banglanewspaper

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরায় মাতৃগর্ভে থাকা শিশু হামলার শিকারের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় মায়ের গর্ভে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নির্ধারিত সময় পূর্ন হওয়ার ৩ মাস আগে শিশুটি ভূমিষ্ঠ হলেও ৪ দিন পর মঙ্গলবার রাতে তার মৃত্যু হয়েছে। নৃশংশ এ ঘটনাটি ঘটেছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে। স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক দলাদলি এবং অর্থনৈতিক লেনদেন সংক্রান্ত জেরে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মুক্তা পারভিনের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানান ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। 

ভুক্তভোগী মুক্তা পারভিন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহম্মদপুর উপজেলার মান্দারবাড়িয়া গ্রামের নব্য আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ সিকান্দর আলী আগামীতে পলাশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে চান বলে মাঠে নেমেছেন। সে জন্য তিনি এই ঈদের আগে ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে পথে পথে রঙিন ব্যানার প্রদর্শনের জন্যে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামের সাইফুর রহমান খানের বিধবা স্ত্রী মুক্তার মা মনজিলা বেগমের কাছ থেকে ক্রয়ক্রিত বাঁশের মুল্য থেকে ৩ হাজার টাকা পাওনা থাকায় মনজিলা ১৪ জুন বিকালে টাকার জন্য সিকান্দারের বাড়িতে যাওয়ায় তিনি অপমানিত বোধ করে ক্ষুব্ধ হন। এ কারনে ওইদিন সন্ধ্যায় দলবল নিয়ে মনজিলা বেগমের বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন সিকান্দার, জাহাঙ্গীর, ওদুদ মেম্বারসহ অন্যরা।

এ সময় চিৎকার চেঁচামেচি শুনে মনজিলার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মুক্তা পারভিন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন মুক্তা। এ সময় মনজিলা বেগমের ভাসুরের ছেলে আহাদ আহত হন বলে অভিযোগ করেন তারা।   

মুক্তাকে প্রথমে মোহাম্মদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৭ দিন ধরে চিকিৎসার পর তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ জুন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মুক্তা্ নরমাল ডেলিভারিতে অপূর্ণাঙ্গ ও কম ওজনের একটি কন্যা সন্তান প্রসব করেন।  জন্মের পর থেকেই শিশুটির নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। তাকে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের নিবিড় পরিচর্যায় রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কিন্তু ৪ দিন ধরে চিকিৎসাধীন শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটলে মঙ্গলবার ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে সেখানে যাওয়ার পথেই শিশুটি মারা যায়। এ অবস্থায় মৃত শিশুটিকে নিয়ে মাগুরায় ফিরে আসেন তারা।

এ ব্যাপারে মাগুরা সদর হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু জানান, অপ্রাপ্ত বয়সে ভূমিষ্ট হওয়ার কারনে শ্বাস কষ্ট, ওজন কম হওয়া সহ নানা জটিলতা নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষনে রেখে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। শিশুটির উন্নতিও লক্ষ করা যাচ্ছিলো, এর মাঝে মঙ্গলবার শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হলে পথিমধ্যে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানতে পারেন তিনি।

ভুক্তভোগী মুক্তার স্বামী মোসলেম উদ্দিন জানান, তার স্ত্রী মুক্তা বাপের বাড়ি বেড়াতে এসে এমন নৃশংস ঘটনার শিকার হয়েছেন। তার অনাগত সন্তান পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখার আগেই মাতৃগর্ভে হামলার শিকার হয়ে মৃত্যু বরন করলো। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।          

তবে অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতা সৈয়দ সিকান্দার আলী পুরো ঘটনাটিকে তার বিরুদ্ধে চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন ধরে এই পরিবারটিকে আর্থিকভাবে সহায়তাও দিয়ে এসেছেন। মুক্তার চাচাত ভাই আহাদ একসময় তার সঙ্গেই চলাফেরা করত। কিন্তু কিছুদিন ধরে সে আমার প্রতিপক্ষ বর্তমান চেয়ারম্যানের দলের সঙ্গে মিশে আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্কই নেই, তার ভাবমূর্তি নষ্ট ও হেনস্থা করার লক্ষে এটি মিথ্যা ভাবে সাজানো হয়েছে দাবী করে শিশুটি ভুমিষ্ঠ হবার এতদিন পরে মৃত্যুর ঘটনায় তাদের নিজেদের যোগসাযোগ রয়েছে বলেও দাবী করেন তিনি।

মোহাম্মাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, ওই হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর পরে শিশুটির মৃত্যু হয়। ওসি তদন্ত লিটন সাহেব মামলার তদন্ত করছেন, আসামিদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মাগুরা সদর হাসপাতালে শিশুটির ময়না তদন্ত শেষে গতকাল বুধবার পরিবারের নিকট মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

ট্যাগ: bdnewshour24 মাগুরা