banglanewspaper

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের সহযোগিতাকারী সংসদ সদস্য ও নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যেসব নেতা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী হয়ে দল মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়েছেন তাদের দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।  এ সংক্রান্ত চিঠি শিগগিরই কেন্দ্রীয় দফতর থেকে ওইসব প্রার্থীর কাছে ডাকযোগে পাঠানো হবে।

পাশাপাশি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সহযোগিতার অভিযোগে স্থানীয় এমপি ও দলীয় নেতাদেরও কারণ দর্শাতে চিঠি দেবে আওয়ামী লীগ। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জবাব চেয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার এ চিঠি যাবে। জবাব পেলে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড তা যাচাই-বাছাই করে দলীয় সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।

আওয়ামী ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলিম হানিফ। শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকেলে গণভবনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়। সূচনা বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের সভা শুরু হয়।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশে আমরা সরকার গঠন করে যে জায়গাটাতে নিয়ে আসতে পেরেছি সেখানে মূল শক্তিটাই ছিল আমাদের দেশের জনগণ ও তাদের সমর্থন। যে কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পেরেছে। তার জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে যেমন শক্তিশালী করে জনমত সৃষ্টি করা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আমাদের একটা লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি, কিন্তু উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যে স্বীকৃতি পেয়েছি সেটাকে আমাদের ধরে রাখা আর এখানে রাজনৈতিক শক্তিটা খুব বেশি প্রয়োজন, সংগঠন প্রয়োজন, জনগণের সমর্থন প্রয়োজন। আমি মনে করি, ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে আসার পর এ পর্যন্ত যেভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং আজকে বাংলাদেশে আমরা সরকার গঠন করে যে জায়গাটাতে নিয়ে আসতে পেরেছি সেখানে মূল শক্তিটাই ছিল আমাদের দেশের জনগণ ও তাদের সমর্থন এবং অবশ্যই মহান আল্লাহর একটা রহমত ছিল।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি আরও বলেন, ‘আজকে যে কারণে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পেরেছে। সে জন্য আমি মনে করি যে, একদিকে যেমন আমাদের সংগঠন দরকার শক্তিশালী করে গড়ে তোলা। পাশাপাশি আমরা যে জায়গাতে এসেছি, রাজনৈতিক দল হিসাবে আমাদের নিজেদের চিন্তাভাবনা ছিল, পরিকল্পনা ছিল; সরকারে আসলে কী করব সব কিছু আমাদের একটা তৈরি করা ছিল বলেই কিন্তু আমরা সরকারে আসার পর পরে কাজগুলো করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা যেখানে এসেছি সেখান থেকে দেশকে আগামী দিনে কোথায় নিয়ে যাব? কতটুকু করব, সে পরিকল্পনাও আমাদের আছে। সেটা আমরা এরইমধ্যে ঘোষণা দিয়েছি। সেই প্রস্তুটিটাও আমাদের নিতে হবে। সেই পথগুলো আমাদেরকে ধাপে ধাপে অতিক্রম করতে হবে। তার জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে যেমন শক্তিশালী করা, জনমত সৃষ্টি করা পাশাপাশি আমাদের চিন্তা চেতনাগুলোকে সমন্বিত করে আমরা প্রতি পদক্ষেপ যেন সুষ্ঠুভাবে করে এগিয়ে যেতে পারি। যেন আমাদের চলার পথে যত বাধাই আসুক অতিক্রম করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’

বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচ টি ইমাম, সভাপতিমন্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া চৌধুরী, পীযূষ ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আমিরুল আলম মিলন, ইকবাল হোসেন অপু, এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার, মারুফা আক্তার পপিসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ: bdnewshour24 আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্র্‌শেখ হাসিনা