banglanewspaper

দেখতে সুশ্রী, পোশাকে আধুনিকা, হাতে ব্রান্ডের দামি ঘড়ি, গায়ে দামি অলংকার, পরনে জুতা/স্যান্ডেল, চোখে রোদ চশমা, রঙ্গিন বেশে আর হালের ফ্যাশন সব মিলিয়ে এক মোহনীয় শরীরী উপস্থাপনা। কখনও তার নাম তানিয়া, কখনও এ্যানি, নদী, সাদিয়া কখনওবা ডা. নওশীন- এমন আরও কত কী? বাহ্যিক সৌন্দর্যে সবাইকে মুগ্ধ করে ঢাকার অভিজাত আবাসিক হোটেল, পার্টি সেন্টারগুলোতে হাজির হন তিনি। মূল লক্ষ্য, বিত্তবানদের টাগের্ট করে তাদের বাসা পর্যন্ত যাওয়া এবং সুযোগ বুঝে চুরি করে সটকে পড়া।

ঢাকা শহরে ২০টিরও বেশি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছেন এই আবেদনময়ী সুন্দরী নারী। তার বিরুদ্ধে ১১টির মতো মামলা রয়েছে। যার মধ্যে ৪টি মিরপুর থানায়, একটি দারুস সালাম, একটি আদাবর, একটি তেজগাঁও, দুটি মোহাম্মদপুর, একটি নিউমার্কেট এবং একটি দক্ষিণখান থানায়।

সম্প্রতি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে চুরির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তে গিয়ে ডিবি তানিয়ার সন্ধান পান। ডিবি জানতে পারে, তানিয়া প্রথমে বাড়িওয়ালার ছেলের বন্ধুর সঙ্গে আগে একবার ওই বাসায় যান। সে সময় থেকে তার চুরির টার্গেট। এরপর বাসার সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে মেয়েটি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বেশ কয়েক বছর ধরে থাকেন সাবেক ব্যাংকার খলিলুর রহমান। গত ১৯ মে সন্ধ্যার আগে মেয়ের বান্ধবী পরিচয় দিয়ে বাসায় আসে এক সুন্দরী তরুণী। বাসার ভেতরে বিভিন্ন ঘর ঢুকে পড়ে সে। তারপর সবাইকে বোকা বানিয়ে সব গহনা, টাকা লুট করে পালিয়ে যায় ওই তরুণী।

ওই নারীর উদ্ধৃতি দিয়ে খলিলুর রহমান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘মেয়েটি আমাকে ফোন করে বলে- ‘আমি আপনার মেয়ের বান্ধবী, বাসায় আসতে চাই’। তারপর বাসায় এসে প্রায় ২০ হাজার টাকা ও গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়।’

এ ঘটনার ঠিক ১০ দিন আগে একই কৌশল অবলম্বন করে বসুন্ধরা এলাকার আরেকটি বাসায় যান এই সুন্দরী নারী। সেখানে লন্ডনে থাকা জাবিরের বন্ধু পরিচয় দেন তার স্ত্রীর কাছে। ভুলিয়ে-ভালিয়ে বেডরুমের আলমারি থেকে নিয়ে যান প্রায় ৩০ ভরি স্বর্ণ, ডায়মন্ডের একটি আংটি ও দুটি নেকলেস ও একটি রুপার হার। সেই নারীর আসা যাওয়ার সব দৃশ্য মেলে সিসিটিভি ক্যামেরায়।

এমন ঘটনায় বিস্মিত জাবিরের স্ত্রী ফারাজানা তাসমী। তিনি ব্রেকিংনিউজকেবলেন, ‘সে এতো কনফিডেন্টলি কথা বলে, আমি তাকে সন্দেহ করার মতো কোনও সুযোগই পাইনি। অবস্থা এমন যে, আমি তাকে যে ধরনের প্রশ্ন করব সে তার উত্তর দিতেই আগে থেকে তৈরি।’

তানিয়া শিকদার তানি বিভিন্ন জনের কাছে প্রতারিত হওয়ার পরই এই পেশায় নেমেছেন বলে জানান। তিনি জানান, তার ইচ্ছা ছিল নায়িকা হওয়ার। সেখান থেকেই মানুষ তাকে প্রতারিত করেছে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই তিনি চুরির পেশায় নামেন। এর আগে আরও আট বার জেল খেটেছেন বলে জানান এই নারী।

চুরি করে আনা স্বর্ণ বিক্রি করা হতো উত্তরার মাস্কট প্লাজার একটি দোকানে। সেখান থেকে কিছু স্বর্ণ উদ্ধারও করা হয়। স্বর্ণ বিক্রিতে সহায়তা করেন রেফায়েত নামে এক যুবক। রেফায়াতসহ তানিয়ার আরও ৪ সহযোগীকেও গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিবি উত্তর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েন  বলেন, ‘সম্প্রতি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার দুটি বাসায় স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ অর্থ চুরি হয়। ওই ঘটনায় ভাটারা থানায় দুটি মামলা হয়। থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দারাও ওই চোরচক্রকে খুঁজতে মাঠে নামেন। দীর্ঘ তদন্ত ও অভিযানের পর তানিয়া ও তার সঙ্গীদের গ্রেফতারে সফল হয় ডিবি।’

এছাড়া, এরকম চোরদের হাত থেকে বাঁচতে বাসাবাড়ির লোকজনদেরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন পুলিশের এই কর্মকর্তার।

ট্যাগ: bdnewshour24 প্রতারণা