banglanewspaper

স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সামনে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় স্বামী রিফাত শরীফকে। প্রকাশ্য দিবালোকে এই ঘটনার ভিডিও দৃশ্য নাড়া দিয়েছে বিশ্ববিবেক। তোলপাড় চলছে। এ ঘটনার নেপথ্য কারণ অনুসন্ধানে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

খুনি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ইতোপূর্বে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে স্ত্রী দাবি করলেও মিন্নি তা অস্বীকার করেন। অনেকে বলছেন- রিফাতের স্ত্রীর সঙ্গে ঘাতক নয়ন বন্ডের সম্পর্ক ছিল। সেটি রিফাত মেনে নিতে পারছিলেন না। এ কারণেই তাকে খুন করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন- মিন্নির সঙ্গে নয়নের সম্পর্কের বিষয়টি একতরফা।

কিন্তু মিন্নির সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডের যে বিয়ে হয়েছিল তা নিশ্চিত করেছেন তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা কাজী মো. আনিসুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি বরগুনা পৌরসভার ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্টার। বরগুনা পৌরসভার ডিকেপি রোডের কেজি স্কুল নামক স্ট্যান্ডে তার অফিস।

কাজী মো. আনিসুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বিয়ে করার জন্য নয়ন ও মিন্নিসহ ১৫ থেকে ২০ জন লোক আসে আমার অফিসে। এসময় নয়ন ও মিন্নি তাদের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার প্রমাণস্বরূপ এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট নিয়ে আসে। এরপর আমি মেয়ের বাবার সঙ্গে কথা জানতে চাইলে তারা বলে, মেয়ের বাবা আসবে না, আপনি মেয়ের মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর মিন্নির মা পরিচয়ে একজন আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

তিনি আমাকে বলেন, বিয়ের বিষয়টি আমরাতো জানি। মিন্নির বাবা বিয়েটা এখন মানবে না। আপনি বিয়ে সম্পন্ন করেন। বিয়ের কিছুদিন পর ঠিকই মেনে নেবেন। এরপর আমি পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে নয়ন ও মিন্নির বিয়ে সম্পন্ন করি। এ বিয়ের উকিল ছিলেন শাওন নামের একজন। শাওন ডিকেপি রোডের মো. জালাল আহমেদের ছেলে।

তবে হত্যাকাণ্ডের পরপর এমন অভিযোগ উঠলে ওই সময় মিন্নি বলেন, আমার বিয়ে হয়েছে একমাত্র রিফাত শরীফের সঙ্গে। এছাড়া আর কখনো কারও সঙ্গে বিয়ে হয়নি। যেহেতু বিয়েই হয়নি, ডিভোর্স হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। রিফাতই আমার স্বামী এবং এটাই সত্য। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটাই দাবি করি, যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে আমি তাদের ফাঁসি চাই।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে রাম দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। গুরুতর আহত রিফাতকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

ট্যাগ: bdnewshour24 বরগুনা আসামী গ্রেফাতার আটক বিয়ে মিন্নি