banglanewspaper

সদরঘাট দিয়ে খেয়া পারাপার হয়ে উঠেছে মৃত্যুর ফাঁদ। প্রাণঘাতি একাধিক দুর্ঘটনার পর ঘাটটি স্থানান্তরে উদ্যোগী হয়েও কিছুই করতে পারছে না অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ।

ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার ‘প্রভাবের; কারণে অসহায় বোধ করার কথা জানিয়েছেন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

বুড়িগঙ্গা নদীর সদরঘাট এলাকাতেই চলছে শতশত নৌকা। নদী পারাপার এবং নৌকায় করে যাত্রীদের মাঝ নদীতে লঞ্চে তুলে দেওয়ার কাজ করে এসব নৌকা। ফলে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে নৌকার ঘাট। এসব নৌ যানের পাশাপাশি নদী পারাপারের জন্য চলা ছোট খেয়া নৌকাগুলো প্রায়ই বড় লঞ্চের ধাক্কায় বা ঢেউয়ে ডুবে যায়, ঘটে প্রাণহানি।

ঘাটগুলো বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদিত হলেও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খেয়া ঘাটগুলোকে কিছুটা সরিয়ে নিতে চেয়েছিল সংস্থাটি। সেখানে লঞ্চ বা বড় নৌযানের ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকা ডুবির আশঙ্কা কমবে বলেই ধারণা তাদের। কিন্তু বিআইডব্লিউটিএ এবং নৌ পুলিশের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

সদরঘাটের ওয়াজঘাটে (ঢাকা-পটুয়াখালী লঞ্চ ঘাট) রয়েছে একটি খেয়া ঘাট। নদীর এপার থেকে ওপারে মানুষ পারাপারে বেশ জমজমাট পথ এটি। কিন্তু এটি টার্মিনালের মাঝখানে হওয়ায় ঘাটে মানুষ পারাপারের মতো দুর্ঘটনার আশঙ্কাও এখানে অনেক বেশি। শুক্রবারও লঞ্চের ঢেউয়ে নৌকা ডুবে এই ওয়াইজঘাটে দুটি শিশুর মৃত্যু ঘটে।

নৌ পুলিশ সরঘাট শাখার উপপরিদর্শন (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, ওয়াইজঘাটে থাকা খেয়া পারাপার ঘাটটি ওই জায়গা থেকে কিছুটা সরিয়ে নিয়ে আসলে দুর্ঘটনার পরিমাণ কমে যাবে। কিন্তু একাধিক বার ঘাটটি স্থানান্তরের চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।

দুই লঞ্চ ঘাটের মাঝখানের পন্টুনের মধ্যে ফাঁকা জায়গা। আর সেখানে খেয়া পারাপার ঘাট। এই ঘাট থেকে নৌকায় খেয়া পারাপারের সময়ই লঞ্চের মাঝখানে পড়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। আবার লঞ্চের  কোল ঘেঁষে নৌকা চলাচলের সময় পানির তোড়ে তা ডুবে যাচ্ছে।

ইকবাল চেয়ারম্যান নামে এক স্থানীয় প্রভাবশালী ঘাটটি ইজারা নিয়ে রেখেছেন। ইজারাদারকে এর আগে ঘাটটিকে কিছুটা সরিয়ে নিতে বলা হলে তিনি কথা কানে তোলেননি। এমনকি ঘাটটি স্থানান্তরের চেষ্টা করলেও স্থানীয় লোকজনকে জড়ো করে চাপ দেন ওই ইজারাদার। সেই সঙ্গে আছে আওয়ামী লীগের একজন নেতার প্রভাব।

মাঝখানের ফাঁকা জায়গাটি পন্টুন দিয়ে পূর্ণ করে দিতে চায় বিআইডব্লিউটিএ। সেই সঙ্গে খেয়া ঘাটটিকে ৫০ থেকে ১০০ গজ সরিয়ে আনতে চায় তারা। বিআইডব্লিউটিএ যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন ঢাকা টাইমসকে জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ক্ষমতার কারণে ঘাটটি স্থানান্তর করা সম্ভব হচ্ছে না।

আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম, ঘাটটা আলম টাওয়ার থেকে পঞ্চাশ গজ দূরে সরে আসবে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এটা করেও দিয়েছিলাম। কিন্তু আন্দোলন করে এটাকে বন্ধ করে দিয়েছে।’

মূলত খেয়া ঘাটটি স্থানান্তরের নেপথ্যে রয়েছে আলম টাওয়ারের ব্যবসায়ীরা। এখানকার ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়ীক স্বার্থ উদ্ধারের জন্যই তারা ঘাটটি সরিয়ে নিতে নারাজ। এর আগে ঘাটটি স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলে স্থানীয় পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে আন্দোলন করে স্থানান্তর বাধাগ্রস্ত করে আলম টাওয়ারের ব্যবসায়ীরা।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক বলেন, ‘আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এখন এই মৃত্যুর দায়দায়িত্ব ওই আলম টাওয়ারের ব্যবসায়ীদের নিতে হবে।’

সরকারি সংস্থার কর্মকর্তা ওই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার নামও জানিয়েছেন। যদিও ওই নেতার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি একাধিকবার তিনি কল না ধরায়।

ট্যাগ: bdnewshour24 সদরঘাট মৃত্যুর ঝুঁকি