banglanewspaper

কানদোভান, ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের একটি ঐতিহাসিক গ্রাম। তাবরিজ শহরের নিকটেই এর অবস্থান। বিশ্বে তিনটি পাথুরে গ্রাম রয়েছে তার মধ্যে এই গ্রামটি অন্যতম। অপার সৌন্দর্যের কারণে কানদোভানকে ইরানের সবচেয়ে অদ্ভূততম গ্রাম হিসেবে দেখা হয়। 

অবস্থান:
কানদোভান তাবরিজ শহরের ছয়শ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমের গ্রাম্য জেলা শাহানদে অবস্থিত। পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের ওসকু কাউন্টির এটি কেন্দ্রীয় জেলা। বিস্ময়কর পাথরের স্থাপত্য থাকায় গ্রামটা খুবই জনপ্রিয়। আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ও হাতে খোদাই করা কাঠামোর সমন্বয়ে কানদোভান আশ্চর্যজনক রূপ লাভ করে। ইরানের জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকায় গ্রামটির নাম রয়েছে এবং বিশ্বব্যাপীও রয়েছে এর খ্যাতি। বিশ্বের এটিই একমাত্র পাথুরে গ্রাম যেখানে এখনও মানুষ বসবাস করে। এটি ছাড়াও বিশ্বে একই কাঠামোর আরও দুটি গ্রাম রয়েছে তবে সেগুলো জনপদশূন্য। এর একটি হচ্ছে তুরস্কের কাপপাদোসিয়া ও আমেরিকার ডাকোটা।

যেকারণে পাথুরে গ্রাম বলা হয় এবং এর ইতিহাস
কানদোভান গ্রামের পাথরের ঘরগুলো দেখতে চাকের মতো দেখায়। যে কারণে এটি বেশ পরিচিত। তুর্কি ভাষায় কান্দ অর্থ গ্রাম। কানদোভান গ্রাম গড়ে ওঠার ইতিহাস থেকে জানা যায়, কানদোভান থেকে দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হিলেভার নামক গ্রাম থেকে একদল লোক প্রথমে এই অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে। তারা মোঙ্গলদের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে পালিয়ে এখানে বসতি স্থাপন করে। নিজেদের জন্য নিরাপদ অশ্রয়স্থল গড়ে তুলতে তারা কারান্স খোদাই করা শুরু করেন।

স্থাপত্য
জানা যায়, বিস্ময়কর গ্রামটির ছয় হাজার বছরের ইতিহাস রয়েছে। তাবে কিছু প্রত্নতাত্বিক গবেষক ধারণা করেছেন, কানদোভান গড়ে ওঠে সাত হাজার বছর আগে।

গ্রামটির বিস্ময়কর দিকগুলোর মধ্যে স্থাপত্যশৈলী অন্যতম। পাথুরে গ্রাম কানদোভার প্রাচীরগুলো খুবই পাতলা এবং দুই মিটার মতো চওড়া। শিলাগুলো গ্রীস্মকালে ঘর শীতল এবং শীতকালে উষ্ণ রাখাতে সহায়তা করে। পাথরগুলোর উচ্চতা প্রায় ৪০ মিটার।

এখানে পিরামিডের ন্যায় পাথরের স্থাপনাগুলো বেশ তীক্ষ্ণ। মাঝে রয়েছে গর্ত। শাহান্দ মাউন্টেন রেঞ্জ অঞ্চলের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে পিরামিড সদৃশ এই খাড়া স্থাপনাগুলো গড়ে উঠেছে। স্থাপনাগুলোর সাথে চাকের মতো তীক্ষ্ণ অনেক সেল রয়েছে। যা কারান নামেও পরিচিত । সাধারণত, এই কারানগুলির অধিকাংশের দুটি মেঝে রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে এর তিনটি, এমনকি চারটি পর্যন্তও মেঝে রয়েছে। যার একটির সাথে আরেকটির যোগসূত্র নেই।

গ্রাম
কানদোভান শাহান্দ পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত। এখানকার জলবায়ু অসাধারণ। এলাকাটা সবুজ গাছপালা দারা সুসজ্জিত। এ অঞ্চলে অনেক মৌমাছির বাসা ও ওষুধি গাছ রয়েছে যা স্থানীয়দের আয়ের অন্যতম উৎস। পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষ কৃষি কাজও করে থাকে।

এ গ্রামটি একমাত্র পাথুরে গ্রাম এবং বর্তমানে এখনও মানুষ বসবাস করছে। ১১৭ টি পরিবার এখানে বসবাস করছে। এখানে একটা মসজিদ, পাবলিক গোসলখানা, স্কুল, একটি কল, স্যুভেনির দোকান, বুফে এবং রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

মনে রাখার মতো কিছু জিনিস
কানদোভার সবচেয়ে মনে রাখার মতো জিনিস হলো মধু। এখানকার অন্যান্য জনপ্রিয় জিনিসের মধ্যে রয়েছে খেজুর এবং খামির চেরি, শুকনো ফল, রাগ এবং জজিম কাণ্ডভান। কানদোভার খনিজ পানি সুপরিচিত এবং মূলত এটি কিডনি রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।

কানদোভান ভ্রমণের উপযুক্ত সময়
কানদোভান ভ্রমণের সবচেয়ে উপযুক্ত ঋতু হচ্ছে বসন্ত ও গ্রীষ্মকাল। এখানে ভ্রমণ শরৎ এবং শীতকালের জন্য উপযোগী নয়। কানদোভানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পুরো গ্রাম ঘুরে দেখতে সময় লাগবে ২ ঘণ্টা থেকে একদিন। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি।
 

ট্যাগ: bdnewshour24