banglanewspaper

নারী সদস্য সংগ্রহে নতুন কৌশল অবলম্বন করছে জঙ্গিরা। প্রথমে টার্গেট নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। চট্টগ্রামের একটি কলেজে বিবিএ অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী সাফিয়া আক্তার তানজী। ফেসবুকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে পরিচয় হয় বরিশালের বাসিন্দা সহিফুল ওরফে সাইফের সঙ্গে। এরপর পরিচয় রূপ নেয় প্রণয়ে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সাফিয়াকে চট্টগ্রাম থেকে বরিশালে ডেকে পাঠান সাইফ। আসলে বিয়ের প্রলোভনে ডেকে পাঠানোর প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামে অন্তর্ভুক্তি করা।

সোমবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাতে বরিশালের একটি মাদরাসায় অভিযান চালিয়ে সাফিয়াকেসহ জান্নাতুল নাঈমা (২২) নামে এক নারী জঙ্গিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-২। পরে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকালে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে আফজাল হোসেনকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদী বই ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলাবর (৯ জুলাই) কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘দুই মাস আগে চট্টগ্রামের তরুণী সাফিয়া আক্তার তানজীর সঙ্গে ফেসবুকের একটি গ্রুপে কয়েকজন মেয়ের পরিচয় হয়, যাদের একজন নাঈমা। এই নাঈমার মাধ্যমে তানজীর পরিচয় হয় বরিশালের একটি স্কুলের শিক্ষকের সঙ্গে। তার নাম সহিফুল ওরফে সাইফ। এই সাইফের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিভিন্নভাবে তানজীকে উৎসাহিত করে নাঈমা। তানজীও সেই ফাঁদে পা দেয়। একপর্যায়ে ২৬ জুন সাইফকে বিয়ে করার জন্য নাঈমার সঙ্গে বাড়ি ছাড়ে তানজী।’

এমরানুল হাসান বলেন, ‘বাড়ি ছেড়ে বরিশালে পৌঁছানোর পর তানজীকে নাম পরিচয় গোপন করে নাঈমার বোন হিসেবে একটি মাদরাসায় ভর্তি করিয়ে দেয় সাইফ। তানজীর বাবা-মায়ের নামের জায়গায় বসানো হয় নাঈমার বাবা-মায়ের নাম। এরইমধ্যে তানজীর সঙ্গে সাইফের বিয়েও হয়। এই সময়ের মধ্যে তানজীকে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্নভাবে প্ররোচনা চালায় সাইফ ও নাঈমা।’

এদিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে সাফিয়া আক্তার তানজী (২২) নামে এই তরুণী নিরুদ্দেশ হওয়ার ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-২-এর একটি টিম ৮ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বরিশালের একটি মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে তানজীকে উদ্ধার করে এবং গ্রেফতার করা হয় জান্নাতুল নাঈমাকে। তবে পালিয়ে যায় সাইফ। পরবর্তীতে নাঈমার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মো. আফজাল হোসেনকে (২৩) গ্রেফতার করা হয়। নাঈমা ও আফজাল জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য। তারা সদস্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ছিল।

র‌্যাব-২-এর কোম্পানি কমান্ডার (ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-৩) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, নাঈমা ও আফজাল ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নারীকে আনসার আল ইসলামের সদস্য করেছে। তাদের শনাক্ত করা ও পলাতক সাইফকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

গ্রেফতার নাঈমাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, তিনি চট্রগ্রামের একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তিনি ফেসবুকের একটি গ্রুপে বিভিন্ন নারী সদস্যদের মাধ্যমে প্ররোচিত হয়ে আনসার আল ইসলামে যোগ দেন। জঙ্গি সংগঠনটির মহিলা সদস্য বৃদ্ধিতে দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন নারীকে সংগঠনে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে।

এমরানুল হাসান আরও বলেন, গ্রেফতার আফজাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে আনসার আল ইসলামের সঙ্গে জড়িত। বর্তমানে রাজধানী ঢাকার নিকটস্থ একটি এলাকার স্থানীয় সংগঠক। নাঈমা সংগঠনের নির্দেশনা অনুসারে মহিলা সদস্যদের দলে অন্তর্ভূক্তিসহ নারী সদস্যদের দিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলো।
 

ট্যাগ: bdnewshour24 ফেসবুক জঙ্গি