banglanewspaper

ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) থেকে জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত ইউক্রেনের চক্রটি ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের মোট ৯টি বুথে হানা দিয়েছিল। তবে শুরু থেকেই ৭টি বুথে জালিয়াতির কথা চক্রটি গোপন রেখেছিল। পরে তদন্তে উঠে আসে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ৯টি বুথ থেকে মোট ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। যদিও সংশ্নিষ্ট ব্যাংকও জানিয়েছিল, দুটি বুথে জালিয়াত চক্র ঢুকেছিল। কিন্তু মামলার তদন্ত করতে গিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি নতুন এসব তথ্য পেয়েছে। 

তবে তদন্ত-সংশ্নিষ্টদের ধারণা, সম্প্রতি আরও কয়েকটি এটিএম বুথে একই ধরনের ঘটনা ঘটলেও সংশ্নিষ্ট ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের কথা মাথায় রেখে তা গোপন করে। এ ঘটনায় ১২-১৫ জন ইউক্রেনের নাগরিক জড়িত।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, ইউক্রেনের গ্রুপটি মূলত আন্তর্জাতিক সিরিয়াল হ্যাকার গ্রুপের সদস্য। এরপর তাদের টার্গেট ছিল ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশে প্রতারণা করার। ঈদের ছুটির সময়কে টার্গেট করে তারা ঢাকায় আসে। তাদের ধারণা ছিল, এ সময় নিরাপত্তা শিথিল থাকবে। তাই বুথ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে তেমন কোনো বেগ পেতে হবে না।

পুলিশ সূত্র জানায়, তদন্তে নতুন যে ৫টি এটিএম বুথের সন্ধান পাওয়া গেছে, সেগুলো রাজধানীর র‍্যাডিসন হোটেল, কাকরাইল, রামপুরার ডিআইটি সড়ক ও নিকুঞ্জ এলাকার। গত ৩১মে প্রথমে মধ্য বাড্ডার বুথ থেকে টাকা চুরি হয়। বাকি সব বুথে চুরি হয় ১ জুন।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহিদুর রহমান রিপন বলেন, ‘বুথ থেকে টাকা চুরির ঘটনা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ইউনিটের (সিটিটিসি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) যৌথভাবে তদন্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটি থাকা ও দোভাষী না মেলায় কারাগারে থাকা ইউক্রেনীয় ৬ নাগরিককে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়নি। দু-একদিনের মধ্যেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হতে পারে। আর পালিয়ে থাকা অন্য ইউক্রেনের নাগরিককে আটক করার চেষ্টা চলছে।’

পুলিশ বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের এটিএম বুথ ব্যবহার করে একটি আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্র অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে বলে গত ২৯ মে এফবিআই বাংলাদেশি গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডিকে সতর্ক করে। বিষয়টি সিআইডি কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৩০ মে বৈঠকও করে। দেশের কোথাও এরকম অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটলে ব্যাংকের আইটি বিভাগকে সঙ্গে সঙ্গে তা সিআইডিকে জানাতে বলা হয়।

একই দিন গভীর রাতে ডাচ-বাংলা ব্যাংক থেকে সিআইডিকে জানানো হয় যে, বাড্ডার একটি বুথ থেকে হ্যাকার চক্র তিন লাখ টাকা তুলে নিয়েছে। এরপরই মূলত বুথগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। নিজ নিজ বুথের নিরাপত্তাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় ব্যাংকগুলো।

এরপরেই তালতলা থেকে হ্যাকার চক্রের এক সদস্যকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে সিআইডির একটি সূত্র।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, এটিএম বুথের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করছি। সাইবার ঝুঁকির বিভিন্ন নতুন দিক নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। নতুন করে আইটি বিভাগগুলোতে এক্সপার্টদের যুক্ত করতে বলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। দেশের টাকা বিদেশিরা হাতিয়ে নিয়ে যাবে, এটি ভয়াবহ অবস্থা। কাজেই শুরুতেই যেহেতু আইডেন্টিফাই করা গেছে, এতে আমরা অনেকটা ঝুঁকিমুক্ত। তবে আশঙ্কা কিন্তু রয়েছেই।

ডিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিদেশে থাকা বাংলাদেশি একজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তাদের জানিয়েছেন বুথ থেকে এভাবে টাকা চুরির ঘটনা বাইরের দেশে আগেও ঘটেছে। সেসব ক্ষেত্রে জালিয়াত চক্র টুপকিন নামে একটি ম্যালওয়ার ব্যবহার করে বুথের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে নিয়ে নেয়। টাকা উত্তোলনের সময় ব্যাংকের কেন্দ্রীয় সার্ভার থেকে যে নির্দেশনা আসার কথা, সেটি তখন চক্রের সদস্যরাই দিয়ে থাকেন।

এদিকে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথে জালিয়াতির ঘটনার পর নিরাপত্তা জোরদার করেছে ব্যাংকগুলো। ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক বুথের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টাকা চুরির ঘটনার পর হাইকমান্ড থেকে তাদের সতর্ক করা হয়েছে। বুথের টাকা তুলতে গিয়ে কেউ বেশি সময় থাকলে নিরাপত্তাকর্মীকে ভেতরে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। বিশেষ সতর্কদৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে বুথে আগত বিদেশি নাগরিকদের ওপর।

ট্যাগ: bdnewshour24 এটিএম বুথে জালিয়াতি