banglanewspaper

যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় তা থেকে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত বিরত থাকার নাম হলো রোজা। রোজাভঙ্গকারী সকল প্রকার বিষয় থেকে বিরত না থাকলে রোজা আদায় হবে না। যে সকল কাজ রোজা ভঙ্গ করে তা সাধারণত সাত প্রকার-

সহবাস করা: রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করলে রোজা বাতিল হয়ে যায়। হোক সে রোজা ফরজ কিংবা নফল বা ওয়াজিব। সহবাসের মাধ্যমে রোজা ভেঙ্গে গেলে কাজা ও কাফফারা উভয় আদায় করা জরুরি।

ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে: রোজা পালনের মৌলিক আদেশগুলোর অন্যতম হলো পানাহার থেকে বিরত থাকা। সুতরাং যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার করে তাহলে তার রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। এতে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হবে। আর যদি কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো পানাহার গ্রহণ করে তাহলেও রোজা ভেঙ্গে যাবে তবে তখন শুধু কাজা ওয়াজিব হবে।

পানাহারের বিকল্প কিছু গ্রহণ করা: এই বিষয়টি দুইভাবে বিভক্ত করা যায়- (১) শরীরে রক্ত গ্রহণ করলে রোজা নষ্ট হয়ে যায়। কারণ পানাহার দ্বারা রক্ত তৈরি হয়। তাই রক্তগ্রহণ পানাহারের বিকল্প। (২) খাবারের বিকল্প হিসেবে স্যালাইন বা ইনজেকশন গ্রহণ করা। তবে যে সকল ইনজেকশন ও স্যালাইন খাবারের বিকল্প নয় তা গ্রহণ করতে বাধা নেই।

ইচ্ছা করে বীর্যপাত ঘটানো: বিভিন্ন যৌনঘটিত কারণে কিংবা হস্তমৈথুন ইত্যাদি কারণে বীর্যপাত ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটানো হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। এতে কাজা ও কাফফারা উভয়ই ওয়াজিব হয়।

হাজামা বা শিঙ্গা লাগানো: যে শিঙ্গা লাগায় ও যাকে শিঙ্গা লাগানো হয় উভয়ের রোজা নষ্ট হয়ে যায়।

ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করা: যদি কেউ ইচ্ছা করে মুখ ভরে বা পরিমাণে অনেক বমি করে তবে তার রোজা পালন বাতিল হয়ে যাবে।

নারীদের হায়েজ (মাসিক) ও নেফাস (প্রসূতিবস্থা) আরম্ভ হলে: যদি রোজা অবস্থায় কোনো নারীর হায়েজের (মাসিক) রক্ত দেখা দেয় অথবা নেফাসের অবস্থার শুরু হয় তবে রোজা ভেঙে যাবে।

এছাড়া যেসব কারণে রোজা ভঙ্গ হয় না:

০১. অনিচ্ছাকৃতভাবে গলার ভেতর বা পেটে ধুলা-বালি, ধোঁয়া অথবা মশা-মাছি প্রবেশ করলে রোজা নষ্ট হয় না।

০২. অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে পানি প্রবেশ করলে রোজা নষ্ট হয় না।

০৩. অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি আসা অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে অল্প পরিমাণ বমি (মুখ ভরে নয়) করলে রোজা নষ্ট হয় না।

০৪. বমি আসার পর নিজে নিজেই ফিরে গেলে রোজা নষ্ট হয় না।

০৫. চোখে ওষুধ বা সুরমা ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হয় না।

০৬. খাবারের বিকল্প নয় এমন ইনজেকশন ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হয় না।

০৭. ভুলক্রমে পানাহার করলে রোজা নষ্ট হয় না।

০৮. সুগন্ধি ব্যবহার করা বা অন্য কিছুর ঘ্রাণ গ্রহণ করলে রোজা নষ্ট হয় না।

০৯. নিজ মুখের থুথু, কফ ইত্যাদি গলাধঃকরণ করলে রোজা নষ্ট হয় না।

১০. শরীর ও মাথায় তেল ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হয় না।

১১. ঠান্ডার জন্য গোসল করলে রোজা নষ্ট হয় না।

১২. দিনের বেলায় বা রাতে ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হলে রোজা নষ্ট হয় না।

রোজার কাজা ও কাফফারা: কাজা হলো বকেয়া। কাফফারা হলো জরিমানা। রমজানের রোজা ভঙ্গ করলে কখনো কাজা কিংবা কখনো কাফফারা এবং কখনো কখনো কাজা+কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হয়। কাজা হলো একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা রাখা। আর কাফফারা হলো একটির পরিবর্তে ৬০টি রোজা রাখা। আর এ ৬০টি রাখতে হবে বিরামহীনভাবে। মধ্যে কোনো রোজা বাদ দেওয়া যাবে না। তবে রোজার কাফফারার আরেকটি বিকল্প রয়েছে, একটি রোজার পরিবর্তে ৬০ জন গরিব মানুষকে দুই বেলা খাওয়াতে হবে বা খাবারের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করতে হবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 রোজা