banglanewspaper

জাহিদ হাসান, বাকৃবি প্রতিনিধি: প্রায় দেড় কেজি লৌহ জাতীয় পদার্থ কোনো প্রাণী খেয়ে ফেললে পাকস্থলিতে পরিপাকে বিঘ ঘটে প্রাণিটির মৃত্যুমুখে পতিত হওয়ার কথা। আর সেটা যদি হয় অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো পাখির ক্ষেত্রে, সেক্ষেত্রে বাঁচার সম্ভাবনা হয় একেবারেই ক্ষীণ।

কিন্তু পাকস্থলিতে সফল অস্ত্রপচারের মাধ্যমে এমনই এক উটপাখিকে নতুন জীবন দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের চিকিৎসকগণ।

জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে নেত্রকোনার চিড়িয়াখানা থেকে আট মাস বয়সি একটি উটপাখিকে চিকিৎসার জন্য আনা হয় বাকৃবির ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালে। পাখিটির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানান পাখিটি কিছু লৌহ জাতীয় পদার্থ খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। 

এসময় ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পরিচালক এবং সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ রফিকুল আলম পরীক্ষা করে পাখিটির পাকস্থলিতে অখাদ্য বস্তুর উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত হন। এমতাবস্থায় ভেন্ট্রিকুলোস্টমি অপারেশনের মাধ্যমে বস্তুগুলোকে পাকস্থলি থেকে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অপারেশন টিমে প্রফেসর ড. মোঃ রফিকুল আলম এর সাথে অংশগ্রহন করেন একই বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মাহমুদুল আলম। পাখিটিকে সম্পুর্ণরুপে অজ্ঞান করে প্রায় আড়াই ঘন্টা ব্যাপী ভেন্ট্রিকুলোস্টমি অপারেশনের মাধ্যমে পাকস্থলি থেকে বস্তুগুলোকে সফলভাবে অপসারণ করা হয়।

অপসারিত বস্তুগলোর মধ্যে ছিল বিভিন্ন আকারের তার কাটা (৮ইঞ্চি কাটা ৮টি ও ১ইঞ্চি কাটা ৩৩টি), ১টি চা চামুচ, ১টি ১০মিলি প্লাস্টিক সিরিঞ্জ, ১টি প্লাস্টিক পেনিয়াম, ২টাকা ও ৫টাকার কয়েন, ১২টি টিনের চাকতি, ৫টি ৪ইঞ্চি স্ক্রু, বিভিন্ন আকৃতির প্লাস্টিক ও কাচের টুকরো, চিপস-চকলেটের প্যাকেটের খন্ড এবং পাথর ও ইটের ছোট ছোট টুকরো যেগুলোর সামগ্রিক ওজন প্রায় ১.৫কেজি। অস্ত্রপচার পরবর্তী পাখিটি সম্পুর্ণভাবে সুস্থ হয়ে উঠলে তাকে আগের জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তদারকির অবহেলায় প্রায় ২মাস পর আবারো একই ধরনের ঘটনা ঘটে। পাখিটি আবারো কিছু লৌহ ও প্লাস্টিক বস্তু খেয়ে ফেলে। পুনরায় পাখিটিকে চিকিৎসার জন্য ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

এবারও প্রফেসর ড. মোঃ রফিকুল আলম পাখিটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে এর পাকস্থলিতে অখাদ্য বস্তু রয়েছে এবং অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নেন। অস্ত্রপচার টিমে প্রফেসর ড. মোঃ রফিকুল আলম এর সাথে আগের মতোই অংশ গ্রহনকরেন প্রফেসর ড. মোঃ মাহমুদুল আলম। এবার আরো যোগ দেন সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের শিক্ষক ড. রুখসানা আমিন রুনা ও ডাঃ মোহাম্মদ রাগীব মুনীফ।

দীর্ঘসময় অস্ত্রপচারের মাধ্যমে পাকস্থলি থেকে পুর্বের ন্যায় বিভিন্ন ধরনের লৌহ, কাঁচ ও প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য অপসারণে সফল হন চিকিৎসকগণ। অস্ত্রপচার পরবর্তী পাখিটিকে ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়েছে।

ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ রফিকুল আলম বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় একই অস্ত্রপচারে পাখিটির জীবনের ঝুকি ছিলো আগের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু পাখিটিকে বাঁচানোর অন্য কোন উপায় না থাকায় আমরা অস্ত্রপচারের সিদ্ধান্ত নিই। পাখিটি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ আছে।’

ট্যাগ: bdnewshour24 উটপাখি