banglanewspaper

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরার বিতর্কিত চিকিৎসক মাসুদুল হক ও তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগমকে আসামি করে আরো দুটি মামলা হয়েছে। মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ সোমবার এই দুটি মামলা হয়।

মামলা করেন ঝিনাইদহ জেলার হাটগোপালপুরের তিওড়দাহ গ্রামের ভুক্তভোগী গৃহবধূ মিতু রানী বিশ্বাসের (২২) ভাই মিঠুন কুমার বিশ্বাস ও মাগুরা সদরের পারনান্দুয়ালী গ্রামের সাইফুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী।

আদালতে মামলার কিছুক্ষন পরই ভুক্তভোগী গৃহবধূ মিতু রানির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সর্বস্তরে তীব্র প্রতীবাদ ও নিন্দাসহ সমালোচনা ঝড় উঠেছে।

মাগুরায় পলিথিন ডাক্তার ক্ষ্যাত মাসুদুল হকের অপচিকিৎসা বন্ধ ও তার বিচারের দাবীতে সম্প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ভুক্তভোগীসহ সাধারন মানুষ। মাগুরা ক্লিনিক এসোসিয়েশন ও সাধারন জনতা মানববন্ধন, ঝাড়ু মিছিলসহ জেলা প্রশাসকের নিকট স্বারকলিপি প্রদান করেন।

যার প্রক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে দুইটি তদন্ত টিম গঠন করা হয় এবং মাসুদুল হকের চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এরপর থেকেই শত শত ভুক্তভোগী ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার অপচিকিৎসক মাসুদুল হকের বিচারের দাবিতে তদন্ত টিমের কাছে অভিযোগ জানাতে শুরু করে সাথে থানায়ও মামলার অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর থেকে অভিযুক্ত ডাক্তার মাসুদুল হক পলাতক রয়েছে।

গতকাল একই অভিযোগে গৃহবধূ মিতু রানির ভাই মিঠুন ও অপর এক দরিদ্র ভান চালক সাইফুল ইসলাম মাগুরার সিনিয়র ডিশিয়াল আদালত ১ এ মাসুদুল হকের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ার করেন। তবে সেদিনই মামলা দায়েরের কিছুক্ষন পর গতকাল দুপুরে গৃহবধূ মিতু রানী মারা যান। ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দা প্রতিবাদসহ মাগুরার সর্বস্তরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই মিতু কে এক নজর দেখতে ও শোকাহত পরিবার কে সমবেদনা জানাতে তার বাবার বাড়ি ঝিনাইদাহের হাটগোপালপুর ছুটে যান।

সর্বশেষ দুটি মামলার আগে মাসুদুল হকের ভুল অস্ত্রোপচারে কারণে ছালমা বেগমের মৃত্যু হয়েছে উল্লেখ করে ১৯ জুন মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন তাঁর স্বামী মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার দারিয়াপুর গ্রামের মনজুর রহমান।

আর মিতু রানী বিশ্বাসের ভাই মিঠুন কুমার বিশ্বাস তাঁর মামলায় অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর তাঁর অন্তঃসত্ত্বা বোন মিতু রানীকে সিজার করেন ডা. মাসুদুল হক। সিজারিয়ানের মাধ্যমে মিতু একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু ত্রুটিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের কারণে মিতু ক্রমে অসুস্থ হতে থাকেন। পরে জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। আট মাসের চিকিৎসার একপর্যায়ে গতকাল দুপুরে তিওড়দাহ গ্রামের নিজ বাড়িতে মারা যান মিতু।

বিচারক মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল ইসলাম বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাগুরা সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে ডা. মাসুদুল হক বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 মাগুরা চিকিৎসক গৃহবধূ