banglanewspaper

আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: শুধু গর্ভধারন সময়ের কষ্টই শেষ নয়,সন্তানের ভবিষ্যৎ অবস্থান ও তাদের মৌলিক প্রয়োজনগুলো মিটানোর জন্য বাস্তব জীবনেও  মা-কে কতোটা পরিশ্রম করতে হয়, কতোটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তার-ই প্রমান দিয়ে যাচ্ছেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার স্বামীহারা ভাসমান কাজলী বেগম (৪০)।

১০ জুন সোমবার দুপুরে কথা হয় তার সাথে। 

কাজলী বেগম শেরপুর জেলার সদর থানার মাঝপাড়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের স্ত্রী। বর্তমানে শ্রীপুর রেললাইনের পূর্ব পাশে একটি টিনসেট বাড়ীতে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভাড়া থাকেন তিনি।

সরেজমিনে দুপুর ২টায় শ্রীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রাস্তার পাশে গিয়ে দেখা যায়, প্রখর রোদে ২৫-৩০টি ইট ঝুরিতে ভরে মাথায় বহন করে নিয়ে যাচ্ছেন কাজলী।

কাজলী বেগম জানান, গত ৮বছর আগে স্বামী মারা যাবার পর থেকে শশুর বাড়ীতে ঠাঁই হয়নি তার। বাপের ভিটায়ও জমি নেই।  তাই ভাসমান মানুষের সাথে বসবাস করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে । এখানে একটি চাপড়া ঘরে ভাড়া থাকেন তিনি। ছেলে সাগর মিয়া (১২)কে পবিত্র কোরআনের হাফেজ করার আশায় মাদ্রাসায় দিয়েছেন। আর ছোট মেয়ে মিতু ৪র্থ শ্রেনীতে পড়ে। দুজনেরই খরচ বহন করতে ইট ও মাটির কাজ করেন তিনি । এছাড়াও গর্ত খনন,রাস্তায় ইট বসানো,রাজমিস্ত্রীর জোগালী,বালু ও ইটের টুকরো টানাসহ সকল শক্ত কাজই করতে হয় বলে জানান কাজলী। 

শ্রীপুর বাজারের ইট-বালু ব্যবসায়ী নাঈম মিয়া জানান, এ উপজেলার প্রায় সকল স্থানেই কাজলী বেগম দিনমজুর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি খুব পরিশ্রমী ও সৎ একজন মানুষ। তার কাজে কোন ফাঁকি নেই। দুইজন পুরুষের সমান কাজ করতে পারেন তিনি।

শ্রীপুরের আব্দুল আউয়াল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাজকর্ম বিষয়ের বিভাগীয় প্রধান ফরহাদ তালুকদার জানান, নিজের সন্তানের জন্য সংগ্রাম করতে বাবা-মায়ের কষ্টের পরিমান পাহাড় সমান। তবে সবসময়ই সন্তানের হাসির ভিড়ে বাবা-মায়ের সেসকল কষ্টগুলো হাড়িয়ে যায়। তাই সন্তানের উচিৎ বড় হয়ে বাবা-মায়ের বরণ-পোষণের প্রতি বিশেষ  নজর রাখা।

ট্যাগ: bdnewshour24 শ্রীপুর