সেভাবে আদায় করবে।(তোহফাতুল ফোক্বাহা)

ট্যাগ: bdnewshour24