banglanewspaper

সবজির খোসা

রান্নাঘরে প্রতিদিন আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়া হয় সবজির খোসা। এই সবজির খোসা হতে পারে কমপোস্ট সার। বেশি কিছু করতে হবে না। বারান্দায় টবে খোসাগুলো মাটিচাপা দিয়ে পানি ঢেলে রাখলেই হবে। মাটির সঙ্গে মিশে গেলেই ব্যবহার করতে পারবেন গাছে। কিংবা গাছের গোড়ায় সরাসরি সবজির খোসাগুলো দিয়ে রাখুন। তবে এতে পোকা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সবজির খোসা ফেলে না দিয়ে তৈরি করতে পারেন মজার সব নতুন রেসিপি। স্বাদ ও পুষ্টিগুণ দুটোই মিলবে। যেমন মিষ্টি কুমড়া, লাউ, কাঁচ কলা, ঝিঙে ও পটোলের খোসা থেকেই তৈরি করতে পারেন মজার ভর্তা। শসার খোসায় আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। এতে ক্যালোরি প্রায় নেই বললেই চলে। তাই এটি ওজন এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। শসার খোসায় আরো আছে বিটাক্যারোটিন, যা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ক্যান্সার প্রতিরোধক। তাই খোসাসহ শসা খান। একই পরামর্শ গাজরের ক্ষেত্রেও। কারণ এটি চোখ, ত্বক ও কোলনের সুরক্ষা দেয়।

পেঁয়াজের খোসাকে সাধারণত আবর্জনা হিসেবেই গণ্য করা হয়। কিন্তু এরও আছে বেশ কিছু উপকারী দিক। পেঁয়াজের খোসা রঞ্জনবিশেষ, যা এক ধরনের ভেজিটেবল ডাই। এটি সিদ্ধ করলে লাল ও হলুদ রং পাওয়া যায়। চুল রং করতেও ব্যবহার করতে পারেন পেঁয়াজের খোসা। পাকা চুলে এটি ব্লেন্ড করে লাগালে সোনালি রং পাবেন। এটি চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। পেঁয়াজের খোসা পায়ের পেশির ব্যথায় উপকারী পথ্য। পেঁয়াজের খোসা পানিতে ১৫-২০ মিনিট সিদ্ধ করে চার-পাঁচ দিন পান করলেই উপকার পাবেন। আর সার হিসেবে তো ব্যবহার করতে পারবেনই।

রান্নার সময় আলুর খোসা ফেলে দিচ্ছেন; কিন্তু আলুর চেয়ে আলুর খোসায় ১৭ গুণ বেশি আয়রন থাকে। আরো আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন কে-বি ও সি, কপার, আয়রন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। তাই আলু ধুয়ে রান্না করুন, তাকে তার খোসার সঙ্গেই থাকতে দিন।

ফলের খোসা

পিছলা খাওয়ার জন্য কলার খোসার বদনাম থাকলেও এর উপকারিতা সম্পর্কে জানেন তো? কলার খোসার ভেতরের অংশ দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁত হবে ধবধবে সাদা। মুখের দাগ, দাঁদের দাগ ও ব্রণ দূর করতে খোসা উপকারী। এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বকের বলিরেখা দূরে রাখে। খোসপাঁচড়া, চুলকানির সমস্যায় ব্যবহার করতে পারেন কলার খোসা। গয়না, কাপড় থেকে শুরু করে জুতা পর্যন্ত পরিষ্কারে কার্যকরী কলার খোসা।

আনারের খোসা পেস্ট করে মেছতা, ব্রণ ও যেকোনো ফুসকুড়ির ওপর লাগিয়ে রাখুন, সেরে যাবে। হৃিপণ্ডের জন্যও উপকারী। ঠাণ্ডায় গলার খুসখুস সমস্যা থেকেও দেবে মুক্তি আনারের খোসা সিদ্ধ পানি। এটি হাড় ও দাঁত মজবুত করে।

তরমুজের খোসার সাদা অংশ ওজন কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ত্বক পরিষ্কারেও এর জুড়ি নেই। এর আরো একটা উপকার হলো, ত্বকের ফ্রি রেডিক্যালকে নিউট্রিলাইজ করে দেয়, ফলে ত্বক ভালো থাকে। আপেলের খোসায় ফ্লাভোনোডিস আছে, যা ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া আপেলের খোসায় উর্সোলিক এসিড দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে।

চা পাতি

ফেলনা চায়ের পাতি হতে পারে উপকারী জিনিস। ব্যবহৃত টি ব্যাগ ফেলে না দিয়ে জমিয়ে রাখুন। এটি জুতার মধ্যে রেখে দিলে জুতার দুর্গন্ধ দূর হবে। কার্পেটের নিচে কিংবা ফ্রিজে রেখে দিলেও একই সুবিধা পাবেন। পোকায় কামড়ালে সেখানে টি ব্যাগ ভিজিয়ে ধরে রাখলে আরাম পাবেন। কারণ এতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান। গাছের গোড়ায় সরাসরি ব্যবহার করতে পারেন চায়ের পাতি। এটি সার হিসেবে কাজ করে। থালা-বাসনের ময়লা দাগ তুলতে পারেন ব্যবহৃত চা পাতি দিয়ে। সব থালা-বাসন পানিতে ভিজিয়ে সেখানে কিছুটা চা পাতা ভিজিয়ে সারা রাত রেখে দিন। পরের দিন সকালে দেখবেন, সহজেই তেল-চর্বি পরিষ্কার করে ফেলতে পারছেন।

ডিমের খোসা

ডিমের খোসার আছে বহুবিধ ব্যবহার। তাই প্রথম পরামর্শ ডিমের খোসা ফেলে না দিয়ে একটি পাত্রে ধুয়ে, শুকিয়ে সংরক্ষণ করুন। এটি মোটেও দুর্গন্ধ ছড়াবে না।

অ্যাপেল সিডার ভিনেগারে ডিমের খোসা ডুবিয়ে রাখুন, এটি কয়েক দিনের মধ্যেই মিশে যাবে। এই দ্রবণ ত্বকের ব্রণ ও চুলকানির সমস্যায় কাজে দেবে। ডিমের খোসা সিদ্ধ করে, শুকিয়ে ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে নিন। এই মিশ্রণ নানা কাজে আসবে। যেকোনো খাবারেই ব্যবহার করতে পারেন এই মিশ্রণ।

বাড়িতে পশুপাখি থাকলে এটি তাদের খাওয়াতে পারেন। এতে পাখির ডিম শক্ত হবে। এই গুঁড়ার সঙ্গে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে মুখে মাখুন, শুকিয়ে যাওয়ার পর ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বক উজ্জ্বল করবে।

আর কিছুই করার ধৈর্য না থাকলে অন্তত টবে ফেলে রাখুন। কারণ এটি ক্যালসিয়াম কার্বোনেটে ভরপুর, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করবে।

ট্যাগ: bdnewshour24 কলা