banglanewspaper

ছয় দিন ধরে নিখোঁজ ময়মনসিংহ নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী সাফায়াত আল হোসাইন (১৮)। এরই মধ্যে একটি চক্র সাফায়াতের বাবা আফজাল খান রিপনকে ফোন করে জানায়, সাফায়াতকে অপহরণ করেছে তারা। এরপর ওই চক্র বিকাশের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিলেই ছেলেকে ফেরত দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। কিন্তু আফজাল খান বিকাশের মাধ্যমে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার পর থেকেই লাপাত্তা হয়ে যায় ওই চক্র।

সাফায়াত আল হোসাইন ময়মনসিংহ নটর ডেম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তাঁর আরেক ভাই নবম শ্রেণির ছাত্র। তাঁদের বাড়ি ত্রিশাল উপজেলার ধলা গ্রামে। আফজাল খান রিপন ছেলেদের পড়াশোনার জন্যই ময়মনসিংহ শহরে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার।

আফজাল খান জানান, গত শুক্রবার দুপুর ২টা ১৩ মিনিটে একটি নম্বর থেকে তাঁকে ফোন করে বলা হয়, ‌‘আপনার ছেলেকে চান?’ উত্তরে আফজাল বলেন, ‘হ্যাঁ, আমার ছেলেকে চাই।’

পরে আফজালকে বলা হয়, ‘তাহলে বিকাশ নম্বর দিচ্ছি, সে নম্বরে দেড় লাখ টাকা পাঠান। আপনার ছেলে ভালো আছে। টাকা পেলেই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।’

এরপর সাফায়াতের বাবাকে চারটি বিকাশ নম্বর দেওয়া হয়। পরে ওই চারটি নম্বরে দেড় লাখ টাকা পাঠান আফজাল খান। টাকা পাঠানোর পর থেকেই ওই ফোনগুলো বন্ধ পাওয়া যায় বলে জানান আফজাল খান।

গতকাল শনিবার দুপুরে এ ব্যাপারে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ কামাল আকন্দকে জানান আফজাল খান। যেসব নম্বর থেকে ফোন দেওয়া হয়েছিল, ওই নম্বরগুলোও পুলিশকে জানান আফজাল।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, ‘নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা ডিবি অফিসে এসে জানিয়েছেন, একটি চক্র তাঁর কাছ থেকে বিকাশে টাকা নিয়েছে। আমরা তা পরীক্ষা করে দেখছি। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে। এ ছাড়া বিকাশে টাকা নেওয়া চক্রের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছি আমরা।’

গত ২৫ জুন সকালে ময়মনসিংহ নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী সাফায়াত আল হোসাইন তাঁর কলেজে যান। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিনি কলেজ ক্যাম্পাসে ছিলেন। এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 বিকাশ