banglanewspaper

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিয়ম ভেঙে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে প্লট দিয়েছে রাজউক। পূর্বাচল প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া এই প্লটটির ক্ষেত্রে মানা হয়নি উচ্চ আদালতের নির্দেশনা। এ ক্ষেত্রে শ্রেণিও পরিবর্তন করা হয়েছে। নিয়ম না মানার কারণ জানতে চেয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে নিয়ম না মানার অভিযোগ অস্বীকার করেছে রাজউক। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির দাবি, নিয়ম মেনেই পূর্বাচলে জায়গা বরাদ্দ পেয়েছে তারা।

কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ এ আরাফাত। অনারারি উপদেষ্টা সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ওয়েবসাইটে ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ঠিকানা দেয়া হয়েছে পূর্বাচলের ৯ নম্বর সেক্টরের ৬০ নম্বর প্লট।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২ ডিসেম্বর পূর্বাচলে ১৭১ কাঠার প্লটটি কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিকে বরাদ্দ দেয় রাজউক। নথিপত্রে প্রকল্পের মূল অনুমোদিত নকশায় এ প্লটকে সেকেন্ডারি স্কুল হিসেবে দেখানো হয়েছে। ওই প্লটের শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান রাজউকে আবেদন করেন। ২৪ ডিসেম্বর রাজউকের স্থাপত্য শাখা থেকে প্লটের শ্রেণি সেকেন্ডারি স্কুল পরিবর্তন করে ‘কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়’ করার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের প্রস্তাব রাজউকের বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা হয়। ২৬ ডিসেম্বর বোর্ড সভায় ওই প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়।

এদিকে পূর্বাচল নিয়ে হাইকোর্টের কয়েকটি নির্দেশনার মধ্যে বিষয়টি নজরে আসায় চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে রাজউক চেয়ারম্যানকে প্লট বরাদ্দ নিয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শ্যামলী নবী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, রাজউকের বোর্ড সভার ১৭ দশমিক ৩নং সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের গোচরীভূত হয়েছে। এতে দেখা যায়, পূর্বাচল মডেল টাউনের মাস্টার প্ল্যানে ৯ নম্বর সেক্টরে হাইস্কুলের জন্য নির্ধারিত প্রায় নয় বিঘার প্লটটি নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং প্লটটির শ্রেণি পরিবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু শ্রেণি পরিবর্তন না করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। এতে আরো বলা হয়, রাজউকের চতুর্থ সংশোধনী পর্যন্ত এবং পঞ্চম সংশোধনীর প্রস্তাবিত আইকনিক টাওয়ার অংশটুকু হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে বহাল রাখা হয়েছে। পঞ্চম সংশোধনীর আইকনিক টাওয়ার ছাড়া অবশিষ্ট অংশ এবং পরবর্তী পরিবর্তনগুলো উল্লিখিত আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়নি বিধায় বাতিলযোগ্য।


একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটিকে দেয়া প্লটের শ্রেণি পরিবর্তন অনুমোদন করার ঘটনাটি হাইকোর্টের আদেশের পরই ঘটে। কোর্টের নির্দেশনার পরও কীভাবে প্লটের শ্রেণি পরিবর্তন করা হলো- এ প্রশ্নের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি রাজউকের কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে। প্লটের শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য বোর্ড সভায় উপস্থাপনের জন্য দেয়া কর্মপত্রে সই আছে রাজউক সদস্য আবুল কালাম আজাদের। এ বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। রাজউকের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান ও সদ্য দায়িত্ব নেয়া ড. সুলতান আহমেদ কোনো মন্তব্য করেননি।

জানা গেছে, গত ১২ মার্চ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠির জবাব দেয় রাজউক। কিন্তু রাজউকের জবাবে সন্তষ্ট হয়নি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। সংস্থাটির সচিব সুশান্ত চাকমা স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, প্লটটির ক্ষেত্রে শ্রেণির কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। জবাবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার জানান, রাজউকের কাছে আমরা জানতে চেয়েছিলাম, কীভাবে প্লটটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তাদের জবাবে আমরা সন্তুষ্ট নই। বিষয়টি নিয়ে আলাদা একটি ফাইল উপস্থাপন করা হয়েছে।

অপরদিকে চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের দাবি, সব স্বচ্ছতার সঙ্গেই হয়েছে। কোনো অনিয়ম হয়নি। নিয়ম মেনে আবেদন করি। লটারির পর আমরা প্লট পেয়েছি। ২০১৭ সালে টাকা দেয়ার পর আমাদের দলিল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। শ্রেণিও পরিবর্তন করা হয়নি।

ট্যাগ: bdnewshour24 কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি রাজউক