banglanewspaper

ঠোট, মাথা, চোখ, পাখা, বুক, পা ও লেজ দেখতে এককথায় অপূর্ব। সাদা কালো মিশানো অতি সুন্দর এই পাখি দুধরাজ। অনেকে একে স্বর্গীয় পাখি বলে। এদের মাথায় রাজকীয় কালো রংয়ের ঝুঁটি। বিশেষ করে আকর্ষণীয় এদের লেজ। যেন স্বর্গীয় সুষমামণ্ডিত। চোখ ফেরানো যায় না, শুধু দেখতেই মন চায়।

পরিচিতি : ইংরেজি নাম- এশিয়ান প্যারাডাইস ফ্লাইক্যাচার (Asian paradise flycatcher), বৈজ্ঞানিক নাম- টেপসিফোন প্যারাডিসি (Terpsiphone paradisi)। অঞ্চলভেদে সুলতান বুলবুল, হোসনি বুলবুল, নন্দনপাখি ইত্যাদি নামে পরিচিত।

বর্ণনা :  ঠোট থেকে সাধারণ লেজ পর্যন্ত এর মাপ প্রায় ২০ থেকে ২১ সেন্টিমিটার। আর লেজের শেষ প্রান্ত থেকে লম্বা পালক দুটির দৈর্ঘ্য ২২ থকে ২৪ সেন্টিমিটার। মেয়ে দুধরাজ পাখির লেজে এই বাড়তি পালক দুটো থাকেনা, তাই পুরুষ দুধরাজের মত মেয়ে পাখি অতটা সুন্দর নয়।

চিকন গড়নের শরীর। মাথায় কালো রঙের ঝুঁটি। ঝুঁটির চুলগুলো পলিশ করা কালো। ঠোঁট নীলচে, সামান্য বাঁকানো। কপাল, গলা ও বুক কালো। চোখের মণি নীল। পায়ের রঙ হালকা লালচে। পিঠের অধিকাংশই ধবধবে সাদা। ডানা ও লেজের পালকও সাদা। কয়েকটা পালকে সাদার মাঝখানে কালো রঙের লম্বা লাইন।

লেজের লম্বা দুটি পালক, যা তাকে দিয়েছে অপরিসীম সৌন্দর্য। উড়ার সময় লেজের লম্বা দুধ সাদা পালক দুটি বাতাসে চন্দ্রায়িত ভঙ্গিমায় নাচে যা দ্যুতি ছড়ায়। স্ত্রী পাখির লম্বা লেজ হয় না। দেখতে অনেকটা বুলবুলির মত। এদের পিঠের রঙ হালকা বাদামি, পেটে ধুসরের সঙ্গে সাদার মিশ্রণ।

এদের কণ্ঠস্বর তেমন সুন্দর নয়। তবে বিভিন্নভাবে ডাকতে পারে। প্রজনন মৌসুমে মোলায়েম সুরে ডাকাডাকি করে। দুধরাজ চঞ্চল প্রকৃতির। ছায়াশীতল ঘন-জঙ্গল এদের পছন্দ। দুধরাজ শিকারের আশায় গাছের ডালে চুপচাপ বসে থাকে। গরু, ছাগল, মহিষ, হরিণ ও শূকর ঝোঁপঝাড়ে লতাপাতা খাওয়ার সময় কীটপতঙ্গ উড়ে বের হলে এরা সঙ্গে সঙ্গে শিকার ধরে ফেলে।

গ্রীষ্ম বসন্তকালে গাছের ডালে ছিমছাম ভাবে ঘাস, লতা, মাকড়সার জাল দিয়ে বাসা তৈরি করে। তিন থেকে পাঁচটি ডিম দেয়। ডিম ফুটতে ১৮ থেকে ২০ দিন লাগে। দুধরাজ এক এলাকায় বেশি দিন থাকে না। পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশ থেকে এই পাখি ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র :  এটিএম নাছিমুজ্জামানের গ্রাম বাংলার পাখি গ্রন্থ এবং ইন্টারনেট।

ট্যাগ: bdnewshour24 পাখি